ঢাকা, বুধবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ মে ২০২২, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

ব্যাপারীদের মাথায় হাত

সিলেটে তরমুজ এখন ‘গলার কাঁটা’, ব্যবসায়ীরা ফেলছেন নদীতে!

নাসির উদ্দিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬০৮ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০২২
সিলেটে তরমুজ এখন ‘গলার কাঁটা’, ব্যবসায়ীরা ফেলছেন নদীতে! ছবি: মাহমুদ হোসেন

সিলেট: মাস খানেক আগের কথা। বেশি দামে তরমুজ বিক্রির কারণে জরিমানা গুনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

তারপরও দাম ছাড়েননি তারা। রমজান মাসেও সিন্ডিকেট করে ভোক্তাদের ভুগিয়েছেন তরমুজ ব্যবসায়ীরা। তরমুজে রেখেছিলেন গলাকাটা দাম।
 
অনেকের সাধ্যের মধ্যে না থাকায় কেনা তো দূরে থাক, তরমুজের ধারে কাছেও যাননি। বরং রসের ফল তরমুজের তৃষ্ণা মিটিয়েছেন কৃত্রিম পদ্ধতিতে তৈরী বাজারে বিক্রিত প্যাকেটজাত শরবত দিয়ে।
 
সিলেটে সেই তরমুজের এখন ব্যবসায়ীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাগাতার ক’দিনের বৃষ্টিতে ক্রেতাহীন থাকায় তরমুজের দাম নেমেছে তলানীতে। দোকানে পচে নষ্ট হওয়া তরমুজের ফেলা হচ্ছে নদীতে।
 
শনিবার (১৪ মে) এমন দৃশ্য দেখা গেছে সিলেট নগরের সবচেয়ে বৃহৎ ফলের আড়ৎ কদমতলীতে। আড়ৎগুলোতে নষ্ট হতে চলেছে অন্তত কোটি টাকার তরমুজ। তাই ব্যবসায়ীদের মধ্যে তরমুজ দিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই।   
 
তরমুজ ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যে তরমুজ ৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছে, সেটি এখন দেড় শ’ টাকায়ও নিচ্ছেন না খুচরা ব্যবসায়ীরা। আর গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তরমুজ পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পচন ধরা তরমুজ অন্যটিতে লেগে দাগ ধরছে। যে কারণে পচে যাওয়া তরমুজ নদীতে ফেলে দিচ্ছেন তারা।
 
কদমতলীর আড়ৎধারী ব্যবসায়ী ফুল মিয়া বলেন, দোকানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার তরমুজ আটকে আছে। টানা বর্ষণের কারণে মফস্বল এলাকা থেকে ক্রেতারা না আসায় তরমুজ দোকানে আটকে পঁচন ধরেছে। তাই ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
 
একইভাবে ব্যবসায়ী মঈন আহমেদ বলেন, গরমে তরমুজের চড়া দাম ছিল। চলছিল ভালো। এ কারণে অন্তত ২০ লাখ টাকার তরমুজ পাইকারি কিনে এনেছিলাম। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে।
 
নগরের তালতলার ফলের খুঁচরা ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে তরমুজ এখন চলে না, তাই বিক্রি বন্ধ রেখে অন্যান্য ফলের ব্যবসা করছি। আর যে তরমুজ আগে ৩০০ টাকা বিক্রি হতো, তা এখন ১০০ টাকায়ও বেচা যাচ্ছে না। ৫০০ টাকার তরমুজ দাম হয় দেড় থেকে দুই শ’ টাকা।
 
নগরের রিকাবিবাজারের ফল ব্যবসায়ী ফখর উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি হলে তরমুজের কদর কমে যায়। গরমের দিনে রসাল ফল হিসেবে মানুষ তরমুজ কিনে খায়। এখন চাহিদা কম। তাই যেগুলো দোকানে ছিল, সেগুলোই বিক্রি করতে পারি না।
 
সিলেটের বালুচর এলাকার বাসিন্দা কাওসার আহমদ বলেন, তরমুজ দিয়ে ব্যবসায়ীরা আমরা ক্রেতা সাধারণকে অনেক ভোগিয়েছেন। সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন। অনেকের আকাঙ্খা থাকলেও দামের কারণে তরমুজের ধারে কাছেও যেতে পারেননি- তাই প্রকৃতি যেনো ভোক্তভোগী মানুষের পক্ষ হয়ে তরমুজ ব্যবসায়ীদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।  
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেলো রমজানে এপ্রিলের শেষের দিকেও সিলেটের বাজারে ২০০ টাকার তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছিল ৫৫০ টাকায়। বেশি দামে ফল বিক্রির অপরাধে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আগে বেশি দামে বিক্রি করায় জরিমানার ভয় ছিল ব্যবসায়ীদের। এবার দোকানে মজুতকৃত তরমুজ-ই হয়েছে ভোগান্তির কারণ।    
 
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৮ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০২২
এনইউ/এসএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa