ঢাকা, শনিবার, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

আদালত

‘হেলমেটের কারণে তাদের শনাক্ত করা যায়নি’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬৫৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩১, ২০১৭
‘হেলমেটের কারণে তাদের শনাক্ত করা যায়নি’ সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য (ফাইল ফটো)

ঢাকা: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর জন্য বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ সদস্যদের দায়ী করা হলেও হেলমেটের কারণে তাদের শনাক্ত করা যায়নি।

হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহর তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপনের পর মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটি আজকে হাইকোর্টে দাখিল হয়েছে।

৬৫ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার এক পৃষ্ঠার আনুষঙ্গিক কাগজপত্র। সেখানে এ মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত সকল পক্ষকে (মিল কর্তৃপক্ষ, আসক, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, এমনকি বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারপতি) সরবরাহ না করার কারণে আদালত সেটি প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন’।

‘প্রতিবেদনটি সকল পক্ষকে সরবরাহ না করার কারণে আদালত আগামী ০৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পেপারবুক সেকশনকে সরববরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। আর ০৭ ফেব্রুয়ারি এটি যথারীতি আসবে’।
 
মোতাহার হোসেন বলেন, ‘একনজরে প্রতিবেদনের মতামত অংশে আমরা যেটি দেখেছি, সেখানে দেখা যাচ্ছে, আগুন লাগানোর ঘটনায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং দু’জন পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবি সদস্য সম্পৃক্ত ছিলেন’।
 
‘তবে প্রতিবেদনে তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। কারণ, তারা হেলমেট পরা অবস্থায় ছিলেন। এমনকি ভিডিওটি অনেক দূর থেকে ধারণ করা। এ কারণে তদন্ত কমিটি এটি ডিটেক্ট (নাম শনাক্ত) করতে পারেননি। এমনকি ওইদিন যারা ডিউটি করেছেন, তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদেও নাম শনাক্ত করতে পারেননি’।
 
আগুন দেওয়ার ঘটনার দিন কারা ডিউটিতে ছিলেন তাদের তালিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই দিন যারা কর্মরত ছিলেন, তাদের তালিকা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে কমিটির পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছিলো। ওই ঘটনায় আরেকটি তদন্ত কমিটি যেহেতু এর মধ্যে কাজ করছেন, ওই  তালিকা সেখানে সরবরাহের কারণে এখানে তা করতে পারেননি এসপি’।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সাজু।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ ০৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সকল পক্ষকে এ প্রতিবেদন সরবরাহ এবং প্রতিবেদনের বিষয়ে ০৭ ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
 
হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহর ওই তদন্ত প্রতিবেদন রোববার (২৯ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা হয়েছে বলে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে, ‘প্রতিবেদনের মতামত অংশে বলা হয়েছে, সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর জন্য স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য দায়ী’।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রদর্শিত ভিডিওক্লিপ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, কিছু পুলিশ সদস্য এবং দু’জন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। আরো কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাড়িয়ে ছিলেন, যারা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহন করেননি। তবে তারা আগুন নেভানোর চেষ্টাও করেননি’।

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত কি-না বা কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

১৫ দিনের মধ্যে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়।
 
রিট আবেদনকারীদের এক সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।
সাঁওতালদের জান-মাল রক্ষা, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে একটি রিট দায়ের করা হয়। অন্যদিকে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় কমিশন চেয়ে গত বছরের ২১ নভেম্বর দ্বিতীয় রিটটি আবেদন করেন আহত দ্বিজেন টুডোর স্ত্রী অলিভিয়া হেমভ্রম ও গণেশ মুরমোর স্ত্রী রুমিলা কিসকুর পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।

বাংলাদেশ সময়: ১২৫৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩১, ২০১৭
ইএস/এএসআর

** সাঁওতালপল্লীতে আগুনের ঘটনায় প্রতিবেদন নিয়ে আদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa