ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৪ মে ২০২৪, ১৫ জিলকদ ১৪৪৫

আন্তর্জাতিক

যেসব কারণে ব্যর্থ হতে পারে ২০১৬

রাজিউল হাসান, নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৫৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১, ২০১৬
যেসব কারণে ব্যর্থ হতে পারে ২০১৬

ঢাকা: পুরোনকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরে পা রেখেছে বিশ্ব। নতুন দিনের হাতছানি সবার সামনে।

বিশ্বের প্রতিটা মানুষেরই চাওয়া, ২০১৬ সাল হোক অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে সাফল্যমণ্ডিত। আশা দেখাচ্ছে সম্ভাবনাও।

বিশেষজ্ঞরা তারপরও বলছেন, কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো এ বছরটিকে অতীতের যেকোনো বছরের চেয়ে ব্যর্থ করে দিতে পারে। এর মধ্যে তেলের অব্যাহত দরপতন, চীনা অর্থনীতি, বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাত উল্লেখযোগ্য। তবে এসব বিষয়ে কোনো বিপর্যয় দেখা না দিলে ২০১৬ সাল অতীতের যেকোনো বছরের চেয়ে সফল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তেলের দরপতন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দরপতন অব্যাহত থাকলে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০ ডলারেও (১ হাজার ৫৭৪ টাকা) নেমে যেতে পারে। আর এ ঘটনা যদি ঘটে, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সৌদি আরবসহ ওপেকভুক্ত রাষ্ট্রগুলো। বিশেষ করে, সৌদি আরবের জাতীয় আয়ের ৯০ শতাংশ আসে তেল বিক্রির অর্থ থেকে। তেলের অব্যাহত দরপতনে ২০১৫ সালের বাজেটে দেশটিকে ৯৮ বিলিয়ন ডলারের (৭ লাখ ৬৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা) ঘাটতি দেখতে হয়। নতুন বছরের বাজেট ঘোষণায় ঘাটতি ধরা হয়েছে ৮৪ বিলিয়ন ডলার (৬ লাখ ৮২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা)। আর তেল বিক্রি থেকে জাতীয় আয় ধরা হয়েছে ৭৩ শতাংশ। তবে এসব হিসাব তখনই কাজে আসবে, যখন তেলের দর ব্যারেল প্রতি ৪০ ডলার (৩ হাজার ১৪৮ টাকা) থেকে ৫০ ডলারের (৩ হাজার ৯৩৫ টাকা) মধ্যে থাকবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দর আরও কমে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। পরমাণু চুক্তি সম্পাদনের সঙ্গে সঙ্গে ইরান ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, এক বছরের মধ্যে তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করবে তারা। ২০১২ সালের হিসাবে দেশটির দৈনিক উৎপাদন ছিল পাঁচ লাখ ব্যারেল। এছাড়া মার্কিন শেল তেলের প্রসার, বাজার ধরে রাখতে সৌদি আরবের একগুঁয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে চলা এ পণ্যের দরপতনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর সত্যিই যদি এর দর ২০ ডলারে নেমে যায়, তাহলে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হবে তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোকে।

চীনা ধস
২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট হঠাৎ করেই চীনা শেয়ার মার্কেটে ধস দেখা দেয়। আর এর প্রভাবে ওইদিন বিশ্বের প্রতিটা বড় মার্কেটেই সূচকের পতন রেকর্ড গড়ে। এটুকুতেই বোঝা যায়, বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব কতোটুকু।

একদিকে চীনা মুদ্রার মান কমে যাওয়া ও অর্থনীতির সংকোচন, অপরদিকে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি শিল্পায়ন, রিয়াল এস্টেট ব্যবসার ব্যাপক প্রসার দেশটির অর্থনীতিকে ঝুঁকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর চীনা অর্থনীতিতে যদি ফের ২৪ আগস্টের মতো কোনো ধস দেখা যায়, তার পরিণাম যে ভালো হবে না, তা যে কেউ বুঝতে পারবেন।

প্রসারমান বাজারের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া
গত ১৬ ডিসেম্বর সুদের হার ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৫০ শতাংশের মধ্যে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ। তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক হলেও তা একটা পর্যায়ে প্রসারমান বাজারকে দেউলিয়া করে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বেশ কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিনে লাগার্দে সতর্ক করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধি উন্নয়নশীল বিশ্বে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি প্রসারমান বাজারে অনেক প্রতিষ্ঠানই দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে।

ক্রম বর্ধমান সংঘাত
গত এক দশক ধরেই বিশ্বব্যাপী সংঘাত বেড়ে গেছে। আর তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এসব সংঘাতের কারণে ২০১৫ সাল অতীতের যেকোনো বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নে ছয় কোটির বেশি মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিদিন ৪ হাজার ৬০০ জন মানুষ নতুন করে শরণার্থী জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অপরদিকে, শুধু সিরিয়াতেই ২০১৫ সালে নিহত হয়েছেন ৫৫ হাজার মানুষ।

২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটই বিশ্বের সামনে এসব যুদ্ধ, সংঘাত ও নিপীড়নের প্রকৃত চিত্রের কিছুটা হলেও তুলে ধরেছে। এ বছর শুধুমাত্র ইউরোপ পাড়ি জমিয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। অপেক্ষমাণ আরও ২০ লাখ মানুষ তুরস্কে অবস্থান করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ২০১৬ সালেও সংঘাত অব্যাহত থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এর অন্যতম কারণ, ইউরোপের দেশগুলো শরণার্থী আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে এরই মধ্যে অপারগতা জানাতে শুরু করেছে। কিন্তু শরণার্থী সৃষ্টি হওয়া বন্ধ হয়নি। ফলে এ সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠবে।

আরও বেশ কিছু বিষয় রয়েছে, যা ২০১৬ সালকে অতীতের যেকোনো বছরের চেয়ে খারাপ বছরে পরিণত করতে পারে। এর মধ্যে জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রসার, রুশ-তুর্কি সম্পর্ক, রুশ-মার্কিন সম্পর্ক, মার্কিন-চীন সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জঙ্গি সংগঠনগুলো যতো শক্তিশালী হবে, ততোই বিশ্ববাসীর জন্য বিপদ ঘনিয়ে আসবে। হামলা, অপহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা বাড়বে। সেই সঙ্গে রুশ-তুর্কি সম্পর্ক, রুশ-মার্কিন সম্পর্ক ও মার্কিন-চীন সম্পর্কের আরও অবনতি হলে ভৌগলিক রাজনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। এরই মধ্যে ২০১৫ সালের শেষ দিনে ন্যাটোকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে নথিভুক্ত করেছে রাশিয়া।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০১, ২০১৬
আরএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।