ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ বৈশাখ ১৪৩১, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৫

শিল্প-সাহিত্য

‘লোকজ সংস্কৃতি চর্চাতেও রাজনীতির প্রভাব’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৬
‘লোকজ সংস্কৃতি চর্চাতেও রাজনীতির প্রভাব’ ছবি: নূর-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম ঘুরে: বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি চর্চাতেও রাজনীতির প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন মুক্তিযোদ্ধা ও গীতিকার দেবব্রত বকশী বুলবুল।

বললেন, একটা সময় বিশেষ করে স্বাধীনতার আগে কিংবা পরে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন তার নিজ গতিতেই এগিয়ে চলেছে।

সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েরা সংস্কৃতি চর্চায় এসেছেন। তখন প্রতিভা থাকলেই মঞ্চে সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু এখন মান যাই হোক, মুখ ও অবস্থান থেকে মঞ্চে সুযোগ দেওয়া হয়। সম্পূর্ণটাই রাজনৈতিক হয়ে গেছে।

বর্তমানকালে সংস্কৃতি চর্চার প্রেক্ষাপট নিয়ে এভাবেই ক্ষোভের কথা জানালেন একাত্তরের এ কণ্ঠযোদ্ধা। কুড়িগ্রাম সদরে চৌধুরী পাড়ায় তার পৈতৃক বাড়ি, যেখানে সাংস্কৃতিক বলয়েই বেড়ে উঠেছেন তিনি।

সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমিনের গলার অনেক গান, ভাওয়াইয়া থেকে শুরু করে অসংখ্য গান লিখেছেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের এ গীতিকার।
শহরের শাপলা চত্বরে একটি ওষুধের দোকানে বসে কথা বলার সময় তিনি যেনো ফিরে গেলেন স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে।

বললেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত শিল্প-সাহিত্য-সংগীত। অবহেলায় আমাদের স্বতন্ত্রতা হারিয়ে যাওয়ায় নতুন প্রজন্ম পশ্চিমা সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

আক্ষেপ করে দেবব্রত বলেন, স্বাধীনতার আগে-পরে কনজারভেটিভ সময়ের মধ্যেও শিল্পচর্চা হতো। নিরেট নিজেদের সংস্কৃতি, বাঁশি, দোতরা, সারিন্দা বাজিয়ে গান গাইতেন শিল্পীরা। মা-বাবারাও শিশুদের হাত ধরে এসব অনুষ্ঠানে যেতেন। এখন সেসব নেই।
‘বিদেশি টিভি সিরিয়াল এবং আমাদের দৈন্যতা, মোবাইলে নাটক-সিনেমা দেখার সহজলভ্যতা ও মা-বাবার সংস্কৃতি বিমুখতা এবং মান সম্মত শিল্প চর্চা না হওয়াও এর কারণ’ মনে করেন তিনি।

ব্যক্তি জীবনে দুই ছেলে-মেয়ের জনক দেবব্রত সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে অবসর নিয়েছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সম্মানী নিয়ে আমি কখনও ভাবি না। ভালোবাসা থেকেই গান লিখি। এ পযর্ন্ত লেখা গানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চারশ’, রয়েছে নাটকও।

একাত্তরে ভারতের কুচবিহারে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিনোদন দিয়েছেন গান গেয়ে। সেসময় উত্তরবঙ্গ থেকে ভারতে যাওয়া শিল্পীদের নিয়ে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি পরিষদ গঠন করা হয়। যারা মাটির গান গেয়ে নিজেদের তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, আমার গান অনেকেই গেয়েছে। এখনও স্থানীয় শিল্পীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গায়। টিভি-রেডিওতেও গেয়েছেন অনেকে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে সুবীর নন্দীর গানের অ্যালবাম বের করা হয়েছে। যেখানে আমার লেখা গানও রয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দেবব্রত বলেন, শিল্পীর সন্তানরা আর শিল্পী হচ্ছেন না। জীবিকার তাগিদে পেশা পরিবর্তন করছেন। সংস্কৃতির বিকাশ ও লোকজ সংস্কৃতি লালনে রাজনৈতিক যে প্রভাব- সেটা বন্ধ করা জরুরি। আর এর প্রতি মানুষের মমত্ববোধও জাগাতে হবে। তবেই বেঁচে থাকবে বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি।

‘শিল্পকলা একাডেমি বা অন্যান্য সংগঠনেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবানরা জায়গা পান না। সংগঠনগুলোও কিছু কিছু দিবস ছাড়া এগুলো চর্চায় আগ্রহ দেখায় না। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে’।

** গাঁয়ের বধূর মনের কথা মেয়েলী গীত
** ‘নিজ সংস্কৃতি নিয়ে হীনমণ্যতা বিলুপ্তির কারণ’
** দাড়িয়াবান্ধা নেই, বিলুপ্ত বৌচি
** লোকজ সংস্কৃতিতে চলে পানের আপ্যায়ন
** বাদল দিনে নেই বৃষ্টির খনা
** বাহে শোন মোর ভাওয়াইয়া গান
** ‘আয়সাই আব্বাস গাইলেন হাঁকাও গাড়ি চিলমারী’
** আহা! সেকি সুর শিরিষের সারিন্দায়! (ভিডিও)
** হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দর এ রে...
** বাংলার প্রাণের কাছে বাংলানিউজ, সঙ্গী হোন আপনিও
** শেকড়ের সন্ধানে উত্তর জনপদে বাংলানিউজের মাহবুব ও নূর


বাংলাদেশ সময়: ১৭০২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৬
এমএ/এটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।