bangla news

জাফলংয়ের পাহাড়, পানি ও পাথর

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-০৯-১৪ ১২:৫৯:০১ পিএম

সুদৃশ্য পাহাড়চূড়া, স্বচ্ছ জল ও হরেক রঙের নুড়ি পাথরের এক অপূর্ব সমন্বয় জাফলং। যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে জীবন এখানে এসে মাথা লুকোয় একটু শান্তির খোঁজে। প্রকৃতির মায়াবী পরশে আনন্দে নেচে ওঠে মন।

সুদৃশ্য পাহাড়চূড়া, স্বচ্ছ জল ও হরেক রঙের নুড়ি পাথরের এক অপূর্ব সমন্বয় জাফলং। যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে জীবন এখানে এসে মাথা লুকোয় একটু শান্তির খোঁজে। প্রকৃতির মায়াবী পরশে আনন্দে নেচে ওঠে মন।

ঈদের ছুটিতে তাই পাহাড়, পানি ও পাথরভরা এই জাফলংয়ে মিতালি পেতেছে হাজারও পর্যটক। তিলধারণের ঠাঁই নেই কোথাও। সিলেটসহ সারা দেশ থেকে এসেছে ভ্রমণপিপাসুরা। কেউ মুঠোভরে কুড়াচ্ছে পাথর, কেউ স্বচ্ছ জলে নিজেকে সঁপে দিয়ে সাঁতরাচ্ছে, কেউ কেউ আবার চুপচাপ অবলোকন করছে পাহাড়, পাথর ও পানির কানাকানি।

‘প্রকৃতির এমন চমৎকার রূপ সত্যিই মন কেড়ে নেয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে চলে এসেছি জাফলংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।’ বললেন ঢাকা থেকে আসা পর্যটক ডা. শাহীন।

পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলধারায় পা ভিজিয়ে আপন মনে খেলছিল ছোট্ট শিশু সাহাফ। অদূরে দল বেঁধে সাঁতার কাটছিল কলেজ শিক্ষার্থী জিকু, মান্না ও তাদের বন্ধুরা। ধবধবে সাদা দুটো পাথরকণা শিরিনের দুই হাতে। কুমিল্লার সাহাফ, ঢাকার জিকু ও চট্টগ্রামের শিরিনের মতো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নানা বয়সী সব পর্যটক এভাবেই মেতে ওঠে অপার আনন্দে। পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে জাফলং। স্থানীয় লোকজন বলছেন, অন্যবারের চেয়ে এবার পর্যটক অনেক বেশি।

চট্টগ্রামের প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জাফলংয়ে এসেছেন পরিবার নিয়ে। সাইফুল বাংলানিউজকে বলেন, ‘হাত বাড়ালেই মনে হচ্ছে ধরা যাবে। পাহাড়ের দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায়। কত সুন্দর এই নদী আর পাহাড়। অথচ দুটি দেশ হওয়ায় সীমান্ত নামক বন্ধনটা সৃষ্টি করেছে বাঁধা। জাফলংয়ের এই বিষয়টাই আমাকে খুব ভাবিয়ে তোলে।’  

মেঘলা আকাশ। পরিচ্ছন্ন জলের ছোট ছোট ঢেউয়ে দুলছে ছোট্ট ডিঙি নৌকো। পর্যটকদের এপার থেকে ওপারে নিয়ে যেতে ব্যস্ত মাঝির দল। এ সুন্দর মুহূর্তগুলোকে হৃদয় দিয়ে অনুভবের পাশাপাশি ক্যামেরার ফ্রেমে বাঁধতে ভুল করছেন না কেউ। কেউ আবার উচ্ছল আবেগে নিজেকে হারিয়ে  ভুল করে ছুঁয়ে ফেলছেন জিরো পয়েন্ট। দায়িত্বরত বিডিআর সদস্যরা সতর্ক করে দিচ্ছেন তাদের।

আনন্দের মাঝে ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে পর্যটকদের। সড়কগুলোর বেহাল দশা। নৌকা ভাড়াও চড়া। নেই থাকার থাকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটারের পথ। সন্ধ্যা হয়ে গেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন সবাই। দু-তিনটি হোটেলে শ পাঁচেকের মতো লোক থাকতে পারেন। এ কারণে সূর্যাস্ত না দেখেই অনেকে ফিরতি পথ ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিয়া তুলি বাংলানিউজকে বললেন, ‘রাস্তার এবড়োখেবড়ো খানাখন্দগুলোর কারণে পর্যটকদের অনেক ভুগতে হয়। নৌকার ভাড়াটাও অতিরিক্ত। প্রশাসন এদিকে আরেকটু নজর দিলে জাফলং দেশের অনন্য একটি পর্যটন স্পটে রূপ নেবে।’

দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুস সেলিম বাংলানিউজকে জানান, পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার পর্যটকের সংখ্যাও অনেক বেশি। স্থানীয় পাথর শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বললেন, পর্যটকের কাছে দিন দিন জাফলংয়ের আকর্ষণ বাড়ছে। এখানকার পাথর, পানি ও পাহাড় সবার কাছেই ভালো লাগে।

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় ২২৩০, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-09-14 12:59:01