ঢাকা, রবিবার, ৯ মাঘ ১৪২৮, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয়

‘তরুণদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হতে হবে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১২
‘তরুণদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হতে হবে’

চট্টগ্রাম : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, নিরীহ মা-বোনের সম্ভ্রমহানী করেছে তাদের বিচার হতেই হবে। তরুণ প্রজন্মকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আরো সোচ্চার হতে হবে।

আশার কথা, আত্মশক্তির প্রকাশ ঘটছে তাদের মধ্যে। ’

শনিবার চট্টগ্রামের ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে (আইইউবি) প্রথম বাংলা উইকিপিডিয়া অসম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

‘আমার ভাষায় তুলে ধরি, আমার ভালো লাগার সবকিছু’ শীর্ষক অসম্মেলনকে সবার জন্য সম্মেলন বা সসম্মেলন আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টারনেটে যে ছেলে বিশ্ব ঘুরে বেড়ায় সে ইন্টারন্যাশনাল নাগরিক। বাংলা উইকিপিডিয়া অনেক বড় কাজ। এতে জাতি অনেকদূর এগিয়ে যাবে। ’

নতুন প্রজন্মের নানা সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মুসা ইব্রাহিম এভারেস্ট জয় করে প্রমাণ করেছেন চেষ্টা করলে বাঙালি অসাধ্য সাধন করতে পারে। নতুন প্রজন্মের চোখে দেশের ভবিষ্যৎ পরিষ্কার। মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত হয়ে কাজ করলে সাফল্য আসবেই। গত নির্বাচনে নতুন প্রজন্ম রাজনীতির চালিকাশক্তি ছিল। ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য এক কোটি ১০ লাখ তরুণ ভোটার রায় দিয়েছিল। ’

প্রতিমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নানা অগ্রগতি বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন, ফল দেখা, ইন্টারনেট সেবা ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াসহ নানা সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। এতে মানুষের সময়, অর্থ অপচয় ও পেরেশানি দূর হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গণমানুষের জীবনমান উন্নয়নের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও খ্যাতিমান লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন হক, প্রকৌশলী রশীদ আহমদ চৌধুরী ও প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘উইকিপিডিয়া অসম্মেলন আমার কাছে একটি অসাধারণ ব্যাপার। বাংলা ভাষায় উইকিপিডিয়া তৈরির জন্য এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহার বাড়লে ভাষার গুরুত্ব বাড়ে। ইন্টারনেটে যতক্ষণ বাংলা ভাষা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যাবে না ততক্ষণ তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব শেষ হবে না। ’

ওয়েস্টার্ন মেরিনের প্রদর্শনী ও জাহাজ নির্মাণযজ্ঞের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এখানে এসে, আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখে জানলাম দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্প গড়ে উঠেছে। যা কিছুদিন আগেও ছিল অকল্পনীয়। এ ব্যাপারে অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো আমাদের দেশের তৈরি জাহাজ কিনছে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আরো অনেক কিছু হবে। ’

অনুষ্ঠানে এসে ‘অসম্মেলন’ ও ‘আনকনফারেন্স’ শব্দ দুটো শিখেছেন উল্লেখ করে ড. ইয়াসমিন হক বলেন, ‘বাংলায় যদি উইকিপিডিয়া হয় পুরো জাতি উপকৃত হবে। বিশেষ করে আমাদের মেয়েরা অনেক বিষয় আছে কারও সঙ্গে আলাপ করতে চায় না। তারা উইকিপিডিয়া থেকে অনেক অজানা বিষয় জানতে পারবে।

ইন্টারনেটে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য চাই ডিজিটাল মানুষ। দেশ পরিচালনা করবে রাজনীতিবিদেরা। তাই তরুণদের রাজনীতিবিমুখ হলে চলবে না। ’

বাংলা উইকিপিডিয়ায় মাত্র ২২ হাজার নিবন্ধন আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা আরো অনেক সমৃদ্ধ করতে হবে। উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। ’  

স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান। তিনি বলেন, পৃথিবীর ৩৮টি দেশে অসম্মেলন শুরু হয়েছে। আমাদের এ আয়োজনের উদ্দেশ্য বাংলা উইকিপিডিয়ার ধারণা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। তরুণদের সম্ভাবনা বিশাল। বাংলা ভাষা, কৃষ্টি বাঁচিয়ে রাখা ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তরুণদের।

তিনি বলেন, ১০১৪ সালে পরবর্তী অসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রতিবছর একটি করে অসম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।

মুনির হাসান অতিথিদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেন।
আইইউবির পক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে স্মারক উপহার দেন কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর এম নুরুজ্জামান।

সমাপনী দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল বাংলা উইকিপিডিয়া সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে কর্মশালা, ‘উইকিপিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক মুক্ত সেমিনার, ‘মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গে গণআড্ডা’, আন্তঃস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কুইজ প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
 
রচনা প্রতিযোগিতায় ‘চলো গ্রামে ফিরে যাই’ লিখে ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল ও কলেজের আজরা জামাল প্রথম, ‘শাটল ট্রেন’ লিখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিয়া আফরিন দ্বিতীয় এবং ‘কর্ণফুলী’ লিখে সেন্ট স্কলাস্টিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্পিতা পোদ্দার তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

স্কুল কুইজ প্রতিযোগিতায় রেডিয়েন্ট স্কুল চ্যাম্পিয়ন ও সেন্ট প্ল্যাসিডস উচ্চ বিদ্যালয় রানার্স আপ এবং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আইআইইউসি চ্যাম্পিয়ন ও সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজ রানার্স আপ হয়েছে।

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের আকর্ষণ ছিল মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘আমার বন্ধু রাশেদ’। এছাড়া ওয়েস্টার্ন মেরিনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বাতিঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

আইইউবি, বিডিওএসএন এবং উইকিপিডিয়া বাংলাদেশ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অসম্মেলনে সহযোগিতা রয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড, আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সিপিডিএল ও ইটারনাল ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড।

বাংলাদেশ সময় : ১৯২০ ঘণ্টা, মার্চ ৩, ২০১২

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa