ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯, ১১ আগস্ট ২০২২, ১২ মহররম ১৪৪৪

বইমেলা

বইমেলায় তরুণদের প্রত্যাশা আরো একটু বেশি

ফিচার রিপোর্টার | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫১ ঘণ্টা, মার্চ ২, ২০২২
বইমেলায় তরুণদের প্রত্যাশা আরো একটু বেশি ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল

ঢাকা: করোনাকালীন হলেও অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের বইমেলা একটু বেশি নান্দনিক। তবে এর মধ্যেও আরো কিছু প্রত্যাশা বই মেলার তরুণ পাঠকদের।

তারা চান আরেকটু গোছানো, আরো একটু নান্দনিক, আর বইয়ের মানের উপর আরো একটু যত্ন।

বুধবার (২ মার্চ) অমর একুশে বইমেলা ঘুরে বিভিন্ন তরুণ পাঠকের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। মেলার প্রতি ভালোবাসা, একটি আন্তর্জাতিক মেলা এবং মেলার মধ্য দিয়ে নতুন প্রাণ খুঁজে পাওয়া যায় বলেই তাদের এমন প্রত্যাশা বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে তরুণ বইপ্রেমী আকাশ রহমান বলেন, প্রতিটি বইয়ের লেখার মান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এরসঙ্গে বইয়ের চাকচিক্য, কাগজের মান, প্রচ্ছদ, ছাপা, সম্পাদনা, বানানসহ অন্যান্য বিষয়গুলোর প্রতি আরো বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত প্রকাশকদের। কেননা পাঠকরা নতুন লেখকের বই কেনেন প্রথমে বইয়ের বাহ্যিক অঙ্গসজ্জার দিকটা মাথায় রেখে। সেদিক থেকে এই বিষয়গুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

নাজনিন নাহার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। বছরের অন্য সময় এই মেলার জন্যই অপেক্ষা থাকে আমাদের। এই মেলা বাংলাদেশকে পরিচিত করেছে বিশ্বব্যাপী। তাই একে ঘিরে আমাদের প্রত্যাশাও বেশি।

তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা শারীফ অনির্বান বলেন, বইমেলা ভালোলাগার জায়গা। সেখান থেকেই এটি আমাকে এখানে টেনে নিয়ে আসে। এখান থেকে বই সংগ্রহ করতে পারি ঘুরে ঘুরে। তবে বইমেলাকে আরেকটু সিস্টেমেটিক, ম্যাপটা আরো একটু সুন্দর করে থাকা, স্টলগুলো আরেকটু নান্দনিক করা যেতে পারে। বিশেষ করে মানসম্পন্ন বই বেশি প্রকাশ করা উচিত।

তিনি করেন, এছাড়া ভ্রমণ বিষয়ক বই যারা বেশি প্রকাশ করে, তাদের জন্য একটা আলাদা চত্বর থাকতে পারে। যারা ইতিহাসের বই বেশি প্রকাশ করে তাদের জন্যও হতে পারে একটি আলাদা চত্বর। এভাবে বিষয়ভিত্তিকভাবে আলাদা আলাদা চত্বর তৈরি করা যেতে পারে।

আর মেলায় আরও বেশি মানসম্পন্ন বইয়ের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, একটা প্রকাশনী  সাধারণভাবেই অনেক বই প্রকাশ করে। তবে টাকার বিনিময়ে বই ছাপানো বন্ধ করা প্রয়োজন। এতে করে আরও ভালো মানের বই আসবে। এছাড়া প্রকাশনীরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তারা যদি নিজেদের প্রচারণাটা সেভাবে করে, তাহলে পাঠকরা ভালো বইগুলো খুঁজতে পারে।

কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল বলেন, মেলার স্টল কাঠামোর একটি ডিজাইন করা যেতে পারে। সবগুলো যেন একই ঘরনার। এমনটা হওয়া উচিত যাতে মানুষ এক বৃত্তে ঢুকে সমস্ত স্টলগুলোই সামনে থেকে ঘুরতে পারে।

বিকেলে মেলার দ্বার খুলে দেওয়ার পর থেকেই মানুষ আসতে শুরু করে মেলা প্রাঙ্গণে। এদিন ঘুরে ঘুরে বই দেখার সঙ্গে কিনেছেনও অনেকে। বাড়ি ফিরেছেন ব্যাগ ভর্তি বইয়ের সঙ্গে প্রাণচঞ্চল উচ্ছলতা নিয়ে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫১ ঘণ্টা, মার্চ ২, ২০২২
এইচএমএস/কেএআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa