ঢাকা, বুধবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩১, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৭ শাওয়াল ১৪৪৫

স্বাস্থ্য

জামালপুরের চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩১৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০২০
জামালপুরের চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত ...

জামালপুর: জামালপুরের ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসকদের মারধরের প্রতিবাদে কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এ কর্মবিরতি ময়মনসিংহ বিভাগে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুরেও কর্মবিরতি পালন করেন চিকিৎসকরা। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। তবে খোলা রয়েছে জরুরি বিভাগ।

জামালপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহাফুজুর রহমান বাংলানিউজকে এ তথ্য জানান।

এদিকে গত তিন দিন টানা কর্মবিরতি পালন করছে জামালপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসকসহ উপজেলার বকশীগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী ও দেওয়ানগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত চিকিৎসকরা।
তারা ৪ দফা দাবি নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম খানের অপসারণ।

বাকি দাবিগুলো হলো- হাসপাতালে হামলার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে সদরের ইউএইচএফপিও চিকিৎসক লুৎফর রহমানের ওপর সদর থানার ওসিসহ যে সব পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য অমানবিক নির্যাতন করেছে তাদের সবাইকে এই জেলা থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।  

হামলা-ভাঙচুর ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা চিকিৎসক চিরঞ্জীব সরকারকে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বহিরাগতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলকশাস্তির আওতায় আনতে হবে। জামালপুর সদর হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে এবং দীর্ঘদিনের দাবি সারাদেশের চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন দ্রুত পাশ করতে হবে।

এদিকে ২৯ ডিসেম্বর ৭ সদস্য কমিটির সদস্যরা জামালপুর জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

জামালপুর ২৫০ শয্যা হাসাপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহাফুজুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনে কি আছে জানা যায়নি। এটি জানার পরে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, জামালপুর শহরের ইকবালপুর এলাকার গুরুতর অসুস্থ করিমন (৬৪) নামের এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে জামালপুর সদর হাসপাতালে মারা যান। চিকিৎসকদের অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। বহিরাগতদের হামলায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা চিকিৎসক চিরঞ্জীব সরকারসহ চার জন ইন্টার্ন চিকিৎসক গুরুতর আহত হন। এর জেরে একই দিন হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বহিরাগত লোকজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ছাড়াও সদরের ইউএইচএফপিও চিকিৎসক মো. লুৎফর রহমান পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় জামালপুর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক চিকিৎসক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচ জনের নামে এবং আরও অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম (৪২) ও সাইদুর রহমান (৩৮) নামের দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ।

** জামালপুরে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা, দুর্ভোগে রোগীরা

বাংলাদেশ সময়: ১৩১৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।