ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাতীয়

স্বজনদের খোঁজে সিরাজগঞ্জে আসছেন আসামের শিক্ষক

স্বপন চন্দ্র দাস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৩০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২, ২০২২
স্বজনদের খোঁজে সিরাজগঞ্জে আসছেন আসামের শিক্ষক আব্দুল মতিন

সিরাজগঞ্জ: ৫৪ বছর বয়সী মো. আব্দুল মতিন খন্দকার ভারতের আসাম রাজ্যের ওয়েস্ট গোয়ালপাড়া ডিগ্রি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার জন্ম আসামে হলেও বাবা-দাদাসহ পূর্ব পুরুষদের শেকড় পোঁতা রয়েছে বাংলাদেশেই।

সেই পূর্ব পুরুষের বংশধরের খোঁজে সিরাজগঞ্জে আসছেন আব্দুল মতিন খন্দকার।  

রোববার (২ অক্টোবর) বিকেলে তিনি সিরাজগঞ্জে পৌঁছে স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হবেন বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জগতগাঁতী গ্রামের খন্দকার বংশের ছেলে আব্দুল মতিন খন্দকার। তার বাবা দাইয়ান খন্দকার জগতগাঁতী গ্রামের মরহুম দেরাজ আলী খন্দকারের ছেলে। ১৯৪৬/৪৭ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে আসামে মামার বাড়িতে যান দাইয়ান খন্দকার।  

আসামের গোয়ালপাড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. বকশী আহমেদ ও বাংলানিউজের সিরাজগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট স্বপন চন্দ্র দাসের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো স্বজনদের খোঁজ পান আব্দুল মতিন খন্দকার।  

৮০ বছর বয়সী বাবা দাইয়ান খন্দকারের মুখে দেশের বাড়ি জগতগাঁতী, পার্শ্ববর্তী শিবনাথপুর গ্রামের নাম শুনেছেন আব্দুল মতিন। খুব ছোট বয়সে আসামে যাওয়ায় স্পষ্ট করে ঠিকানা বলতে পারতেন না দাইয়ান খন্দকার। এসব বিষয় নিয়ে আব্দুল মতিন কথা বলেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের সন্তান বর্তমানে আসামে বসবাসরত অধ্যাপক ড. বকশী আহমেদের সঙ্গে। আমিনুল ইসলাম নামে কাজিপুরের একজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন বকশী আহমেদ। আর তিনিই যোগাযোগ করিয়ে দেন বাংলানিউজের সাংবাদিক স্বপন চন্দ্র দাসের সঙ্গে। স্বপন চন্দ্র দাস হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে আব্দুল মতিন খন্দকারের সঙ্গে কথা বলে তার পূর্ব পুরুষদের পরিচয় জেনে নেন এবং জগতগাঁতী গ্রামে গিয়ে খুঁজে বের করেন তাদের।  

আব্দুল মতিন খন্দকার বলেন, আমার দাদারা তিন ভাই ছিলেন, বড় ভাই আবেদ আলী খন্দকার, মেজ ভাই মাজম আল খন্দকার এবং সবার ছোট ছিলেন দাদা দেরাজ আলী খন্দকার। ব্রিটিশ ভারত আমলে দাদা বিয়ে করেছিলেন আসামের গোয়ালপাড়ায়। আমার বাবা দাইয়ান খন্দকার ছিলেন দাদার একমাত্র সন্তান। দাদার অকাল মৃত্যুর পর পাঁচ বছর বয়সে আমার বাবাকে নিয়ে দাদি তার বাবার বাড়ি গোয়ালপাড়ায় আসেন। পরে দাদির অন্যত্র বিয়ে হয়। বাবা দিনমজুরির পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে গেছেন। লেখাপড়া শেষে তিনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পান। এভাবেই জীবন সংগ্রাম চালিয়ে আমাদের পাঁচ ভাই-বোনকে মানুষ করেন।  

বাবার মুখে জন্মস্থান জগতগাঁতীর কথা শুনেছি। আমার খুব ইচ্ছে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার। এ কারণেই ড. বকশী স্যারের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলি। আজ আমার ভালো লেগেছে, আমি স্বজনদের সন্ধান পেয়েছি।  

এদিকে জগতগাঁতী গ্রামে মতিন খন্দকারের চাচাতো ভাই আব্দুল খালেকের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, শিশুকাল থেকেই শুনে আসছি, আমাদের এক চাচা খুব ছোট বেলায় ভারতে গেছেন। কিন্তু তারা কখনো এ দেশে আসেননি। দীর্ঘদিন পর এক চাচাতো ভাইয়ের আসার কথা শুনে আমাদের সবারই ভালো লাগছে।  

অধ্যাপক ড. বকশী আহমেদ বলেন, আব্দুল মতিন খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল মতিন তার স্বজনদের খুঁজছেন। বিষয়টি আমাকে জানালে আমি উদ্যোগী হই। আমার ভালো লাগছে যে তিনি তার স্বজনদের খোঁজ পেয়েছেন।  

বাংলাদেশ সময়: ১৩২২ ঘণ্টা, অক্টোবর ২, ২০২২
এসআই
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa