ঢাকা, শুক্রবার, ৫ বৈশাখ ১৪৩১, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯ শাওয়াল ১৪৪৫

ক্রিকেট

‘জাতীয় দলের আগে ক্রিকেটারদের মানসিক-টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধানেই এইচপি’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (স্পোর্টস) | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৮ ঘণ্টা, মে ২৪, ২০২৩
‘জাতীয় দলের আগে ক্রিকেটারদের মানসিক-টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধানেই এইচপি’

একাডেমি ভবনের ঠিক সামনের সিঁড়িতে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালেন ক্রিকেটাররা। তাদের ক্যামেরাবন্দি করা হলো, এরপর তারা আবার চলে গেলেন ভবনের ভেতরে।

সারি হয়ে যেসব ক্রিকেটাররা দাঁড়ালেন, তাদের বেশির ভাগের মুখগুলোই চেনা।  

জাতীয় দলের আশেপাশে থাকা তরুণ ক্রিকেটারদেরই ডাকা হয় হাই পারফরম্যান্সে। এবারের ক্যাম্পের যাত্রা শুরু হয়েছে বুধবার। এদিন নতুন কোচ ডেভিড হেম্পের সঙ্গে প্রাথমিক আলাপ হয়েছে ক্রিকেটারদের। পরে কোচের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবির এইচপি প্রধান নাঈমুর রহমান দুর্জয়। তিনি জানান, ক্রিকেটারদের টেকনিক্যাল ও মানসিক সমস্যা দূর করাই লক্ষ্য এইচপির। এবার ক্যাম্পের সঙ্গে থাকবেন ক্রীড়া মনোবিদ ডেভিড স্কটও।

মিরপুরে সাংবাদিকদের দুর্জয় বলেন, ‘আমরা সবাই জানি এইচপিটা জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করার জায়গা। তো জাতীয় দলে গিয়ে আমরা যে সমস্যাগুলো মোকাবেলা করি, সেটা খেলোয়াড়দের মানসিক হতে পারে, টেকনিক্যাল হতে পারে। সেই জিনিসগুলো যেন জাতীয় দলে গিয়ে আমাদের মোকাবেলা করতে না হয়। খেলোয়াড়দের যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাওয়া উচিত, সেগুলো দেওয়ার জন্যই এসবের সঙ্গে পরিচিত করা হয়েছে। ’

এবার এইচপির ব্যাটিং ও হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ডেভিড হেম্পকে। বারমুডার হয়ে ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। গ্লামোরগন, ফ্রি স্টেট ও ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে দীর্ঘদিন ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলা হেম্প দুই বছরের চুক্তিতে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কাজ করবেন এইচপি নিয়ে। লম্বা সময়ের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়ার কারণও জানান দুর্জয়।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা থেকে এটা আসা। একজন কোচের অধীনে যত বেশিদিন থাকবে ওদের (ক্রিকেটারদের) বোঝাপড়াটা ভালো হয়। ওই খেলোয়াড় সম্পর্কে কোচের ধারণাটা ভালো হয়। কোচের সঙ্গেও বোঝাপড়াটা ভালো হয়। যে কারণে দুই বছরের জন্য ডেভিড হেম্পের সঙ্গে চুক্তি করেছি। ’

বাংলাদেশে হাই পারফরম্যান্স ক্যাম্প হচ্ছে অনেকদিন ধরেই। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের ক্যাম্প করার পর উন্নতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কয়েকজন ক্রিকেটার সুযোগ পান জাতীয় দলেও। দুর্জয় বলছেন, উন্নতি নির্ভর করে ক্রিকেটারদের ওপর।

সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘সবকিছু নির্ভর করছে খেলোয়াড়দের ওপর। আমার বা আমার কমিটির কাজ হলো সাপোর্টগুলো দেওয়া। তাদের যে জিনিসগুলো প্রয়োজন সেগুলো সরবরাহ করা। তবে মূলত যেসব খেলোয়াড় এইচপি থেকে জাতীয় দলে উঠে আসছে, বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়।  আমরা ৭-৮ জন খেলোয়াড় দেখি যারা এইচপির মধ্য দিয়ে উঠে আসছে। ’

‘আসলে পুরো ব্যাপারটি খেলোয়াড়দের। যারা সুযোগ কাজে লাগিয়ে উন্নতি করতে পারে, ভালোভবে প্রস্তুত করতে পারে। যত ভালোভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবে ততই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো। তারাই জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এটা আমাদের কিছু না, পুরোটাই খেলোয়াড়দের। ’

এ সময় কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও বলেন দুর্জয়, ‘আমি এখনো মনে করি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবকিছু পারিনি, কারণ আমাদের অবকাঠামোতে কিছু গ্যাপ আছে। যেমন গ্রাউন্ডস, ইনডোর, জিম। বৃষ্টির মৌসুমে আমাদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়। একইভাবে এইচপির প্রোগ্রামটাও আমাদের বৃষ্টির মৌসুমে করতে হয়। ’

‘খেলোয়াড়েরা ব্যস্ত থাকে জাতীয় লিগ, আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট, বিপিএল, ডিপিএল অনেক কিছু খেলতে হয়। ওই সময় কিন্তু আমরা প্রোগ্রামগুলো করতে পারি না। বিশেষ করে স্কিল ট্রেনিং করা যায় না। বৃষ্টির মৌসুমে করতে হয়। এ কারণে আমাদের আরও কিছু অবকাঠামো উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে ইনডোর, জিম। ’

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৯ ঘণ্টা, মে ২৪, ২০২৩
এমএইচবি/এমএইচএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।