ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ সফর ১৪৪২

ট্রাভেলার্স নোটবুক

পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৫০)

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২৫ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০২০
পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৫০)

বাবর আলী। পেশায় একজন ডাক্তার। নেশা ভ্রমণ। তবে শুধু ভ্রমণ করেন না, ভ্রমণ মানে তার কাছে সচেতনতা বৃদ্ধিও। ভালোবাসেন ট্রেকিং, মানুষের সেবা করতে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের এই ডাক্তার হেঁটে ভ্রমণ করেছেন দেশের ৬৪ জেলা। সেটা আবার ৬৪ দিনে। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? সেটা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখেছেন বাংলানিউজের ট্রাভেলার্স নোটবুকে। ৬৪ দিনে থাকবে ৬৪ দিনের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা।

দিন ৫০

কালকিনি (মাদারীপুর)-আঙ্গারিয়া বাজার (শরীয়তপুর)-শিবচর (মাদারীপুর) = ৫৭.৬৮ কিমি

নিবিড় ভাইয়ের চাচার বাসায় দুধ-চিতই খাওয়া দিয়ে শুরু হলো সকালটা। হাঁটা ধরলাম পালরদী নদীর পাড় ঘেঁষেই।

বেশ কুয়াশা এদিকে। সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে বিধায় পায়ের নিচে খোয়া আর মাটি মেশানো রাস্তা। গতকালের মতো আজও সঙ্গী হিসেবে আছেন তসলিম ভাই। উত্তর কৃষ্ণনগর হয়ে চরলক্ষ্মী। একটু বাদেই আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন শারাফাত ভাই, হানিফ ভাই আর ইউসুফ ভাই। শীতে জবুথবু লোকেরা নিজেদের বাড়ির আশপাশেই ঘোরাফেরা করছে। যত এগোচ্ছি কুয়াশা যেন ততই বাড়ছে। ইলেকট্রিক পোলগুলোতে ডুবুরির বিজ্ঞাপন নজর কাড়ছে। এই পেশার লোক মাদারীপুরে প্রচুর।

টিন দিয়ে তৈরি বাড়িতে নানান নকশার কাঠের দরজা-জানালার বাড়ি এ অঞ্চলের ট্রেডমার্ক। দেখতে কি যে ভালো লাগছিল। মূল রাস্তা ছেড়ে শর্টকাটের আশায় মাটির রাস্তা ধরেছি বারকয়েক। একেবারে অরক্ষিত অবস্থায় পেঁয়াজের চাষ খুব পীড়া দিল আমাকে! এ ফসল চাষে নিরাপত্তা জোরদার করা উচিত বলেই ধারণা আমার! কালাইমারা থেকে এগিয়ে মাদ্রা বাজার। গাছের নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় টপাটপ ফোঁটা পড়ছে চুল-দাড়িতে। তালতলা বাজার পেরিয়ে ঢুকে পড়লাম অপেক্ষাকৃত ছোট ও নিরিবিলি রাস্তায়। গ্রামটা বেশ সুন্দর হলেও অনেকগুলো ভাঙা বাড়ি দেখলাম। শারাফাত ভাই জিজ্ঞেস করে জানলেন মারামারির জের ধরেই একে অন্যের বাড়িঘর ভেঙে বা পুড়িয়ে দিয়েছে। একটা-দুটো নয়, সংখ্যায় এমন বাড়ি প্রচুর।

পথচলার সঙ্গীরা।  ছবি: বাংলানিউজ

আরো কিছুদূর গিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর তৈরি আছমত আলী খান সেতুতে। আকারে বেশ লম্বা-চওড়া এই সেতু। আমরা সেতুর উপরে উঠলাম খানিকটা ঘুরে নিচের দিক থেকে। খোয়াজপুর মঠের বাজার পেরিয়ে টেকেরহাটে সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের ক্যাম্পাস। এখান থেকেই আমরা পাঁচজনের দল দু'জনের হয়ে গেলাম। ছোট্ট একটা সেতু পেরিয়ে প্রবেশ করলাম শরীয়তপুর জেলায়। উপজেলার নামও শরীয়তপুর সদর। বেশ প্রশস্ত রাস্তা হলেও গাড়ি নেই খুব একটা। পালং পেরিয়ে কাশীপুর৷ এই রাস্তা খুব সম্ভবত সম্প্রসারণ করা হয়েছে সম্প্রতি। তারই ফলস্বরূপ রাস্তায় গাছ-পালা নেই। দেখা মিলতে লাগল সরিষা ক্ষেতের। যেসব ক্ষেত ফাঁকা সেগুলোও তৈরি করা হচ্ছে সরিষা বোনার জন্য।

