ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

আগরতলা

আগরতলায় শুরু প্রথম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১৩৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
আগরতলায় শুরু প্রথম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব

আগরতলা (ত্রিপুরা): ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় শুরু হয়েছে প্রথম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ উৎসব শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ত্রিপুরা রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী প্রণজিত সিংহরায়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল করিম, বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দিন আহমেদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, সাদিক সাইমন, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, অপর্ণা ঘোষ, আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের সহকারী হাইকমিশনার কিরীটি চাকমা প্রমুখ।

 

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধের তীর্থভূমি হচ্ছে ত্রিপুরা। সেই সময় বাংলাদেশের মানুষের জন্য ত্রিপুরাবাসী শুধু বাড়ির দুয়ারই খুলে দেয়নি, মনের দুয়ারও খুলে দিয়েছিল।  

তিনি আরও বলেন, সেই সময় ভারতের সহযোগিতা না পেলে বাংলাদেশ এতো তাড়াতাড়ি মুক্ত হতো না। ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে একি নদী বয়ে চলছে। একি বাতাস গায়ে নিয়ে, একি পাখির ডাক শুনে আমরা সবাই বড় হচ্ছি। রাজনৈতিক বিভাজন মনের এই বিভাজনকে দূর করতে পারবে না।

চলচ্চিত্র মানুষের দুই দেশের মানুষের মধ্যকার এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া প্রথমবারের মতো আগরতলায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ায় ত্রিপুরা সরকারের প্রতি ধন্যবাদজ্ঞাপন করে হাছান মাহমুদ।

ত্রিপুরা রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী প্রণজিত সিংহরায় বলেন, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। এই দুই জায়গার খাদ্য, ভাষা, সংস্কৃতি সব একই। আন্তর্জাতিক নিয়মের কারণে এই সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব রয়েছে। তবে মনের দিক থেকে আমরা এক।  

তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্র উৎসব আমাদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। যখন ভারতে স্যাটেলাইট টেলিভিশনের এত বাড়বাড়ন্ত ছিল না, তখন ত্রিপুরা রাজ্যের মানুষ বাংলাদেশের টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখার জন্য তাকিয়ে থাকতো। এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত শুনলে অন্য জায়গায় সঙ্গীত বলে মনে হয় না।  

‘ত্রিপুরা রাজ্যেও একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করা হয়। সেসময় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি গাওয়া হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের মৈত্রীর সম্পর্ক ছিল, আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে। ’

বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র দেখিয়ে চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা করা হয়। তারপর প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘গেরিলা’।  

তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজক আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
এসসিএন/এসএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।