ঢাকা, শনিবার, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯
bangla news

পুলিশ সড়কে বাণিজ্য করছে, অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেটের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৪-১৮ ৪:০৬:৫৪ পিএম
বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সেমিনার। ছবি: বাংলানিউজ

বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সেমিনার। ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: ট্রাফিক পুলিশ সড়কে বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) নগরের ষোলশহর এলজিইডি ভবনে বিআরটিএ আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সেমিনারে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক বলেন, প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে অভিযোগ আসছে আমাদের কাছে। গাড়ির সব কাগজ ঠিক থাকার পরেও নো পার্কিং মামলা দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। চুক্তি অনুযায়ী ২ হাজার টাকা নিলেও স্লিপে লিখছে ২০০ টাকা। চালকরাই এসব অভিযোগ করছেন। বিশাল পরিমাণে বাণিজ্য হচ্ছে এখানে। আমি প্রমাণ দিতে পারবো।

তিনি বলেন, যাদের হাতে সড়ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব- তাদের এ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। তারা যদি সেটা না করে, তারা যদি ধান্দায় লিপ্ত থাকে, বাণিজ্যে লিপ্ত থাকে তাহলে সড়কে নিরাপত্তা কখনো আসবে না।

লাইসেন্সবিহীন চালককে গাড়ি দেবেন না

এস এম মনজুরুল হক বলেন, মালিক ভাইদের বলতে চাই- আমরা এটা করে থাকি, ওটা করে থাকি, সেটা করে থাকি, মুখে এসব বললে হবে না। আপনাকে চালকদের বাধ্য করতে হবে। আপনি মালিক, আপনি কার হাতে গাড়ি তুলে দিচ্ছেন, কোন ড্রাইভারকে গাড়ি দিচ্ছেন- তার সঠিক ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কী না- এসব আপনাকে এনসিউর করতে হবে।

তিনি বলেন, এসব এনসিউর না করে দিনপ্রতি আড়াই হাজার, তিন হাজার টাকার জন্য লাইসেন্সবিহীন কারও হাতে গাড়ি তুলে দিলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে আপনাদের। সবকিছু সরকারের উপর তুলে দিলে হবে না।

চসিক কথা রেখেছে, সিডিএ রাখেনি

এস এম মনজুরুল হক বলেন, বিআরটিএ’র দায়িত্ব পাওয়ার পর ব্যক্তিগতভাবে মাননীয় মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করি। তাকে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেব্রা ক্রসিং করে দেওয়ার অনুরোধ জানাই। তিনি কথা রেখেছেন। বিভিন্ন পয়েন্টে জেব্রা ক্রসিং করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি মাননীয় সিডিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের সঙ্গেও দেখা করি। তাকে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্টে ফুটওভার ব্রিজ করে দেওয়ার অনুরোধ জানাই। তিনি বলেছিলেন- এটা সিডিএ’র পরিকল্পনার মধ্যে আছে। শিগগির জিইসি এবং মুরাদপুরে দুটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা যাবে। এসব কথা ছয় মাস আগের। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেটার বাস্তবায়ন আমরা দেখিনি।

‘আমরা সবাই বলছি সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা কেউ এ বিষয়ে কাজ করছি না। সবাই যার যার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত আছি। শুধু বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’ যোগ করেন এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

পথচারীরা কোথায় হাঁটবে?

এস এম মনজুরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম শহরে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় নেই। শতশত ফুটপাত বেদখল হয়ে আছে। তাহলে পথচারীরা কোথায় হাঁটবে? তাদেরকে বাধ্য হয়েই রাস্তায় গাড়ির ভেতর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক পথচারী আছেন জেব্রা ক্রসিং থাকার পরেও সেটি ব্যবহার করছেন না। সমস্ত দোষ শুধু ড্রাইভারকে দিলে হবে না। পথচারীরও দোষ আছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে চালক-মালিক-পথচারী-সরকার সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

শুধু পুলিশকে দায়ী করলে অন্যায় হবে

সেমিনারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষ। আমরা কেউ ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে না। এখন যদি এসব অভিযোগ নিয়ে বিচার বিশ্লেষণে যাই, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি যদি বিশ্লেষণ করি, এবং এখানে যদি শুধু ট্রাফিক পুলিশকে দায়ী করা হয়- আমার মনে হয় এটা অন্যায় হবে।

তিনি বলেন, সেমিনারে বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যেই উঠে এসেছে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু পুলিশ নয়, অনেকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সুতরাং কাউকে দোষারোপ না করে সবাই মিলে কাজ করলেই নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাশহুদুল কবীর, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল, জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অলি আহম্মদ, বিআরটিএর চট্টমেট্রো-২ সার্কেলের সহকারী পরিচালক উসমান সরওয়ার আলম, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক এম ডি শাহ আলম।

এ সময় বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হক মীর, সোহেল রানাসহ বিআরটিএর ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৮, ২০১৯
এমআর/এসি/টিসি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-04-18 16:06:54