ঢাকা, বুধবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ মে ২০২২, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

‘বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনাকারীরা মনগড়া কথা বলছেন’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৩২ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০২২
‘বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনাকারীরা মনগড়া কথা বলছেন’

বরিশাল: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি বলেছেন, যারা বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করছে, তারা মনগড়া কথা বলছে। বাংলাদেশ কখনোই শ্রীলংকা হতে পারে না।

 

শনিবার (১৪ মে) দুপুরে বরিশাল নগরীর বান্দরোডস্থ শিল্পকলা একাডেমির অডিটরিয়ামে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কমিউনিটি পুলিশিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা এক নয়। শ্রীলঙ্কার বর্তমান ফরেন রিজার্ভ দুই বিলিয়ন ডলার। আর বাংলাদেশের ৪২ বিলিয়ন ডলার। কোথায় দুই আর কোথায় ৪২। শ্রীলঙ্কা সমুদ্রের তীরের একটি দেশ, তাদের মেক্সিমাম আয় পর্যটন থেকে। করোনাকালে সবকিছু মুখ থুবরে পড়ার পর তার পর্যটনকে আকর্ষনীয় করে তুলতে যে প্রচুর ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে পারছে না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শ্রীলংকাকেও ঋণ দিয়েছি।  

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে এসে পৌঁছেছে। অথচ এই বাংলাদেশকে একসময় বলা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০৩০ সালের ভেতরে আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হব এবং চরম দরিদ্রতা থেকে দেশকে মুক্ত করা হবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধশালী দেশের কাতারে আমরা দাঁড়াবো।  
 
কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেন, অতীতের থেকে আমাদের ফরেন কারেন্সি বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রীলঙ্কায় এটা না থাকায় তার মুখ থুবরে পরেছে, তবে আমাদের বিশ্বাস তারাও ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু যে নিন্দুকেরা মিথ্যে কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তারা ভূল ধারনা দিচ্ছে। শ্রীলঙ্কা ফরেন কারেন্সি উপার্জন করতে পারে না, আমরা গার্মেন্টস, আইটি, মানব সম্পদ থেকে আয় করছি। আর আমাদের দেশে হওয়া মেগা প্রকল্পগুলো প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করবে।
 
কমিউনিটি পুলিশিং প্রসঙ্গে কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেন, আঠারোশত শতাব্দিতে কমিউনিটি পুলিশিং শুরু হয়েছিলো ইংল্যান্ডে। পরবর্তীকালে বিভিন্ন দেশও এটা শুরু করেছিলো এবং বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উদযাপন করে আসছি। যারা সন্ত্রাস দমনসহ আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত থাকেন তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মাঝে একটা বন্ধন সৃষ্টি করেছে কমিউনিটি পুলিশিং। পুলিশের সদস্যদের যে কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে, সেই কাজটি সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করতে হলে কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্যদের সহযোগীতা অবশ্যই প্রয়োজন।
 
তিনি বলেন, একটি এলাকার লোকজন মিলেই একটি কমিউনিটি। একটি কমিউনিটির লোকজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একত্রিত হয়ে ওই এলাকার সন্ত্রাস দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারে। আমরা বক্তৃতায়, কাগজে-কলমে অনেক কথা বলি কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে সেটাকে ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারি না।
 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের কোন বিভাগ বা জেলায় কমিউনিটি পুলিশিং কতটা ভালো করছে তার প্রতিযোগিতা (কম্পিটিশন) থাকা উচিত, তাহলে এটার মান আরো উন্নয়ন হবে। কমিউনিটি পুলিশিং এ সদস্যদের এমনভাবে নেওয়া উচিত যেখানে কোনো রাজনীতি বা স্বার্থ কাজ করা উচিত নয়। যারা পরিষ্কার চিন্তার মানুষ, যাদের এলাকার একটা ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত, এলাকার মানুষ পছন্দ করে তাদের এখানে আনা উচিত। তাহলে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থায় বরিশালে আমরা যে পর্যায়ে গিয়েছি, তার থেকে আরো ভালো করতে পারবো। এতে পুলিশের কাজের মাত্রাও কমে আসবে। বরিশালে আমরা সন্ত্রাস, মাদক থেকে দূরে থাকতে পারবো।
  
তিনি বলেন, নারীদের ওপর নিপীরন বন্ধে, শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়তে, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যদের ভূমিকা রাখতে হবে। আর আপনারা যদি আপনাদের ভূমিকা সঠিকভাবে রাখতে পারেন তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্যবস্তুতে পৌছাতে আমাদের ২০৪১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।
 
বাংলাদেশ সময়:১৭৩২ ঘন্টা, মে ১৪, ২০২২
 এমএস/এসএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa