ঢাকা, বুধবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ মে ২০২২, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

ভোটার হালনাগাদ: তথ্য ভুল হলে থাকছে যাচাইয়ের সুযোগ

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৪৭ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০২২
ভোটার হালনাগাদ: তথ্য ভুল হলে থাকছে যাচাইয়ের সুযোগ ফাইল ছবি

ঢাকা: এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় পূরণ করা তথ্যের কপি সরবরাহ করা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে। নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো এ কপি পাবেন নাগরিকরা।

এতে নিজের নাম-জন্মতারিখ ঠিক আছে কিনা যাচাই করা যাবে। এরপর স্বাক্ষর করে দিলে সে অনুযায়ী জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) প্রিন্ট হবে। ফলে পরবর্তীতে ‘ভুল হয়েছে’ বলার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটারদের তথ্যের ভিত্তিতেই এনআইডি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কোনো ভুল হলে তা চলে আসে এনআইডিতেও। অতীতে হালনাগাদের পর অনেকেই অভিযোগ করতেন, তারা সঠিক তথ্য দিলেও ইসির কর্মীরা করণীক ভুল করেন। কিন্তু এবার সে সুযোগ থাকছে না। যিনি এনআইডির জন্য তথ্য দেবেন, তিনি নিজেই নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে নিজের দেওয়া তথ্য যাচাই করার আরেকটি সুযোগ পাবেন।

তথ্য যাচাই করবেন কীভাবে
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটার হালনাগাদের সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য আনার পর নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যখন ছবি তুলবেন তখন তাদের একটি ফরম দেওয়া হবে। নাম-ঠিকানাসহ যেসকল প্রয়োজনীয় তথ্য থাকা দরকার ফরমে দেয় সসব তথ্য সঠিক কিনা তা দেখা যাবে। কোনো ভুল থাকলে ফরমে সেটি উল্লেখ করে সংশোধন করা যাবে। এরপর স্বাক্ষর করে দিলে সে অনুযায়ী এনআইডি আসবে।

ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার সহকারি সচিব মো. মোশাররফ হোসেন এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সকল উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে- নিবন্ধন কেন্দ্রে ডাটা এন্ট্রির পর আবশ্যকীয় ফিল্ডসমূহের যথা: নাম, পিতা/মাতা/স্বামী/স্ত্রীর নাম ও জন্ম তারিখ ইত্যাদি ডাটার একটি প্রিন্ট কপি ভােটারকে প্রুফ করে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা থাকবে। টাইপিং ভুল কমাতে এবারই প্রথম বারের মতো ভােটারকে একটি প্রিন্ট কপি দেখাতে হবে এবং তাতে কোনো ভুল থাকলে তা লিখে নিয়ে ভােটারের স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে। এবং নিবন্ধন ফরমের সঙ্গে শিক্ষা সনদ ও জন্ম সনদের ন্যায় এটিও ডাটাবেজে স্ক্যান করে সংযুক্ত করে রাখতে হবে। এজন্য প্রতিটি রেজিস্ট্রেশন সেন্টারে একটি করে ডকুমেন্ট প্রিন্টারও থাকবে।

এছাড়া স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় যেভাবে ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও আইরিশ নেওয়া হয়, এবারের হালনাগাদে একইভাবে নিবন্ধন কেন্দ্রে বায়ােমেট্রিক হিসেবে ছবি ও স্বাক্ষরের পাশাপাশি ভােটারের ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও আইরিশ নেওয়া হবে এবং তা নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে ইসির সার্ভারে। আগামী ২০ মে থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করবে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৬৪ জেলার ১৪০ উপজেলায় আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে। অন্য উপজেলাগুলোয় পরবর্তীতে তিন ধাপে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।

এ কার্যক্রমে ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে জন্মগ্রহণকারীদের তথ্য সংগ্রহ করবে ইসি। অর্থাৎ ১৬ বছর বয়সীদের তথ্যও নেওয়া হবে। তারা পরবর্তীতে বয়স ১৮ বছর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হবেন। এ কর্মসূচিতে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম কর্তন এবং আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরের আবেদনও নেবে ইসি।

যে কাগজ-পত্র জমা লাগবে
নিবন্ধনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূরণকৃত নিবন্ধন ফরম-২’র সাথে অনলাইন জন্ম সনদ (প্রযােজ্য ক্ষেত্রে) অথবা এসএসসি বা সমমান পরীক্ষা বা যেকোনো পাবলিক পরীক্ষা পাশের সনদের ফটোকপি নেওয়া হবে। এছাড়াও অন্যান্য কাগজপত্র যেমন- নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র/বাড়ি ভাড়া/হোল্ডিং ট্যাক্স/ যেকোনো ইউটিলিটি বিল পরিশোধের রসিদের কপি জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯’র ধারা ৩(কক) এ নামের সংজ্ঞায় শিক্ষা সনদসমূহের পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’র অধীন নিবন্ধিত নাম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য হবে। বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১১ কোটি ৩২ লাখ ভোটারের তথ্য রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৫০ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০২২
ইইউডি/এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa