ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

bangla news

আপদকালীন বরাদ্দ চাল অসময়ে, ক্ষুব্ধ জেলেরা

সাজ্জাদুর রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৫-১৯ ১:৪৭:৩৪ পিএম
সরকারি চাল বঞ্চিত ক্ষুব্ধ জেলেরা/ছবি: বাংলানিউজ

সরকারি চাল বঞ্চিত ক্ষুব্ধ জেলেরা/ছবি: বাংলানিউজ

লক্ষ্মীপুর: মার্চ-এপ্রিল দু’মাস ইলিশের জাটকা সংরক্ষণ মৌসুম। এসময় পদ্মা-মেঘনা নদীতে সরকারিভাবে প্রতিবছর বন্ধ রাখা হয় সব ধরনের মাছ ধরা। জাটকা ধরা বন্ধ রেখে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নেওয়া হয় এ পদক্ষেপ। নির্ধারিত সময়ে মাছ না ধরায় জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল দেয় সরকার।

তবে এবার সরকারি চাল যথাসময়ে মেলেনি লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর জেলেদের। আপদকালীন চাল অসময়ে পেয়ে ক্ষুব্ধ জেলেরা।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে ৪৯ হাজার ৫৫৮জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এদের মধ্যে ২৫ হাজার ৯৪৭ জন জেলে খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন। বাকি ২৩ হাজার ৬১১ জেলে বঞ্চিত। যারা পাচ্ছেন তারাও আবার পাননি সময়মতো। উল্টো

অভাবের তাড়নায় নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরতে গিয়ে দিতে হয়েছে জরিমানা। জেলও খাটতে হয়েছে।

ক্ষুব্ধ জেলেরা বলেন, মার্চ-এপ্রিল দু’মাস মাছ ধরা থেকে বিরত ছিলাম। কিন্তু সহায়তার চাল সময়মতো পাইনি। এখন মে মাসে পাচ্ছি। এসময় তো আমাদের দরকার নেই। মেঘনাপাড়ের জেলেদের মাছ ধরতে না পারলে চুলায় হাড়ি বসে না।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় নিবন্ধিত ৭ হাজার ৫১৭ জেলের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন ৩ হাজার ২৪৫ জন, রায়পুরে ৭ হাজার ২২৩ জনের মধ্যে ৪ হাজার ১৯৬ জন, কমলনগরে ১৪ হাজার ১শ জনের মধ্যে ৭ হাজার ১শ ৪১ জন, রামগতি উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে ২০ হাজার ২১৮ জন। কিন্তু খাদ্য সহায়তার আওতায় রয়েছেন ১১ হাজার ২৬৫ জন।

জেলেদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে তারা খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পাটারিহাট ইউনিয়নের চালবঞ্চিত নিবন্ধিত জেলে আমির হোসেন, শাহজাহানসহ কয়েকজন জেলে জানান, নিবন্ধন কার্ড থাকার পরেও তাদের চাল দেওয়া হচ্ছে না।

পাটারিহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম নুরুল আমিন রাজু বাংলানিউজকে বলেন, ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬২৬ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪’শ ৬২ জন জেলের জন্য ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ এসেছে। বাকি জেলেরা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চর লরেন্স ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একেএম নুরুল আমিন মাস্টার বলেন, চর লরেন্স ইউনিয়নের ৪৮৫জন নিবন্ধিত জেলে খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত। নিবন্ধিত সব জেলেকে ভিজিএফ সহায়তার আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, ১২ মার্চ জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দের চিঠি আসে। ওই চিঠির আলোকে জেলেদের তালিকা করে চেয়ারম্যানদের ২০ মার্চের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। তারা প্রায় একমাস পর ২৪ এপ্রিল জেলেদের তালিকা জমা দেন। যে কারণে যথাসময়ে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের দাবি, নিবন্ধিত সব জেলের জন্য বরাদ্দ আসেনি। যে কারণে যাচাই-বাছাই করে জেলেদের তালিকা তৈরি করতে দেরি হয়।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এইচ এম মহিব উল্লাহ বলেন, ৪৯ হাজার ৫৫৮ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ হাজার ৯শ ৪৭ জন সুবিধা পাচ্ছেন। নিবন্ধিত সব জেলে যাতে খাদ্য সহায়তা পায় এবং মার্চ মাসের আগে বরাদ্দ দেওয়া হয় সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দু’মাস লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও চাঁদপুরের ষাটনল থেকে মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।

এসময় জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকায় খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৪০ কেজি করে চার কিস্তিতে চাল বিতরণ করার কথা সরকার।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৫ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০১৭
এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa