ঢাকা, বুধবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

রাজনীতি

স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি বাতিল করলো বিএনপি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭৩০ ঘণ্টা, মার্চ ২৪, ২০২০
স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি বাতিল করলো বিএনপি

ঢাকা: স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের গত স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সারা দেশের সব কর্মসূচি বাতিল করেছি। কোনোভাবে যেন সমাবেশ না হয় সেজন্য নেতাকর্মীদের দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছি।

সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যখন চীনে প্রাদুর্ভাব হলো তখন থেকে আমরা বার বার সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলছিলাম।

যেহেুত চীনে এই ভাইরাসটি মারাত্মকভাবে দুর্যোগের সৃষ্টি করেছিল। পরে ইতালি আক্রান্ত হলো-তখন মিডিয়াগুলোতে খবর আসছিল, বিশেষজ্ঞরা কথা বলছিলেন, তাতে করে এই ভাইরাসটি যে গোটা পৃথিবীজুড়ে মহামারী আকারে আসছে তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার বিষয়টাকে সেভাবে দেখেনি অথবা দেখতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে তখন তারা তাদের কর্মসূচি পালনের জন্য অনেক বেশি আন্তরিক ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সেকারণে অত্যন্ত জরুরিভাবে হাসপাতালগুলো তৈরি করা। চিকিৎসক নার্সদের প্রয়োজনীয় পোশাক ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এ বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়েছে। পরীক্ষা করার কিট যথেষ্ট ছিল না। ফলে অনেকে পরীক্ষাও করতে পারছে না। সরকার এই বিষয়টাকে অবহেলা করেছে, উদাসীনতা দেখিয়েছে। ফলে দেশের মধ্যে একটা চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এটা শুধু বাংলাদেশে নয় সারাবিশ্বে। সেজন্য আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে দোষী করতে চাই না। কিন্তু সরকারের যে দায়িত্বহীনতা সেটা আমাদের প্রচণ্ডভাবে ব্যথিত করেছে। এই দায়িত্বহীনতা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। আমরা এ বিষয়গুলোকে মাথায় নিয়ে প্রথম থেকেই লিফলেট বিতরণ করেছি, পোস্টার লাগিয়েছি। জনগণকে সচেতন করেছি। আমাদের কর্মসূচিগুলো বাতিল করেছি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যেহেতু এই ভাইরাসটির এখন পর্যন্ত চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি, তাই গবেষণার দিকে সময় দিয়ে খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হয় না। কিন্তু চিকিৎসা এবং জনগণকে আইসোলেট করে রাখার যে বিষয় সেটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল, তারা দিতে শুরু করেছেন। দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছেন। এখনও যেন নিবিড়ভাবে পলিচালিত হয় সে জিনিসটা তাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিন্ম আয়ের মানুষ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা রিকশাচালক, দিনমজুর, ঠেলাগাড়ী চালান, সিএনজিচালক, নির্মাণ শ্রমিক, যারা বস্তিতে থাকেন বাসাবাড়িতে কাজ করেন। তারা অত্যন্ত হুমকীর সম্মুখীন হবেন। তারা যদি কাজ না করতে পারেন তাহলে তার পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে থাকবে। এদের জন্য সরকারের ভাতার ব্যবস্থা করা দরকার। সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা এই গরিব মানুষদের ভাতার ব্যবস্থা করতে পারে।     

বাংলাদেশ সময়: ০৭৩০ ঘণ্টা, মার্চ ২৪, ২০২০
এমএইচ/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa