ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৩ মে ২০২৪, ১৪ জিলকদ ১৪৪৫

স্বাস্থ্য

ছুটির দিনে চিকিৎসক না থাকায় বিপাকে রোগীরা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৪০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২০, ২০১৭
ছুটির দিনে চিকিৎসক না থাকায় বিপাকে রোগীরা বাড্ডা জেনারেল হাসপাতাল, ছবি: সুমন শেখ

ঢাকা: সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসক না থাকায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে রোগী ও তার স্বজনদের।

কিছু-কিছু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একজন করে চিকিৎসক থাকলেও রোগীদের সংখ্যা অনুযায়ী তা খুবই নগণ্য। ফলে বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালে আসা চিকিৎসা প্রত্যাশীরা।

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডার ‘বাড্ডা জেনারেল হাসপাতাল ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বেশ কিছু হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।

বেলা ১২টা পর্যন্ত বাড্ডা জেনারেল হাসপাতাল ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। জরুরি বিভাগে গিয়েও কোনো চিকিৎসকের হদিস পাওয়া যায়নি। তবে বাড্ডা জেনারেল হাসপাতাল কেবিনে একজন মাত্র নার্সকে রোগীদের খোঁজ-খবর নিতে দেখা গেছে।

আর পপুলার ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে অনেক রোগী গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য বসে থাকলেও চিকিৎসক এবং প্যাথলজি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা না থাকায় পরীক্ষা করাতে পারছেন না।

এখানে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বাংলানিউজকে জানান, প্রতি ছুটির দিনেই তাদের এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। চিকিৎসক না থাকার কারণে হাসপাতালে এসেও তারা কোনো সেবা পাচ্ছেন না। অনেকে জটিল সমস্যা নিয়ে আসলেও চিকিৎসক না থাকার কারণে তাদের সেবা না নিয়েই ফিরতে হচ্ছে। ফলে অনেক রোগীকে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সময় মত চিকিৎসা না পেয়ে রোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

পপুলার ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে ইউরিন পরীক্ষা কর‍াতে আসা রোগী মাইনুল ইসলাম দুপুরে বাংলানিউজকে বলেন, সকাল ৮টা থেকে বসে আছি। প্যাথলজি বিভাগের কেউ আসেনি। তাড়াতাড়ি পরীক্ষা রিপোর্ট নিয়ে আমাকে ডাক্তার দেখাতে হবে। কিন্তু এখনও পরীক্ষা করাতে পারেনি। আমার শরীর অনেক খারাপ। এরমধ্যে এখানে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে আরও অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

বাড্ডা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার আছেন কিনা জানতে চাইলে তারা একটি সাদা অ্যাপ্রোন পরা মহিলাকে দেখিয়ে দেন। পরে তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তিনি ডাক্তার নন, নার্স।

ডাক্তার কোথায় আছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে জানা যায়, ডাক্তার নিচের ফ্লোরে রয়েছেন। পরে নিচের ফ্লোরে গিয়েও ডাক্তারের দেখা মেলেনি।

চিকিৎসক না থাকার কারণ প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলানিউজকে জানায়, মূলত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাই বেশি বসেন। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় তারা ডিউটিতে আসনে না। এক্ষেত্রে ইমারজেন্সি কোনো রোগী আসলে তারা রাখেন না।

এ সম্পর্কে বাড্ডা জেনারেল হাসপাতেলের সুপারভাইজার খন্দকার কামরুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসক রয়েছেন। কিন্তু তারা ছুটির দিনে হাসপাতালে আসনে না। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি ছুটির দিনে কয়েকজন চিকিৎসক রাখার। কিন্তু তারা রাজি না হওয়ায় আমরা কিছুই করতে পারি না।

এক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছুটির দিনে আমরা সাধারণত কোনো ইমারজেন্সি কেস রাখি না। আর আমাদের হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় কোনো রোগীর সমস্যা হলে ফোন করে চিকিৎসক নিয়ে আসি। ’

পপুলার ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ছুটির দিনগুলোতে চিকিৎসকরা কম থাকেন। এর জন্য রোগী এবং আমাদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বাংলাদশে সময়: ১৪৩৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২০, ২০১৭
এমে/টিআই  

 

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।