ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

আন্তর্জাতিক

‘পরাজয় ঢাকতে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে চায় সৌদি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৩০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১৭
‘পরাজয় ঢাকতে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে চায় সৌদি’ ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি

সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘নানা ক্ষেত্রে নিজেদের পরাজয় ঢাকতেই তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনায় উস্কানির আগুন ঢালছে রিয়াদ।’ তার দাবি, নিজেদের সমস্যার দিক থেকে (জনগণকে) বিভ্রান্ত করতে সৌদি এই উস্কানি ছড়াচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) তেহরানের একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথা বলছিলেন রুহানি। ক’দিন ধরে রিয়াদের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইরানকে তোপ দেগে কথা বলার প্রেক্ষিতে রুহানি এই সাক্ষাৎকার দিলেন।

সম্প্রতি রিয়াদের প্রভাবশালী ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের নয়া হিটলার’ বলেও অভিহিত করেন।

রুহানি বলেন, ‘সৌদি আরব মূলত এই অঞ্চলে নিজেদের পরাজয় ও অভ্যন্তরীণ সমস্যা ঢাকতেই ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে চাইছে। দুই আঞ্চলিক শক্তির (তেহরান ও রিয়াদ) মধ্যে নাজুক রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের জন্যও দায়ী সৌদি আরব। ’

তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও কাতারের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও সংহত হয়েছে উল্লেখ করে রুহানি বলেন, ‘সৌদি আরবের ব্যাপারটা আলাদা। তাদের মতো দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কিছু সমস্যা রয়েছে, এই সমস্যা অবশ্য তাদেরই তৈরি করা। ’

তিনি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে বলেন, ‘তারা এখন দু’টি মৌলিক সমস্যার সমাধানে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রথমত; তারা কাতারের সঙ্গে বিরোধে ব্যর্থ হয়েছে, ইরাকে ব্যর্থ হয়েছে, সিরিয়ায় ব্যর্থ হয়েছে এবং সবশেষ লেবাননেও ব্যর্থ হয়েছে। আর দ্বিতীয়ত; সৌদির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি খুবই চিন্তার এবং অভ্যন্তরীণ বিতর্কের। নিজেদের এই ব্যর্থতা এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা ঢাকতেই ইরানকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে সৌদি। ’

জুনে কাতারের ওপর সৌদিসহ আরব জোট যে অবরোধ জারি করে, তার পেছনের কারণ হিসেবে তেহরানের সঙ্গে দেশটির দহরম-মহরম সম্পর্ককে উল্লেখ করা হয়। ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণে শিয়া-সুন্নি রাজনীতিকদের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়া সৌদির দীর্ঘদিনের দাবি, সেখানকার শিয়াপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের রসদ যুগিয়ে আসছে তেহরান। সম্প্রতি রিয়াদের আকাশে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রও ইরানেরই সবরাহকৃত বলে অভিযোগ তোলা হয়।  

এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়, সম্প্রতি রিয়াদ থেকে সম্প্রচারিত ভাষণে লেবাননের সুন্নিপন্থি রাজনীতিক প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরি পদত্যাগের পেছনে সৌদির ইন্ধন রয়েছে। যদিও তেহরান এবং স্বদেশের শিয়াপন্থি সশস্ত্র সংগঠন হেজবুল্লাহকে অভিযুক্ত করা সাদ নানা নাটকের পর ক’দিন আগেই ফিরেছেন লেবাননে।

এছাড়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিতকরণে পশ্চিমাদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিরও বিরোধী ছিল সৌদি আরব। এই চুক্তির ফলে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির ওপর প্রতিবন্ধকতা এলেও দেশটি পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে।  

এই বিষয়ে রিয়াদকে তোপ দেগে রুহানি বলেন, এই অঞ্চলে পরমাণু চুক্তির শত্রু ছিল ইসরায়েল ও সৌদি, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে সৌদির শিয়া মুসলিম নেতা শেখ নিমর আল-নিমরকে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে ফাঁসিতে ঝোলানোর পর তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেসময় তেহরান ও মাসাদে সৌদির কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালায় শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা। এরপরই তেহরানের সঙ্গে এই কূটনেতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে রিয়াদ।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১৭
এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।