ঢাকা, শনিবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ মে ২০২২, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩

রাজনীতি

‘উন্নয়নের বুলি শুনিয়ে লাভ নেই, বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০৫৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৩, ২০২২
‘উন্নয়নের বুলি শুনিয়ে লাভ নেই, বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে’

রাজশাহী: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষ ও বিরোধী মতকে গুম করে উন্নয়নের বুলি দিচ্ছে। বিএনপি নেতা ইলিয়াস গুম হয়েছেন, তার খোঁজ নেই।

অসংখ্য বিএনপি কর্মী, ভিন্ন মতের মানুষ গুম হয়েছে, তাদের খোঁজ নেই। সরকার এসব মানুষকে গুম করে মেট্রোরেল দেখায়, ফ্লাইওভার দেখায়, উন্নয়নের বুলি শোনায়। কিন্তু আর লাভ হবে না। কারণ বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। যে কোন সময় এই রাজসিংহাসন লুটিয়ে পড়বে।

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে রাজশাহী জেলা বিএনপির সমাবেশ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সরকার আরেকটি ভোট করতে চায়। যে যে ভোট সূর্যের আলোতে হয় না, রাতের আঁধারে হয়। যে ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে আগের রাতেই ব্যালটে সিল মারা হয়। জনগণ সরকারকে আর এমন প্রহসনের ভোট করতে দেবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবদিক থেকেই ব্যর্থ। তারা এখন জনগণকে তাদের শত্রু মনে করে। কিন্তু মিথ্যা আর কর্তৃত্ববাদী শাসন দিয়ে বেশিদিন টিকে থাকে যাবে না। কারণ সরকার জনগণের সব অধিকার হরণ করেছে।

এ সময় দলের অসুস্থ চেয়ারপারসনের চিকিৎসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আর দাবি নয়, এবার আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানো হবে। আপনারা সবাই প্রস্তুত থাকুন। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে শিগগিরই এই সরকারের পতন ঘটানো হবে।

বুধবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর হাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়া কেন্দ্রীয় সদস্য নিপুন রায়, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ জেলা এবং উপজেলার নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রাখন।

এদিকে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশের শুরুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনু, রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ অতিথিরা মঞ্চে উঠলে অভিমান ও দ্বন্দ্বের জেরে মঞ্চে না উঠে সমর্থকদের নিয়ে মাঠে বসে থাকেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

পরে তাদের মঞ্চে আসতে বলা হলেও তারা মাঠেই অবস্থান নেন। এতে বিব্রত হয়ে মঞ্চের সামনে বসে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা হট্টগোল ও হাতাহাতি শুরু করে। দফায় দফায় চলে হাতাহাতি। তাদের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় পড়ে গিয়ে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

অপরদিকে এ সময় সমাবেশ উপলক্ষে মাঠে উপস্থিত থাকা বিপুল সংখ্যক পুলিশ কয়ক দফা বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের ধাওয়া দেয়।

পরে দলের সিনিয়র নেতারা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে আবারও সমাবেশ শুরু হয়।

বাংলাদেশ সময়: ০০৫৫ ঘণ্টা, ১৩ জানুয়ারি, ২০২২
এসএস/এমএমজেড

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa