ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৮ জিলহজ ১৪৪২

জাতীয়

গণপূর্ত ভবনে প্রবেশকারীদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩৭ ঘণ্টা, জুন ১৫, ২০২১
গণপূর্ত ভবনে প্রবেশকারীদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া

পাবনা: পাবনায় গণপূর্ত ভবনে প্রবেশকারী আওয়ামী ঠিকাদার নেতাদের অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ঘটনা তদন্তে অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এ কারণে ওই অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে সেদিনের ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় (১৫ জুন) মঙ্গলবার পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ।  

সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হওয়া নিয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষের লোকজন খোঁজ খবর করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা।  

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, পাবনা গণপূর্ত বিভাগে ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রবেশের ঘটনা জানার পরই বিষয়টি নিয়ে সর্বপ্রথম জেল আইন শৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করা হয়। সেই ঘটনার বেশ কয়েকদিন পরে ওই দিনের ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ছবি ভাইরাল হয়। সেদিনের ওই ঘটনার পরে এখনো গণপূর্ত বিভাগের কোনো কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট থানাতে লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে এ ঘটনার সিসিটিভির ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে পুলিশ নিজ উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালে তাদের ঠিকাদারদের প্রদর্শিত অস্ত্রও জব্দ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় প্রদর্শিত অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছি।

তিনি আরো বলেন, ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয় কেবল জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে। সরকারি দপ্তরটিতে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে যাওয়াতে জানমালের ক্ষতি হবার কোনো আশঙ্কা ছিল না। তবে তাদের সঙ্গে তাদের সমর্থিত বেশ কিছু লোকজন ছিল। অস্ত্রের মালিকরা সেখানে অস্ত্র বহনের যৌক্তিক কোনো কারণ দেখাতে পারেননি।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ তাদের তদন্ত রিপোর্ট আমাদের কাছে পাঠিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাজী ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন এবং জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে গণপূর্ত ভবনে আসেন। প্রবেশকারীরা অফিসের বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে খুঁজতে থাকেন। তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কক্ষে যান এবং কিছুক্ষণ পর বের হয়ে যান। লিখিত অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনা তদন্তে নামে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন হলে, জেলা জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ করে।

** থানায় অস্ত্র জমা দিলেন গণপূর্তে প্রবশেকারী ঠিকাদাররা
** পাবনায় গণপূর্ত অফিসে অস্ত্র হাতে ঠিকাদার

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৪ ঘণ্টা, জুন ১৫, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa