ঢাকা, রবিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২১ শাবান ১৪৪৫

রাজনীতি

স্বৈরাচারের পতন হলেও স্বৈরাচারী ব্যবস্থা বলবৎ আছে: বাম গণতান্ত্রিক জোট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৬, ২০২৩
স্বৈরাচারের পতন হলেও স্বৈরাচারী ব্যবস্থা বলবৎ আছে: বাম গণতান্ত্রিক জোট

ঢাকা: স্বৈরাচারের পতন হলেও স্বৈরাচারী ব্যবস্থা বলবৎ আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ৪টায় পুরানা পল্টন মোড়ে এরশাদ স্বৈরাচারের পতন দিবস উপলক্ষে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ কথা বলা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু প্রমুখ।

সমাবেশে নেতারা বলেন, ৩৩ বছর পার হলেও আজও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। সামরিক স্বৈরাচারের পতন হলেও স্বৈরাচারী ব্যবস্থা, বিধিবিধান এখনও বলবৎ আছে। দেশবাসীর ভোটাধিকার আজ লুণ্ঠিত। নব্য স্বৈরাচার আজ ক্ষমতায়। আবারো ক্ষমতায় থাকার জন্য ‘আমি আর ডামি’র পাতানো নির্বাচনের ছক এঁকে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বৈরাচারের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি উচ্ছেদ ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন সরকারের হুকুম তামিলকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গণদাবী ও জনমত উপেক্ষা করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ঘোষণা করে দেশকে সংঘাতের পথে আরো ঠেলে দিয়েছে।

সমাবেশ থেকে বলা হয়, নির্বাচন নিয়ে প্রতিদিন যে নাটক চলছে তা শাসকগোষ্ঠীর রাজনীতির দেউলিয়াত্বের বহির্প্রকাশ। এ অবস্থা থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে ঘোষিত নির্বাচন বর্জন ও রুখে দাঁড়াতে হবে। জনমত উপেক্ষা করে ঘোষিত তফসিল বহাল রাখলে আগামীতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বাম গণতান্ত্রিক জোট নেতৃবৃন্দ সরকারকে এ পথ থেকে সরে এসে নির্বাচনী তফসিল বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন করে তার অধীনে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবি জানান।

একই সঙ্গে দুঃশাসক হটানো, ভোটাধিকার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম অগ্রসর করতে নীতিনিষ্ঠ বাম গণতান্ত্রিক শক্তির আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে একতরফা, প্রহসনের ও ভাগাভাগির নির্বাচনী তফসিল বাতিলের দাবিতে আগামী ১৩ ডিসেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

স্বৈরাচার পতন দিবসে যুগপৎ আন্দোলনের ধারায় আজ ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চা, বাংলাদেশ জাসদ, মুক্তি কাউন্সিল. জাতীয় গণফ্রন্ট, ঐক্য ন্যাপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর জনগণের আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা করেন এবং ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২০১২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৬, ২০২৩
আরকেআর/নিউজ ডেস্ক

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।