ঢাকা, সোমবার, ১ বৈশাখ ১৪৩১, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৫

আন্তর্জাতিক

বিশ্বমঞ্চে ধুতি-শাড়ি পরে নোবেল গ্রহণ অভিজিৎ-এস্থার দম্পতির

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
বিশ্বমঞ্চে ধুতি-শাড়ি পরে নোবেল গ্রহণ অভিজিৎ-এস্থার দম্পতির

১০ ডিসেম্বর, সুইডিশ বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুদিন। প্রতিবছরের অক্টোবরে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হলেও মেডেল দেওয়া হয় প্রবর্তকের চলে যাওয়ার দিনটি স্মরণ করে। এবারও এর ধারাবাহিকতা ঠিক ছিল। কিন্তু ঘটেছে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

এ দিন নোবেল পুরস্কার গ্রহণে নির্দিষ্টি ড্রেসকোডের ‘নীতিমালা ভেঙে’ বিশ্বমঞ্চে বাঙালিয়ানার চমক দেখিয়েছেন অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ পুরস্কারে ভূষিত বাঙালি অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে ফরাসি অর্থনীতিবিদ এস্থার দুফলোও স্বামী অভিজিতের সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন।

তারা সুইডিশ রাজার কাছ থেকে মেডেল গ্রহণ করেছেন ধুতি-পাঞ্জাবি আর শাড়ি পরে। অবশ্য নোবেল কমিটির বিশেষ অনুমতি নিয়েই এই দম্পতি মঞ্চটিতে হাজির হয়েছিলেন এভাবে।

ফরাসি-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এস্থার দুফলো। বিশ্বের দ্বিতীয় নারী হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন। আবার অর্থনীতিতে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ীও। এসব ছাড়াও সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, একইসঙ্গে তার স্বামীও পেয়েছেন অর্থনীতিতে নোবেল। সবকিছুতেই তারা যেন ভিন্ন দম্পতি। সেটা আবারও দেখা গেছে নোবেল মঞ্চে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, দারিদ্র্য বিমোচনে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও এস্থার দুফলোর তত্ত্ব অভিনব। নোবেল পুরস্কার মঞ্চেও দম্পতিকে দেখা গেলো একেবারে অন্যরূপে। ঐতিহ্যপূর্ণ বাঙালি সাজে সুইডেনের রাজার কাছ থেকে নোবেল মেডেল গ্রহণ করলেন অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ও এস্থার।
নোবেল মঞ্চে ধুতি-শাড়ি পরিহিত অভিজিৎ-এস্থার দম্পতি, ছবি: সংগৃহীতমঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুইডিশ নোবেল কমিটি অর্থনীতিতে মেডেল দেওয়ার জন্য প্রথমে ডাকে ভারতীয় অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি এগিয়ে আসেন ধুতি-পাঞ্জাবি পরে। আর তাতে করতালিতে ভরে উঠে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি হল। এরপরই ডাক পড়ে এস্থার দুফলোর। হাসিমুখে মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসেন নীল রঙের একটি শাড়ি পরে। এ দু’জনের পরের ডাকে এগিয়ে আসেন অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী আরেক অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমার।

আরসিটি (র‌্যান্ডমাইজ়ড কন্ট্রোলড ট্রায়াল) নিয়ে মূলত গবেষণা চালাচ্ছেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এস্থার দুফলো। এই গবেষণার সাফল্যেই নোবেল জয় করেছেন তারা। দু’জনেই ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক।

এদিকে, এর আগে নোবেল কমিটির এই নিয়ম ভেঙেছিলেন খ্যাতিমান আর্তমানবতার সেবক মাদার তেরেসা। ১৯৭৯ সালে শান্তিতে এই নোবেলজয়ী মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন তার ধর্মীয় সেবিকার পোশাকেই।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
টিএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।