কীর্তিনাশা নদীর পাশে আঙ্গারিয়া বাজারের কাছে অপেক্ষা করছিলেন ফরহাদ ভাই আর আর তার বন্ধু আহসান ভাই। চায়ের ফাঁকে খানিক আড্ডা পিটিয়ে আবার পথে চলতেই আমি হয়ে গেলাম একা। তসলিম ভাই ঈশ্বরদী ফিরবেন এখান থেকেই৷ ফিরতি পথে মঠের বাজার এসে সোজা শিবচরমুখী রাস্তায়। এক পাল শূকর মাঠে চরে-বেড়াতে দেখলাম বাবলাতলার কাছে। ডানে মোড় নিয়ে কিছুদূর যেতেই মাথাভাঙ্গা নামক বাজার। একই নামের একটা নদী আছে চুয়াডাঙ্গায়। রাস্তার পাশের ঝোপ-ঝাড়ে অনেক স্বর্ণলতা। খানিকটা অবহেলিতভাবেই পড়ে আছে। স্বনির্ভর বাজার হয়ে আঙুলকাটা বাজার। এদিকের নামগুলো ভয়জাগানিয়া রীতিমতো। মাথাভাঙ্গার পর আঙুলকাটা বাজার।

ট্রেডমার্ক টিনের বাড়ি।  ছবি: বাংলানিউজ

কালীতলা বাজার থেকে খানিকটা এগোতেই রাস্তার দুধারে বেশ ঘনবসতি। আর বসতি মানেই গোবরের খড়ির সারি বাড়ির সামনে। শেরপুর জেলার মতো বাড়ির আঙিনায় কবর দেওয়ার রীতিটা এখানেও আছে। খানিকক্ষণের মধ্যেই মৃধার মোড় হয়ে ছিলারচর৷ সেতু পেরিয়ে দক্ষিণ ক্রোক চর। এখান থেকেই ঢুকে পড়লাম শিবচর উপজেলায়। হাতের বামের রাস্তা ধরতেই বিশাল সব সরিষা ক্ষেত৷ এই রাস্তাটা একেবেঁকে এগিয়েছে একেবারে গ্রামের মধ্য দিয়ে। সন্ধ্যা হওয়ার আগে যতদূর সম্ভব পা চালানোর চেষ্টা করছি৷ হাতের ডানের বিলে অনেকগুলা নৌকা। জায়গাটা দেখেই আঁচ করা যায়, বর্ষায় এ তল্লাটে ভালোই পানি হয়৷ বামপাশটা অপেক্ষাকৃত উঁচু বলে চাষ-বাস ওই দিকেই বেশি৷

আড়িয়াল খাঁ নদী।  ছবি: বাংলানিউজ

এর মধ্যেই সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় বাকি পথটুকুতে খালি পা চালিয়ে যাওয়া। দুপাশের কোনোকিছুই দেখা যায় না বলেই সন্ধ্যার পরে হাঁটাটা আমি একদমই উপভোগ করি না। এই বিশাল দূরত্বের একটা রাস্তায় তেমন কোনো বাজার চোখে পড়েনি। কুমের পাড় নামক একটা বাজার পেরিয়ে সাড়ে সাতটা নাগাদ শিবচর। ওখানেই অপেক্ষা করছিলেন মিরাজ ভাই। আজকের আশ্রয়স্থল ওনার বাড়িতেই। শিবচর জায়গাটা উপজেলা শহরের তুলনায় বেশ উন্নত। অনেকগুলো ভাষ্কর্য আছে সদরের আনাচে-কানাচে৷ মিরাজ ভাইয়ের বন্ধুরা চিতই পিঠা খাওয়ালেন এক দফা। শিবচরে হাঁটা শেষ করলেও আমাদের যেতে হবে পাঁচ্চরের মাদবরের চরে।

কীর্তিনাশা নদীর উপর নির্মিত সেতুতে।  ছবি: বাংলানিউজ

মিরাজ ভাইয়ের বাড়ি সেখানেই। ফেরার পথে মা লক্ষ্মী মাতৃভাণ্ডারে আবার উদরপূর্তি হলো রসগোল্লা-দই দিয়ে। মাদবরের চরে মিরাজ ভাইয়ের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বেশ খুশি হয়ে গেলাম। বাড়িটা টিনের তৈরি আর দরজা-জানালায় কাঠের নকশা করা। সকাল থেকে দেখে আসা অবিকল এ অঞ্চলের অন্য বাড়িগুলোর মতোই দেখতে।

চলবে...

আরও পড়ুন...

** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪৯)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪৮)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪৭)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪৬)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪৫)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪৪)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪৩)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪২)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪১)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪০)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৩৯)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৩৮)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৩৭)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৩৬)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৩৫)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৩৪)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৩৩)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৩২)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৩১)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৩০)​
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-২৯)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-২৮)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-২৭)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-২৬)​
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-২৫)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-২৪)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-২৩)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-২২)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-২১)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-২০)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-১৯)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-১৮)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-১৭)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-১৬)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-১৫)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-১৪)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-১৩)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-১২)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-১১)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-১০)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৯)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৮)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৭)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৬)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৫)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (পর্ব-৪)
** পায়ে পায়ে ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা (দিনাজপুর-৩)
** পায়ে পায়ে ৬৪ জেলা (ঠাকুরগাঁও-২)
** পায়ে পায়ে ৬৪ জেলা (পঞ্চগড়-১)

বাংলাদেশ সময়: ১১২৫ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০২০
এএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa