bangla news

বসন্ত বাতাসে, ভালোবাসার ফাল্গুনে 

হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, ফিচার রিপোর্টার | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০২-১৪ ১১:২১:৩২ এএম
চারুকলার বকুলতলায় চলছে বসন্ত বরণ উৎসব। ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল

চারুকলার বকুলতলায় চলছে বসন্ত বরণ উৎসব। ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল

ঢাকা: এবারে একই দিনে বসন্তের সূচনা আর ভালোবাসা দিবস। তাও আবার তা পড়েছে ছুটির দিন শুক্রবারে। বসন্ত আর ভালোবাসার এই সহযাত্রায় শিমুল আর রক্তপলাশ ফুটেছে প্রেম হয়ে। শহরে মেতে উঠেছে আনন্দে। দিকে দিকে চলছে বসন্ত বরণ।  

কুয়াশার আঁচল সরিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম সূর্য ভরিয়ে দিয়েছে আকাশ। নবীন প্রাণের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছে শীতের নিচে চাপা পড়া প্রকৃতিতে। উত্তরের হিমেল হাওয়া থামিয়ে দিয়ে বইছে দখিনা বাতাস। শহরে এসেছে তুমুল বসন্ত।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীজুড়ে বসন্ত বরণের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় সকাল থেকেই শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। বকুলতলা সেজেছে বাসন্তী রঙ আর ভালোবাসার সাজে।

চারুকলার বকুলতলায় চলছে বসন্ত বরণ উৎসব। ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল

সকাল ৭টায় সুস্মিতা দেবনাথ ও তার দলের কণ্ঠে ধ্রুপদী সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সুস্মিতা দেবনাথের পর সম্মিলিত নৃত্য পরিবেশন করেন পূজা সেনগুপ্তা ও তার দল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বকুলতলায় বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। গান, কবিতা আর সম্মিলিত নৃত্যে চলতে থাকে বসন্ত উদযাপন।

উৎসব প্রাঙ্গনে কথা হয় উদযাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইটের সঙ্গে। তিনি বলেন, বসন্ত উৎসব উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য হলো নগরবাসীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন যেন আরও দৃঢ় হয়। সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আমরা বাঙালি সংস্কৃতির ব্যাপারে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে চাই। তারা যেন শেকড়সন্ধানী হয়ে ওঠে। বসন্ত উদযাপন তো আমাদের অনন্য ঐতিহ্য।

চারুকলার বকুলতলায় চলছে বসন্ত বরণ উৎসব। ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল

আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দোপাধ্যায় বলেন, ঋতু উৎসবের মধ্যে বসন্ত উৎসবের মর্ম একেবারেই আলাদা। বছরের শেষ ভাগের এই উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন এক বাংলা বর্ষ উদযাপনের অপেক্ষায় থাকি। নগরে বসন্ত উদযাপন প্রতি বছর নতুন মাত্রা পায় তরুণ-যুবাদের কোলাহলে। এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়, বরং একইসাথে ভালোবাসার উৎসব আরও বেশি রঙ ছড়িয়েছে। তবে এই উৎসবে যখন মাটির কাছে ফেরার গান শুনি, তখন ভালো লাগে।

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা বলেন, বসন্ত উৎসব হয়ত অন্য অনেক দেশেই উদযাপিত হবে। কিন্তু ষড়ঋতু সবখানে এতো স্পষ্ট নয়। ঋতু বৈচিত্র্যের দেশে ভালোবাসা আর ঋতু উৎসবে এসে আমরা শপথ নিই, যেন ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এই প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করে আমরা তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারি। সম্প্রীতির বন্ধনে একে অপরকে বেঁধে রাখতে পারি।

চারুকলার বকুলতলায় চলছে বসন্ত বরণ উৎসব। ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল

নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্তা বলেন, আজ একই সঙ্গে দুটো দিবস। তার সাথে আবার ছুটির দিন শুক্রবার। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে সাক্ষাৎ বসন্ত যেন এই শহরের বুকে নেমে এসেছ। আর বসন্তের সাথে তো আমাদের খুব নিবিড় একটা সংযোগ আছেই। আমাদের ভাষা আন্দোলন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ দুটোই এই বসন্ত ঋতুতে। 

বসন্ত মানেই তো রঙ, রঙের খেলা। নিজেদের রঙিন করে উৎসবে যোগ দিয়েছেন সব বয়সের মানুষ। মেয়েরা সেজেছে বাসন্তী শাড়ির সঙ্গে হলুদ গাঁদার ফুলে, আর ছেলেরা সেজেছে আবির রঙের পোশাকে।

রং-রসে ভরা এ বসন্তের প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের প্রভাষক ও গৌড়ীয় নৃত্য শিল্পী র্যাচেল প্রিয়াংকা প্যারিস বলেন, বসন্ত মানেই তো রঙ। এই সময়ে হোলি হয়, দোল হয়, বিভিন্ন পূর্ণিমা হয়, তাদের কতো রঙ! এই যে আবিরের ছড়াছড়ি, এটাই তো বসন্ত। এই সময়টা আমাদের সবসময় রঙের মধ্যে রাখে। গাছে রঙ, মনে রঙ, সব জায়গাতে রঙ। আর এটাই তো বসন্তের স্বার্থকতা। এই রঙেই তো আমাদের প্রাণ নেচে ওঠে নতুন সুরে, নতুন ভালোবাসায়। গুঞ্জরিত হয় প্রকৃতির সাথে সাথে।

চারুকলার বকুলতলায় চলছে বসন্ত বরণ উৎসব। ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল

বসন্ত উদযাপন পরিষদের বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানের সকালের পর্বের পর বিকেলেও রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হবে সে পর্ব। 

শহর জুড়ে চলছে বসন্ত বরণ উৎসব। ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল

চারুকলা ছাড়াও ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর, উত্তরার রবীন্দ্র সরণি ও বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা) মঞ্চে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে বসন্ত বরণ উৎসব।

বাংলাদেশ সময়: ১১১৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০
এইচএমএস/এইচজে

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

ফিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2020-02-14 11:21:32