ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ বৈশাখ ১৪৩১, ০৯ মে ২০২৪, ০০ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

সেই বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি কৃষকদের

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৫৯ ঘণ্টা, মার্চ ১৪, ২০২২
সেই বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি কৃষকদের

লালমনিরহাট: বোরো চাষাবাদের মধ্যবর্তী সময় হঠাৎ সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ধান ক্ষেত বাঁচাতে পুনঃসংযোগের দাবিতে ক্ষেতেই মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী চাষিরা।

সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবধা গ্রামের বোরো চাষিরা ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন।

ভুক্তভোগী চাষিরা জানান, গত ২০১৮ সালে সেচ সংকট দূর করতে স্থানীয় কৃষক মৃত আসমত আলীর ছেলে মোক্তার আলী পল্লীবিদ্যুৎ অফিস আদিতমারীতে যোগাযোগ করে সেচ পাম্পের অনুমোদন নেন।

নিজের টাকায় ট্রান্সফরমার ক্রয় করে সেচ পাম্পের সংযোগ নেন। যার হিসাব নম্বর-০৭/২৬৫/১০১২। চলতি বোরো মৌসুমেও ওই সেচ পাম্পের আওতায় ১১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষাবাদ করেন গ্রামের চাষিরা। ঊর্ধ্বমুখী বাজারে নিজে না খেয়েও বোরো ক্ষেতে সার ও সেচ দেওয়াসহ নিয়মিত পরিচর্যা করছেন কৃষকরা।

গত ৩ মার্চ সেই সেচ পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আদিতমারী সাব জোনাল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী (ডিজিএম) মোস্তফা কামাল। সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণ জানতে চাইলে সেচ পাম্প মালিক মোক্তার আলীকে অফিসে ডাকেন তারা।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ১২ দিন ধরে ৭৬ জন কৃষকের ১১০ বিঘা বোরো ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না চাষিরা। ফলে তাদের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কষ্টে রোপণ করা বোরো ক্ষেত রক্ষায় দ্রুত বিদ্যুতের পুনঃসংযোগের দাবিতে বোরো ক্ষেতের আইলে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী চাষিরা।

কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বাংলানিউজকে বলেন, এ পাম্পটি বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমতিতে ৫ বছর ধরে চলছে। হঠাৎ নতুন ডিজিএম এসে কেটে দিলেন। বোরো আবাদের মধ্যবর্তী সময় সেচ পাম্পের সংযোগ কেটে দেয়ায় ধান গাছ পানির অভাবে মরে যাচ্ছে। বোরো চাষের আগে কাটলে তো আমরা বিকল্প সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতাম। এখন কিভাবে সেচ দিবো। ক্ষেত না বাঁচলে ঋণ পরিশোধ কিভাবে করবো। সংসার কিভাবে চলবে। ধান ক্ষেত বাঁচাতে দ্রুত সংযোগ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

কৃষক আশরাফুল হক বলেন, ধান ক্ষেত নষ্ট হলে না খেয়ে মরতে হবে। যেভাবেই হোক ক্ষেত বাঁচাতে আপাতত সংযোগ দিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সেচ পাম্প মালিক মোক্তার আলী বাংলানিউজকে বলেন, ৫ বছর ধরে সেচ পাম্পটি চলছে। কোনো বিল বকেয়া নেই। হঠাৎ ১২ দিন আগে লাইন কেটে দিয়েছে ডিজিএম। সংযোগ পেতে তাকে চাহিদামত ১০ হাজার টাকাও দিয়েছি। কিন্তু তারপরও পুনঃসংযোগ পাচ্ছি না। মধ্যবয়সী বোরো ক্ষেত পানির অভাবে মরে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগকেও বলেছি কোনো প্রতিকার পাইনি।

>>> ঘুষ দিয়েও মেলেনি বিদ্যুৎ, সেচের অভাবে বোরো ক্ষেত চৌচির

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৫ ঘণ্টা, মার্চ ১৪, ২০২২
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।