ঢাকা, রবিবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ জিলহজ ১৪৪১

অন্যান্য দল

শহীদ মিনারে কমরেড জসিমের কফিনে শ্রদ্ধা

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭২১ ঘণ্টা, অক্টোবর ৩, ২০১৭
শহীদ মিনারে কমরেড জসিমের কফিনে শ্রদ্ধা শহীদ মিনারে কমরেড জসিমের কফিনে শ্রদ্ধা- ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলনের প্রখ্যাত নেতা ও বিশিষ্ট প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ জসিম উদ্দীন মণ্ডলের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ নিয়ে আসা হলে সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।  

এ সময় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনোয়েদ সাকী প্রমুখ।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, জসিম উদ্দীন মণ্ডল জনদরদী মানুষ হিসেবে বাংলাদেশের সমাজ প্রগতির অব্যাহত কর্মকাণ্ড বিশেষ ভূমিকা রেখে গেছেন। প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
 
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, তিনি প্রগতিশীল মানুষ ছিলেন। শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন। তার প্রগতিশীল চেতনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বাংলানিউজকে বলেন, প্রগতিশীল মানুষদের মধ্যে তিনি দৃষ্টান্ত ছিলেন। তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন থেকে বিন্দু মাত্র সরেন নাই। তার অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে অনেক বেশি প্রভাবিত করছে। তিনি আমাদের মাঝে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন।
 
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, তিনি সারাজীবন পার্টির প্রতি আনুগত্যশীল ছিলেন। কাজ করেছেন কৃষক-শ্রমিকদের স্বার্থে। পার্টি যদি বাস্তবসম্মতভাবে তার রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতো তাহলে অবশ্যই রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে অনেক ভালো করতো।

মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলানিউজকে বলেন, তিনি অনেক বড় মাপের নেতা ছিলেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে ঘনিষ্টতা ছিল না। তবে ওনার রাজনৈতিক দর্শনকে শ্রদ্ধা জানাই।

জোনায়েদ সাকী বাংলানিউজকে বলেন, তিনি তার জীবনকে প্রগতিশীলতার পক্ষে উৎসর্গ করে গেছেন। বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষদের হৃদয়ে তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন।
 
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বেলা সাড়ে ১২টা পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার মরদেহ ঈশ্বরদীতে নিয়ে যাওয়া হবে।

বুধবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজার শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, শ্রমিক আন্দোলনের কিংবদন্তী, বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডল ৯৭ বছর বয়সে সোমবার (২ অক্টোবর) সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন।

** শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনারে কমরেড জসিমের মরদেহ

বাংলাদেশ সময়: ১৩২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৩, ২০১৭
এসকেবি/জিপি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa