[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ নভেম্বর ২০১৭

bangla news

‘সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে, ইভিএম থাকবে না’

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-১১-১৩ ৭:৫৩:০২ পিএম
নির্বাচন কমিশন এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র লোগো

নির্বাচন কমিশন এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র লোগো

ঢাকা: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করেই ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে সংস্থাটি।

সেনা মোতায়েন ছাড়া সংসদ নির্বাচন নয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার করা এমন দাবির পরদিন এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার।
 
রোববার (১২ নভেম্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে ভোটে নামাতে হবে।
 
সোমবার (১৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এক দল সাংবাদিকের কাছে বলেন, আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় কিভাবে তারা যুক্ত হবে তা সময় নির্ধারণ করে দেবে।
 
‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে আমরা নির্বাচন কমিশনাররা আলোচনা করেছি। সেখানে অন্য কমিশনারদেরও যে অনুভূতি দেখেছি তাতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে। তবে এটা কমিশনে ‘সিদ্ধান্ত’ হয়েছে এমনটা এখনই বলা যাবে না। সময় হলেই কেবল বলা যাবে। কখনোই বলবো না যে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে না।’
 
মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘অতীতে কিভাবে কোন পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন হয়েছে, তা নিয়ে বলতে চাই না। আমি একাদশ সংসদ নির্বাচনের কথা বলছি। সময় হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিই বলে দেবে, কিভাবে সেনা মোতায়েন হবে। বিএনপি বা কোনো দলের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানানো আমাদের লক্ষ্য নয়।’

ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আগে যেসব ইভিএম দিয়ে নির্বাচন হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশ নষ্ট। আমরা সেগুলো অকার্যকর বলে ঘোষণা দিয়েছি। আর অবশিষ্ট যেগুলো আছে, সেগুলো দিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন করবো। বর্তমানে আমাদের যে প্রস্তুতি তা নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়। তবে আমরা এমন কিছু করতে চাই, যার ফলে আগামীতে যারা আসবে তারা যেন এটি ব্যবহার করতে পারে। কেননা, ইভিএমে ভোটগ্রহণের দিকে যেতেই হবে।’
 
মাহবু্ব তালুকদার আরো বলেন, একটা প্রশ্নবিদ্ধ যন্ত্র দিয়ে আমরা ভোটগ্রহণ করতে পারি না। যতক্ষণ পর্যন্ত নিঃসন্দেহ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা জাতীয় নির্বাচনে এই যন্ত্র ব্যবহার করবো না। যন্ত্র যখন মানুষের ভাষায় নয়, নিজের ভাষায় কথা বলবে, কেবল তখনই ভোটগ্রহণে ব্যবহার করা হবে। তাই আগামী নির্বাচনে এটি ব্যবহার করা হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
 
সংবিধান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
 
২০১০ সালে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের ভোটব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করতে ইভিএম সংযোজন করে। কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে এই যন্ত্রের সফলতাও আসে। তবে ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি নির্বাচনের সময় একটি মেশিনে ত্রুটি ধরা পড়ে। যে ত্রুটির কারণ উদ্ধার এবং ক্রটি সারানো আর সম্ভব হয়নি। তখন থেকেই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রয়েছে।
 
তবে দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করলেও সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এই যন্ত্রের মাধ্যমেই ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৯২০ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৩, ২০১৭
ইইউডি/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Loading...
Alexa