ঢাকা, সোমবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ সফর ১৪৪২

জাতীয়

ফের ‘নিজের ঢোল’ পেটালেন আবুল কালাম আজাদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৩, ২০২০
ফের ‘নিজের ঢোল’ পেটালেন আবুল কালাম আজাদ ছবি: বাদল

ঢাকা: টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুদকের অনুসন্ধান দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। প্রথম দিনের মতো বৃহস্পতিবারেও (১৩ আগস্ট) পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে।

বের হয়ে বুধবারের মতো সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আগের দিনের মতো লিখিত বক্তব্যে ‘নিজের ঢোল’ পিটিয়েছেন তিনি।
 
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার কিছু পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন আবুল কালাম আজাদ।  

করোনাকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কেনায় দুর্নীতির অনুসন্ধানে তথ্য দেওয়ার পর বিতর্কিত রিজেন্ট হাসপাতাল ও এর চেয়ারম্যান মো. সাহেদের বিষয়ে দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যার নেতৃত্বাধীন একটি দল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করে।
 
বের হয়ে বৃহস্পতিবারও লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে শুরু করেন তিনি। এসময় তার লিখিত বক্তব্যের আগে সাংবাদিকরা তাকে কিছু প্রশ্ন করতে চান। কিন্তু তিনি কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ না করেই লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে থাকেন।  

লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা জানাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে আমাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে আমার দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা, সততা ও যোগ্য নেতৃত্ব বিবেচনা করে তার সরকার আমাকে দায়িত্বটি দেয়। পরে নিয়মিত মেয়াদ শেষে তিনি আমাকে আরো দু’বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন।
 
স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করলেও আবুল কালাম আজাদ তার বক্তব্যে বিষয়টিকে ‘আত্মসম্মান রক্ষা’র জন্য পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি যখন আমার সুনাম নষ্ট করার অপপ্রয়াস লক্ষ্য করেছি, তখন আত্মসম্মানকেই বড় করে দেখেছি। তাই বিবেকের তাড়নায় মেয়াদপূর্তির নয় মাস আগেই গত ২১ জুলাই স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি।
 
নিজের বক্তব্যে তিনি নিজেকে আবারও নানা বিশেষণে ভূষিত করে বলেন, চাকরি জীবন আমি সব সময় কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সততা নিয়ে কাজ করেছি।
 
লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ঠেলে তিনি দুদকের প্রধান কার্যালযের বাইরে থাকা তার গাড়ির দিকে হাঁটা দেন। এসময় তার পিছু পিছু সাংবাদিকরা গিয়ে বারবার প্রশ্ন করার সুযোগ চাইলেও তিনি কিছুই বলেননি।
 
গত ৬ আগস্ট মাস্ক-পিপিইসহ করোনা স্বাস্থ্যসামগ্রী কেনায় দুর্নীতি ও রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম অনুসন্ধানে তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য ১২ ও ১৩ আগস্ট তাকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়। এরপর দু’দিন তাকে পাঁচ ঘণ্টা করে জ্ঞিাসাবাদ করে দুদকের দু’টি অনুসন্ধান দল।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৮১০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৩, ২০২০
ডিএন/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa