ঢাকা, রবিবার, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ শাবান ১৪৪৫

বইমেলা

বই পড়লে কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না: ড. জাফর ইকবাল 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮০৬ ঘণ্টা, মার্চ ১৯, ২০২৩
বই পড়লে কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না: ড. জাফর ইকবাল 

নেত্রকোনা: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, মানুষের কল্পনা শক্তির বাড়িয়ে রাখার উপায় হচ্ছে বেশি বেশি বই পড়া। বই পড়লে মস্তিষ্কের ব্যবহার হয়।

বই পড়লে কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না। ছাত্রছাত্রীদের আনন্দময় পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষক মণ্ডলীর। কোনো শিক্ষার্থীর চিন্তা, চেতনা, মেধা, মনন কেমন তা মা বাবার চেয়ে শিক্ষকরাই বেশি জানেন। তাই একজন শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে হলে শিক্ষকদেরকে আরও যত্মবান, আন্তরিক ও দায়িত্ববান হতে হবে।

কেন্দুয়ায় রিপোর্টার্স ক্লাব আয়েজিত ‘তিনদিন ব্যাপী’ কেন্দুয়া বইমেলা -২০২৩ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. জাফর ইকবাল বলেন, আনন্দময় পড়াশোনার জন্য ইতিমধ্যে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম পদ্ধতি চালু হয়েছে। ক্রমান্বয়ে আরও বাড়াতে হবে।  

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিজ্ঞানে অজ্ঞযাত্রার কথা উল্লেখ করে এ শিক্ষাবিদ বলেন, ২০৪১ সালে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকেও শক্তিশালী হবে বাংলাদেশ। সে সময়ে সেখান থেকে বাংলাদেশে শিক্ষার জন্য ছুটে আসতে হবে। মানুষের জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করার কথা বলে জাফর ইকবাল বলেন, অন্যের জন্য কিছু করতে পারলেই নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়।

এ সময় ১৮ বছরের পরে সব শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীদের কয়েকদিন পর পর রক্ত দানের আহ্বান জানান ড. জাফর ইকবাল।  

তিনি বলেন, জীবনে প্রথম রক্ত দিয়েছি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালীন সময়ে। যেদিন প্রথম রক্ত দিয়েছিলাম সেদিন খুব ভয় পেয়েছিলাম। পরে যখন দেখলাম আমার কিছুই হয়নি এবং জানতে পারলাম আমার রক্ত টাঙ্গাইলে গেছে। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলে গিয়ে বুঝতে পারলাম এই রক্ত দিয়ে মানুষের জন্য কিছু করলে ভালো লাগে।  

কেন্দুয়ার এই কৃতি সন্তান বলেন, এতদিন কেন্দুয়ায় সময় কম দিতে পেরে অনেক ভুল করেছি। কেন্দুয়ার মাটির আলাদা একটা গুণ আছে। এখন থেকে সময় পেলেই কেন্দুয়ায় ছুটে আসব।  

প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কথা উল্লেখ করে জাফর ইকবাল বলেন, তিনি ছিলেন বহুবিদ প্রতিভার অধিকারী। তার তুলনা তিনি নিজেই। তার সঙ্গে আমার কোনো তুলনা করবেন না। আমি হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই। এটিই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।  

জেলা পরিষদ হল রুমে শনিবার (১৮ মার্চ) বিকালে রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আসাদুল করিম মামুন ও সাধারণ সম্পাদক লাইমুন হোসেন ভূঞার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল্লাহ আল মুনসুর, কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী জালাল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন, ওসি মো. আলী হোসেন পিপিএম, লোক সাহিত্য সংগ্রাহক ছড়াকার জাহাঙ্গীর আলম জাহান।  

এই মঞ্চে মো. নুরুল ইসলাম রচিত রাশেদের প্রেম ও রাজনীতি উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচন করেন জাফর ইকবাল।

এর আগে দুপুরে কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবে সুধী ও গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন তিনি।  

এ সময় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, পালানাট্যকার রাখাল বিশ্বাস, কবি আয়েস উদ্দিন ভূঞা, কবি ও ছড়াকার জিয়াউর রহমান জীবন, আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান ভূঞা, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আসাদুল করিম মুমুন ও সাধারণ সম্পাদক লাইমুন হোসেন ভূঞা।  

ওই সভায় কেন্দুয়া উপজেলা সদরে হুমায়ুন আহম্মেদ লোক সংস্কৃতি একাডেমি স্থাপনে জোর দাবি জানানো হয়। বিকালে পালাগান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট লোকসংগীতশিল্পী আব্দুল কুদ্দুছ বয়াতী।

বাংলাদেশ সময়: ০৮০০ ঘণ্টা, মার্চ ১৯, ২০২৩
এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।