bangla news

পাট ক্রয়কেন্দ্রগুলোর কাছে বিজেএমসির দায় ৪১৭ কোটি টাকা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০১-১৪ ৭:০৩:৪৩ পিএম
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাট ক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে কেনা পাটের মূল্য বাবদ বিজেএমসির কাছে চার বছরে ক্রয়কেন্দ্রগুলোর পাওনার পরিমাণ ৪শ ১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। অর্থের সংস্থানসাপেক্ষে বিজেএমসি পাট ক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণের বকেয়া পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করবে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ তথ্য জানান।
 
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।
 
লিখিত উত্তরে মন্ত্রী জানান, পাট কেনার মূল্য বাবদ অর্থ বিজেএমসি পাটপণ্য বিক্রির মাধ্যমে ও বিভিন্ন সময় সরকার প্রদেয় অর্থ থেকে পরিশোধ করা হয়। বিগত কয়েক বছর যাবত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা কম থাকায় বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন মিলগুলোতে উৎপাদিত প্রায় ৬শ ৭৫ কোটি টাকার পাটপণ্য অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। মিলগুলো আর্থিক সঙ্কটে থাকার কারণে পাট কেনা বাবদ অপরিশোধিত দেনা বেড়েছে।
 
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের শুরুতে সময়মতো পাট কিনতে আবর্তক তহবিল হিসেবে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থের সংস্থানসাপেক্ষে বিজেএমসি পাটের বকেয়া পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করবে।
 
মন্ত্রী জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাওনার পরিমাণ ৪৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওনার পরিমাণ ১১৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
 
সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে পাটমন্ত্রী জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের বস্ত্রশিল্প বিকাশের লক্ষ্যে তিন এলাকায় (চিত্তরঞ্জন টেক্সটাইল মিল, গোদাইল ও নারায়ণগঞ্জ) টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনসাপেক্ষে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিটিএমসির নিজস্ব ২২টি প্লটের মধ্যে ১০টি বাংলাদেশ পুলিশের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এসব প্লটের মধ্যে বিটিএমসির হাটখোলার ১ দশমিক ১৭৭ একর ও ডেমরার ১ দশমিক ৫০৪ একর জমি রয়েছে।
 
সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ প্রণয়নের মাধ্যমে দেশে ধান, চাল, গম, ভুট্টা সার, চিনি, মরিচ, হলুদ পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা, তুস-খুদ, কুড়া পোল্ট্রিফিডের পরিবর্তে পাটের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটপণ্যের ব্যবহার বেড়েছে। আর ৬ মার্চকে জাতীয় পাট দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। পাটপণ্য মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে পাটপণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৯০০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০২০
এসই/এএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-01-14 19:03:43