ঢাকা, শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ মে ২০২২, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩

আইন ও আদালত

পুলিশের সন্দেহ এড়াতে গাড়িতে মাছের ড্রাম রাখেন ডাকাতরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৭, ২০২২
পুলিশের সন্দেহ এড়াতে গাড়িতে মাছের ড্রাম রাখেন ডাকাতরা পুলিশে কবজায় দুই ডাকাত।

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সৌদি আরব ফেরত প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতির ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন দুই তরুণ।  

হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমু সরকার বুধবার (২৬ জানুয়ারি) ১৬৪ ধারায় ওই দুইজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

স্বীকারোক্তি প্রদানকারীরা হলেন- বাহুবল উপজেলার ডুবাঐ গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (২৬) ও একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম মিয়াকে (২০) গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দিরগত রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ছোটবহুলা গ্রামের মৃত নূর হোসেনের ছেলে কাজল মিয়া।  

তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিনামবন্দর থেকে মাইক্রোবাসযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত ২টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জের পুরাসুন্ধা এলাকায় এলে একটি পিকআপভ্যান আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে প্রবাসীর গাড়ির গতিরোধ করে ৭/৮ জন ডাকাত। এ সময় সৌদি আরব থেকে নিয়ে আসা কাজল মিয়ার মালপত্র লুটে নেয় তারা। পরে এ ঘটনায় কাজল মিয়া শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে।  

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি গুড়া দুধের প্যাকেট, ১টি চিপসের বক্স, ১টি জুসের প্যাকেট, ৭৫০ গ্রাম লং, এলাচি, দারুচিনি, ২টি বেবি টায়েল, এক প্যাকেট লজেন্স, ১টি টেবিল লাইট, ২টি টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকমের প্রসাধনী, ১টি ব্লেন্ডার মেশিন, ১টি চুল কাটার মেশিন, ১৭০ ভারতীয় রুপি, ১টি হটপট, ১টি মাল্টি প্লাগ উদ্ধার করা হয়।  

দুইজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব বাংলানিউজকে জানান, রুবেল ও ইব্রাহিমসহ ৭/৮ জনের ডাকাত দলটি শুধু প্রবাসীদের গাড়িতে ডাকাতি করে। গাড়িতে সাদা স্কচটেপ পেচানো লাগেজ অথবা কার্টন দেখলে ডাকাতল বুঝে নেয় এটি বিদেশ থেকে আসা কারো গাড়ি। তখনই তারা গাড়িটির পিছু নিয়ে মহাসড়কে ডাকাতি করে। এ পর্যন্ত তারা তিনজন প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি করেছে। পুলিশ যেন তাদেরকে ডাকাত সন্দেহ না করে, সেজন্য পিকআপভ্যানে কয়েকটি মাছের ড্রাম রাখে। ড্রামের আড়ালে ডাকাতরা লুকিয়ে থাকে ও সুযোগ বুঝে মহাসড়কে ডাকাতি করে।  

প্রবাসী কাজল মিয়া জানান, তার গাড়িতে স্বর্ণালঙ্কারসহ আরও মালপত্র ছিল। গ্রেফতারের সময় সেগুলো তাদের কাছে পাওয়া যায়নি। ডাকাতির আগে তারা তাদের সর্দারের বাড়িতে পরামর্শ করেন। সেই সর্দারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

বাংলাদেশ সময়: ১১২২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৭, ২০২২
এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa