bangla news

মানুষ ও যন্ত্রের শিল্প

অফবিট ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৬-১০-১৮ ১:১৮:০৩ এএম

রোবোটিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের একটি প্রতিযোগিতা চলতি সপ্তাহে শুরু হয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে।

রোবোটিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের একটি প্রতিযোগিতা চলতি সপ্তাহে শুরু হয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে। কেলি গ্রোভিয়ার সেখানে একটি দৃশ্যকল্পে মানুষ ও যন্ত্রের সমন্বিত সৃষ্টির শিল্পিত রূপ দেখিয়েছেন।
 
সাইবাথলন’২০১৬ শীর্ষক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের ওই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীরা তাদের হারানো অঙ্গে যন্ত্র বসিয়ে অংশ নেন।
 
কেলি গ্রোভিয়ার বলেন, ‘শিল্পের ইতিহাসে মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে সামান্যই সীমানা রয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রতিযোগীদেরকে প্রকৌশলবিদ্যার সাহায্যে পূর্ণাঙ্গ মানুষের রুপ দেওয়া হয়। যন্ত্রের সমন্বয়ে তাদেরকে স্বপ্নদর্শী মনে হচ্ছিল। নিজ নিজ ইভেন্টের প্রতিযোগিতায় তাদের নিজেদের প্রতি অনন্য নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা ছিল। এটি যেন মানুষ ও যন্ত্রের সমন্বিত শিল্পের নান্দনিক স্বপ্নাবিষ্ট অসাধ্য সাধন’।

পপ শিল্পী অ্যান্ডি ওয়ারহোল ১৯৬৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি একটি যন্ত্র হতে চাই। কারণ, আমি এ পথ অঙ্কন করছি’। তার এ মন্তব্য যারা বিশ্বাস করেন যে, শিল্প নির্মাণের স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন আত্মার বিরুদ্ধাচারণ, তাদেরকে অবাক করতে পারে। আসলে তার স্বীকারোক্তি নিছক একটি মনোভাব।
মানুষ-যন্ত্রের এ শিল্প শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধরে স্পষ্ট করেছেন বিখ্যাত মানুষেরাও। ১৪৯০ সালের গোড়ার দিকে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি তার বিখ্যাত চিত্র ‘ভিটরুভিয়ান ম্যান’ এ মানবদেহ সম্বলিত মানবিক রোবট নির্মাণের নিজস্ব নকশা এঁকেছিলেন। মানুষ-যন্ত্রের একতার অনুপাত প্রদর্শন ছাড়াও এর একটি অংশ মানব আকৃতির মতো ছিল।  
 
চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর মার্সেল ডাকাম্পের তৈরি আধুনিক প্রতিকৃতিগুলোও মানবদেহের সৌন্দর্য যান্ত্রিক উপাদানে প্রকাশিত। যেমন- তার ১৯১২ সালের সৃষ্টি ‘একটি সিঁড়ি (২)’  যেন ক্র্যাংশেফট ও ফাঁপা পিস্টনের সমন্বয়ে একটি যন্ত্রমানব তৈরির প্রচেষ্টার অংশ, যা একবারে ভিঞ্চির সৃষ্টির মতোই দেখায়।

ইতালীয় ভাস্কর্য শিল্পী উমবার্তো বকিওনির শিল্পের মধ্যেও ছিল এ ধারাবাহিকতার স্বতন্ত্র ফরম। ১৯১৩  সালে নির্মিত এই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা শিল্পীর ‘নগ্ন মানব’ ভাষ্কর্য পেশি ও যান্ত্রিক গতির মিশ্রণ। সাইবাথলনের আদলে তৈরি এ শিল্পটি আধুনিক শিল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ।
 
ডাকাম্পের পর বকিওনি তার নিজের সঙ্গে শিল্পের সংবেশিত নিশ্চল সমন্বয় করেন। মূলত প্লাস্টারে ( এ শিল্পীর মৃত্যুর ১৫ বছর পর ১৯৩১ সালে ভাষ্কর্যে ব্রোঞ্জ সংযোজিত হয়) তৈরি বকিওনির ফর্মেটকে মানুষ ও যন্ত্রের সদ্য আবিষ্কৃত সংমিশ্রণ বলে বলে মনে হয়। আধুনিক বিশ্বের দুর্দমনীয় গতিশীলতাও সেখানে প্রতীকায়িত এবং প্রযুক্তির শ্বাসাঘাতে মোটর ও মনকে একত্রিত করা হয়। বকিওনির দর্শনের দ্রুতগামী উপাদানে যেন সময় নিজেই একটি গুরুত্বহীন ওজনের মধ্যে জমাটবদ্ধ হয়েছে।
 
প্রথম সাইবাথলনে এ সপ্তাহে তোলা ছবিগুলোও যেন শিল্পীর তরল ফর্মে অতীত ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন এবং বাস্তবের সমন্বিত রুপায়ন।
 
বাংলাদেশ সময়: ১১১৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৮, ২০১৬
এএসআর

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2016-10-18 01:18:03