ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রামে লকডাউনেও দাফন-সৎকার সেবা দিচ্ছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন  

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৫৯ ঘণ্টা, জুলাই ৫, ২০২১
চট্টগ্রামে লকডাউনেও দাফন-সৎকার সেবা দিচ্ছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন   ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিপর্যস্ত জনজীবন। দীর্ঘ হচ্ছে আক্রান্ত ও মৃতের মিছিল।

নিকটাত্মীয়ের শেষ বিদায়ে পর্যন্ত অংশ নিচ্ছেন না স্বজনরা। এমন পরিস্থিতিতে চলমান লকডাউনেও করোনায় মৃতদের দাফন ও সৎকারে সেবা দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

করোনায় হাজারো মৃতের শেষ যাত্রায় পাশে আছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সারাদেশে করোনায় আক্রান্ত কিংবা উপসর্গে মৃতদের শেষ বিদায় জানাতে হাজির হচ্ছেন কোয়ান্টাম দাফন কার্যক্রমের স্বেচ্ছাসেবী দল। যার যার ধর্মের রীতি অনুযায়ী সম্মানের সঙ্গে মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করছেন তারা।

গত বছরে ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে সর্বধর্মীয় মানুষের শেষ যাত্রায় এই সেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।  

চট্টগ্রামে সনাতন সৎকার কার্যক্রমে ৯৯ জনকে, বৌদ্ধ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ১৮ জনকে, খ্রিষ্টান ৫ জনকে সমাধি, মুসলমান ২৫৩ জনকে দাফন সেবা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে পুরুষ ২৩৫ জন, মহিলা ১৪০ জন।  

এছাড়া ১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে সঙ্গী হয় কোয়ান্টামের স্বেচ্ছাসেবীরা। ৭৫ জনের একটি টিম কাজ করছেন সার্বক্ষণিক। মহিলা স্বেচ্ছাসেবী ২৫ জন ও ৫০ জন পুরুষ। আছে এলাকাভিত্তিক অফিস, যেখানে শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় মেডিটেশনের মাধ্যমে।


 কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম সেন্টারে দাফন-সৎকার কার্যক্রমের আহ্বায়ক দেবাশীষ পাল দেবু বলেন, কোভিড-১৯ দাফন কার্যক্রমে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান সব ধর্মের জন্যই আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। এ পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পী, কবি চিকিৎসক, সাহিত্যিক সহ বিশিষ্টজনদের পাশে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ছিল কোয়ান্টাম। আমার মুঠোফোন নম্বর (০১৭৪৩-৮২৪৬২৪) খোলা রেখেছি সবার জন্য।

চট্টগ্রাম সেন্টারের অর্গানিয়ার কো-অর্ডিনেশন এস এম সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি-নীতি মেনে আমরা দাফন বা সৎকার কার্য সম্পন্ন করছি। সারাদেশেই সুসংগঠিতভাবে সেবাদানে নিয়োজিতি আছেন স্বেচ্ছাসেবক দল।

কোয়ান্টামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছেন ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। এর মধ্যে মুসলিম ৩ হাজার ৪২৮ জন, সনাতন ৪৮৭ জন, বৌদ্ধ ২২ জন এবং সমাধি করা হয়েছে ৩৪ জনের।

প্রসঙ্গত, কোয়ান্টামের বহুমুখী সেবার মধ্যে ২০০৪ সালে রাজশাহীতে দাফন সেবা কার্যক্রম চালু হয়। ২০২০ সাল থেকে এপর্যন্ত করোনাকালে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন করোনায় মৃতদের শেষকৃত্যে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছে।

লকডাউনের মধ্যেও ফোন পাওয়া মাত্রই কর্মীরা ছুটে যাচ্ছেন হাসপাতাল, বাসা, গোরস্থান কিংবা শ্মশানে। মানবিক মূল্যবোধ থেকেই দেশের যেকোনো দুর্যোগে সাধ্যমতো সেবা দিতে প্রস্তুত কোয়ান্টাম কর্মীরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৫০ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০২১
এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa