ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ মাঘ ১৪২৮, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

সিএমপিতে ডোপ টেস্ট: চাকরিচ্যুত ৬, শনাক্ত ১১

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৮, ২০২১
সিএমপিতে ডোপ টেস্ট: চাকরিচ্যুত ৬, শনাক্ত ১১ সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম: ডোপ টেস্টে পজেটিভ এবং মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ছয় সদস্য চাকরি হারিয়েছেন। আরও ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডোপ টেস্টের বাইরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে আরও ২১ পুলিশ সদস্যকে। মোট ডোপ টেস্টে পজিটিভ ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ২৭ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ১৮ নভেম্বর) দুপুরে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যদের মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপরই তাদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হয়। মাদকসেবন ও কেনাবেচার ব্যাপারে বাংলাদেশ পুলিশ শূন্য সহিষ্ণুতা ঘোষণা করেছে। এরই অংশ হিসেবে পুলিশ হাসপাতালে নিয়মিত ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যদের শনাক্তের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। আরও বেশ কিছু পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এসবের ফল হাতে পৌঁছাবে। ডোপ টেস্টে মাদকাসক্তের প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।  

সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বাংলানিউজকে বলেন, গত এক বছরে প্রায় ২০০ জন পুলিশ সদস্যকে ডোপ টেস্ট (মাদকাসক্তি পরীক্ষা) করানো হয়েছে। ১১ জনের পজেটিভ রিপোর্ট পেয়েছি, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বাকি ৫ জনের বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  ডোপ টেস্টের বাইরে আরও ২১ জনকে বিভিন্ন অপরাধে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর মধ্যে  বিভিন্ন অপরাধ আছে। এর মধ্যে কিছু আছে ব্যক্তিগত অপরাধ। যেমন যৌতুকের মামলা, যা আদালত বা আমাদের কাছে প্রমাণিত হয়েছে। কর্মস্থলে অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকা বা  অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায়। মাদকের সঙ্গে বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ সদস্যদের মোটিভেড করার জন্য বা অপরাধে না জড়ানোর জন্য কোনো অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, পুলিশের জবটা সব সময়েই চ্যালেঞ্জের। এখানে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ থাকে। অপরাধ থেকে পুলিশ সদস্যদের দূরে রাখার জন্য প্রথমে আমরা একটা কোয়ালিটি সম্পন্ন কর্মস্থল দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা বিভিন্ন সময়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মোটিভেশনাল কথাবার্তা বলে থাকি। শাস্তির বিধান যে কঠিন, আর ব্যক্তির দায় বাহিনী কখনো নেবে না সে বার্তাটি দিয়ে থাকি। আমরা পুলিশ সদস্যদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি অপরাধ করলে কোনো ছাড় নেই। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও মনিটরিং অত্যন্ত নিবিড়। অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না।  

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৮, ২০২১
এমআই/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa