ঢাকা, সোমবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

কৃষি

জলাশয়ের অভাবে আর্থিক ক্ষতিতে চুমাচুমির কৃষকরা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০১২ ঘণ্টা, মার্চ ১, ২০২০
জলাশয়ের অভাবে আর্থিক ক্ষতিতে চুমাচুমির কৃষকরা

রাঙামাটি: রাঙামাটির দুর্গম উপজেলার নাম জুরাছড়ি। কাপ্তাই হ্রদ ঘিরে গড়ে ওঠা এ উপজেলাটি উন্নয়নের দিক দিয়ে অন্য উপজেলার চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

এ উপজেলার ১ নম্বর জুরাছড়ি ইউনিয়নের অধীন চুমাচুমি মুখ নামে একটি গ্রাম রয়েছে। গ্রামটির বাসিন্দাদের মূল পেশা হলো কৃষিকাজ।

কৃষিকাজ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রত্যেক বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে গেলে এই এলাকার কৃষকরা চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হয়। যে কারণে তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

জানা যায়, কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে মূলত রাঙামাটির পুরো জেলার চাষাবাদ গড়ে উঠেছে। এসব উৎপাদিত ফসল দিয়ে রাঙামাটির মানুষ তাদের চাহিদা পূরণ করে। হ্রদের পানি শুকিয়ে গেলে হ্রদ পাড়ের কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

গ্রামের কৃষকদের দাবি, গ্রামটির এক পাশে স্থায়ী একটি বাঁধ নির্মাণ করে জলাশয় তৈরি করা। এতে করে সেখান থেকে শুকনো মৌসুমে ফসলে সেচ দেওয়া ও পারিবারিক কাজে জলাশয়ের পানি ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু তাদের দীর্ঘদিনের এ দাবি কর্তৃপক্ষের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

চুমাচুমি মুখ গ্রামের কৃষক বিমল্যা চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা হলো কৃষি। কৃষির ওপর নির্ভর করে আমরা আমাদের জীবিকা নির্বাহ করি। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালায়। কিন্তু প্রতি বছর খরা মৌসুমে আমরা চরম বিপদের সম্মুখীন হয়। কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে গেলে আমরা কোনো ফসল উৎপাদন করতে পারি না। যে কারণে চরম আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের।

গ্রামের কৃষকরা আরও জানায়, ব্যক্তি পর্যায়ে আমার নিজস্ব জায়গায় নিচ খরচে ছোট করে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছি। এ বাঁধটি দিয়ে আমি হ্রদের পানি ধরে রাখি এবং ফসলের কাজে ব্যবহার করি। এছাড়া বাঁধের জলাশয়ের মধ্যে মাছ চাষ এবং হাঁস পালন করে পরিবারের জীবিকা চালায়। কিন্তু আমার মতো সব কৃষকের টাকা নেই। তাই তারা পানি সংকটের কারণে যথাযথ ফসল উৎপাদন করতে পারে না।
জলাশয়ের অভাবে আর্থিক ক্ষতিতে চুমাচুমির কৃষকরা
কৃষক বিমল্যা বাংলানিউজকে জানান, আমাদের গ্রামের সব কৃষকের পক্ষে একটি জোর দাবি, সরকারিভাবে যদি আমাদের গ্রামে বড় প্রকল্পের মাধ্যমে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে জলাশয় তৈরি করা তাহলে এ গ্রামের মানুষের ফসল উৎপাদনে পিছিয়ে পড়তে হবে না। আর্থিক সমস্যা দূর হবে এবং জেলার মানুষদের চাহিদা মিটাতে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

জুরাছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মৃনাল কান্তি চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাধঁটি নির্মাণের মাধ্যমে জলাশয় তৈরি করা হয় তাহলে ওই গ্রামের কৃষকেরা মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবে। হাঁস পালনে করে অভাব মোচন করতে পারবে এবং নিজেদের জমিতে অনায়াসে পানি সংগ্রহ করতে পারবে।

১ নম্বর জুরাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্যানন চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, চুমাচুমি গ্রামের কৃষকরা তাদের সমস্যার কথা আমাকে বলেছে। আমি তাদের এ সমস্যা দূর করার জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।

জুরাছড়ি উপজেলার চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে এলাকার উন্নয়ন করার জন্য। তাই ওই গ্রামের কৃষকদের সমস্যা দূরীকরণে আমাদের অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকেরা যাতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে সেজন্য যা যা করণীয় পর্যায়ক্রমে সবকিছু করে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১০১০ ঘণ্টা, মার্চ ০১, ২০২০
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa