[x]
[x]
ঢাকা, রবিবার, ২ পৌষ ১৪২৪, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

bangla news

মালাক্কায় টায়ার ব্যবসায় কোটিপতি রাজবাড়ীর সাইফুল

জনি সাহা, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-১২-০৭ ৬:৩৩:৪৬ এএম
দোকানে টায়ার দেখাচ্ছেন সাইফুলছবি-আসিফ আজিজ

দোকানে টায়ার দেখাচ্ছেন সাইফুলছবি-আসিফ আজিজ

মালাক্কা, মালয়েশিয়া থেকে: ‘৯২ সালে যখন মালয়েশিয়ায় আসি তখন সঙ্গে কোনো টাকা ছিলো না। এরপর টায়ারের দোকানো কাজ নেই। রাতদিন খাটাখাটনি করেছি। তবে ২০০৬ সালে মালয় এক নারীকে বিয়ের পর আমার ভাগ্যের পরিবর্তন শুরু হয়’।

বলছিলেন মালয়েশিয়ায় সফল বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মো. সাইফুল। ফরিদপুরের রাজবাড়ীর ছেলে সাইফুলের মালাক্কায় বর্তমানে টায়ারের জমজমাট ব্যবসা। ফোররং এলাকায় ৫৭ ‍হাজার বর্গমিটার জায়গা জুড়ে পরিচালনা করছেন এ ব্যবসা। মালাক্কার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পাসার বোরং থেকে বাসে সেখানে যেতে সময় লাগে আধাঘণ্টা। দাঁড়িয়ে থেকে কাজ তত্ত্বাবধান করা ছাড়াও অফিস কক্ষে বসেও সিসি ক্যামেরায় সর্বদা কাজ মনিটরিং করেন কথায় পটু এ ব্যবসায়ী।
টায়ারের গোডাউন।ছবি-আসিফ আজিজ২০১২ সাল পর্যন্ত টায়ারের দোকানে কাজ করেছেন জানিয়ে সাইফুল বলেন, ২০০৬ সালে বিয়ের পরই আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। এর মধ্যে ২০১১ সালে আমি ১৭ লাখ রিঙ্গিতে (বর্তমানে ১ রিঙ্গিত ২০ টাকা) ৫৭ ‍হাজার বর্গফুট জায়গা কিনি।এ জায়গাতেই পরিচালনা করা হচ্ছে টায়ার ব্যবসা।
 
মালাক্কায় একমাত্র বাংলাদেশি টায়ার ব্যবসায়ী সাইফুল পুরো কারখানা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়ে বলেন, ১০ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে আসলে যে কাউকেই টায়ার কিনতেই হবে, কারণ আমার এখানে সব ধরনের টায়ার পাওয়া যায়। 
টায়ারে কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে দেওয়া হচ্ছে ব্যালান্স।ছবি-আসিফ আজিজজাপান, চীন থেকে টায়ার আমদানি করেন সাইফুল। নতুন নতুন টায়ারের পাশাপাশি বাইরে থেকে আনা সেকেন্ডহ্যান্ড টায়ারও পাওয়া যায় ‘সাইফুল টায়ার সার্ভিস’ এ। রয়েছে সম্পূর্ণ কম্পিউটারাজইড পদ্ধতিতে টায়ার ব্যালান্সিংয়ের ব্যবস্থা। কারখানায় কর্মরত ১০ শ্রমিকের ৫ জন বাংলাদেশি।
 
প্রতিমাসে অন্তত তিন কন্টেনার অর্থাৎ ৮শ’ টায়ার বিক্রি করেন সাইফুল। মানভেদে প্রতিটি টায়ারে তার মুনাফা থাকে দুই থেকে তিনশ’ রিঙ্গিত। এ ব্যবসায় প্রচুর অর্থের প্রয়োজন জানিয়ে বলেন, বাজারে কমপক্ষে দুই কোটি টাকা বকেয়া।
টায়ারের গোডাউনের সামনে।ছবি-আসিফ আজিজ

রাজধানীর উত্তরখানে নিজের একটি বাড়ি রয়েছে সাইফুলের। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে বর্তমানে তার রয়েছে হ্যাচারি ব্যবসা, ইটভাটা। দেশে গেলে বাড়িতে থাকলেও কয়েকদিনের জন্য বেড়িয়ে যান রাজধানীর বাড়িতেও। অন্য সময়টায় ছোট ভাই দ্বিতল বাড়ির দেখাশোনা করেন। সম্প্রতি মালাক্কায় আরেকটি জায়গা কিনেছেন, সেখানে মিনি মার্কেট করার ইচ্ছা রয়েছে তার।
 
এছাড়াও করছেন সবজির ব্যবসা। প্রায় ১২০ বিঘা জমিতে তিনি ফলাচ্ছেন ঢেঁড়স, বরবটি, বেগুন, শসা, উস্তা, ঝিঙা। মাঠ পর্যায়ে এসব পরিচর্যা করতে কাজ করছেন অন্তত একুশ’ জন শ্রমিক। যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি।
 
বাংলাদেশিরা টায়ারের ব্যবসায় আসতে চাইলে কৌশলী এ ব্যবসায়ীর পরামর্শ- কাজ জানা থাকতে হবে, নয়তো কঠিন। প্রয়োজন অনেক টাকার। তবে বাংলাদেশিদের জন্য সাহায্যের হাত খোলাই থাকবে বলে জানান সদা হাস্যোজ্জ্বল এ ব্যবসায়ী।

** মালাক্কার মাঝরাতের পাইকারি কাঁচাবাজার

বাংলাদেশ সময়: ০৬১৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭
জেডএস/আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa