ঢাকা, শনিবার, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

ফিচার

মাদার তেরেসার জন্মশতবর্ষ

ফেরদৌস মাহমুদ | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২১ ঘণ্টা, আগস্ট ২৫, ২০১০
মাদার তেরেসার জন্মশতবর্ষ

তোমার আজকের ভালো কাজ
জনসাধারণ প্রায় ভুলে যাবে আগামীকাল;
তারপরেও যে কোনো উপায়ে ভালো কাজ করো।

বিশ্বকে দাও তোমার মাঝের সেরাটা
এবং যেটা কখনোই যথেষ্ট হবে না;
তারপরেও যে কোনো উপায়ে বিশ্বকে তোমার সেরাটা দাও।


[যে কোনো উপায়ে করো]

অনিকেত রায়হানের অনুবাদে কবিতাটি যার, বিস্ময়কর হলেও সত্যি বিভিন্ন সংকট-সমালোচনাকে উপেক্ষা করে বাস্তব জীবনেও তিনি তার সেরাটাই দিয়ে গিয়েছিলেন। দাঁড়িয়েছিলেন নানা সময়ে শরণার্থী রোগ-শোক, যুদ্ধ বা মানবিক অপমানে মুমূর্ষু মানুষের পাশে। তিনি মাদার তেরেসা। জন্মগ্রহণ করেন ২৬ আগস্ট ২০১০ সালে।

মাদার তেরেসা ছিলেন আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত একজন ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী। ১৯১৯ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর তার মা তাকে ক্যাথলিক আদর্শে লালনপালন করেন। ১২ বছর বয়সে তিনি ধর্মীয় জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৮ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করে একজন মিশনারি হিসেবে যোগ দেন ‘সিস্টার্স অফ লোরেটা’ সংস্থায়। এরপর মায়ের সাথে আর কখনও তার দেখা হয়নি।

১৯৫০ সালে কলকাতায় মাদার তেরেসা ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটিজ’ নামে একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫২ সালে যখন লোকেরা কুষ্ঠরোগীদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করতো, তিনি তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলকাতার কুষ্ঠরোগীদের পাশের দাঁড়ান। তাদের  সেবার জন্য গড়ে তোলেন একটি আশ্রয়কেন্দ্র ‘শান্তিনগর’। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তিনি দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবা করেছেন। প্রথমে ভারতে এবং পরে সারা বিশ্বে তার এ সেবামূলক মিশনারি কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষের পাশে। একাত্তরের ডিসেম্বরে মাদার তেরেসা খুলনা ও ঢাকার কয়েকটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ওখানে তিনি দেখেন পাকসেনারা কী পশুর মতো তা-ব চালিয়েছে। এসব ক্যাম্পে পাকসেনারা দিনের পর দিন বাংলাদেশী নারীদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছিল।

এসব দেখে ঢাকায় তিনি খোলেন ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটিজ’-এর একটি শাখা। তখন বেশির ভাগ যুদ্ধশিশুকে দেখা হতো ঘৃণার চোখে, তাদের ফেলে দেওয়া হতো ডাস্টবিনে। মাদার তেরেসা ওই সময় পরম মমতায় যুদ্ধ শিশুদের কোলে নিতে থাকেন। তাদের পাঠিয়ে দেন কলকাতা, ফ্রান্স ও সুইডেনে।

মাদার তেরেসা বিশ্বব্যাপী তার সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে লাভ করেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে পান ভারতের সর্বোচ্চ খেতাব ‘ভারতরতœ’। ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি প্রয়াত হন। মাদার তেরেসার মৃত্যুর সময় বিশ্বের ১২৩টি রাষ্ট্রে এইচআইভ/এইডস, কুষ্ঠ ও যক্ষ্মার চিকিৎসাকেন্দ্র, ভোজনশালা, শিশু ও পরিবার পরামর্শকেন্দ্র, অনাথ-আশ্রম ও বিদ্যালয়সহ মিশনারিজ অব চ্যারিটির ৬১০টি কেন্দ্র চালু ছিল।

এ বছরই চলছে এ মহান নারীর শততম জয়ন্তি। এ উপলক্ষে ২৫ আগস্ট বিকেলে মাদার তেরেসা কাউন্সিল প্রেসকাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজন করে ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধে মহিয়সী মাদার তেরেসার অবদান’ শীর্ষক আলোচনার। এছাড়া এ অনুষ্ঠানে রাজনীতি, সাংবাদিকতা, সমাজসেবা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৩০ জনকে মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক ২০১০ প্রদান করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম। বিশেষ অতিথি আইনমন্ত্রী ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ,  শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া, গণপূর্তমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ডা. মীর্জা জলিল, বিচারপতি হাবিবুর রহমান খান, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড.মাহফুজুর রহমান, দৈনিক ডেসটিনির নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ আল ফয়সাল ও ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান ড. গোলাম মোস্তফা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাদার তেরেসা রিসার্চ কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক গোলাম কাদের। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মাদার তেরেসা রিসার্চ কাউন্সেলের চেয়ারম্যান এন এ করিম বিদ্যুৎ চৌধুরী।

বক্তারা প্রায় প্রত্যেকেই বিশ্বব্যাপী মাদার তেরেসার বিভিন্ন সময়ে সেবামূলক কর্মকা-সহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে ঘুরে ঘুরে তার সেবা প্রদানের কথা স্মরণ করেন। স্মরণ করেন যুদ্ধপরবর্তী সময়ে যেভাবে যুদ্ধশিশুদের তিনি আশ্রয় ও সেবা দিয়েছিলেন, সেসব কথাও।

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় ২৩৫৫, আগস্ট ২৫, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa