ঢাকা, বুধবার, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১, ২৪ জুলাই ২০২৪, ১৭ মহররম ১৪৪৬

আগরতলা

কুমিল্লা সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা প্রসঙ্গে যা বলল বিএসএফ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮১৭ ঘণ্টা, জুন ৯, ২০২৪
কুমিল্লা সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা প্রসঙ্গে যা বলল বিএসএফ

আগরতলা: ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার কলমচৌড়া থানাধীন আদমপুরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বাহিনীর দাবি, ‘আত্মরক্ষার স্বার্থে’ বাংলাদেশিকে যুবককে হত্যা করতে হয়েছে।

রোববার (৯ জুন) সকাল ৮টায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমুল ইউনিয়নের জামতলা এলাকার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন বাকশীমুল ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম চারু মিয়া (মৃত)।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জামতলা এলাকায় চিনি চোরাচালানের সময় পাচারকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বিএসএফ। এ সময় আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়। বিএসএফ বলছে, চোরাচালানের সময় কারবারিদের হাতে অস্ত্র ছিল। বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তের দুই অংশে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের তরফ থেকে ‘আনোয়ার হোসেনকে হত্যা আত্মরক্ষার্থে’ দাবি করে বিএসএফ এক প্রেস রিলিজে বলেছে, ৯ জুন স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটা নাগাদ কলমচৌড়া বিওপির অন্তর্গত সীমান্ত এলাকায় টহলরত বিএসএফ জওয়ানরা কাঁটাতারের বেড়ার দুই পাশে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত আন্তর্জাতিক চোরাকারবারিদের একটি বড় দলকে লক্ষ্য করে। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে চোরাকারবারিরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং জওয়ানের ব্যক্তিগত অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে ঘেরাও করার চেষ্টা করে।

জীবন ও সরকারি সম্পত্তির জন্য আসন্ন বিপদ অনুভব করে বিএসএফ জওয়ান আত্মরক্ষায় ১ রাউন্ড পিএজি গুলি চালায়। অ-ঘাতক অস্ত্রের ব্যবহার চোরাকারবারিদের আরও ক্ষিপ্ত করে এবং তারা আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড চালায়। বিএসএফ জওয়ানের সঙ্গে চোরাকারবারিদের হাতাহাতি হয়। এ সময় জওয়ান রাজীব কুমার নিজের জীবন ও অস্ত্রের জন্য হুমকি অনুভব করে ইনসাস রাইফেল থেকে এক রাউন্ড গুলি চালাতে বাধ্য হন। এতে বাংলাদেশি এক পাচারকারী সীমান্ত বেড়ার কাছে ও ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ১৫০ গজ অভ্যন্তরে নিহত হন। পরে এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ চিনি, ৪টি ছুরি ও কাঠের তক্তা উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ২ জুন সীমান্তের ওই এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা এক বিএসএফ জওয়ানকে নির্মমভাবে লাঞ্ছিত করেছিল। তাকে বাংলাদেশের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং তার ব্যক্তিগত অস্ত্র (পিএজি) ও রেডিও সেটও ছিনিয়ে নিয়েছিল।  

রোববার সকালের ঘটনার তথ্য পেয়ে বিএসএফ ও ত্রিপুরা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উত্তেজনা প্রশমনে স্থানীয় এলাকার জনগণের সঙ্গেও তারা কথা বলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮১৭ ঘণ্টা, জুন ৯, ২০২৪
এসসিএন/এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।