[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৫, ২৫ জুন ২০১৮

bangla news

লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন চাষ হুমকির মুখে!

সাজ্জাদুর রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০১-০৫ ৭:৫২:২৫ এএম
লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন চাষ হুমকির মুখে!

লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন চাষ হুমকির মুখে!

লক্ষ্মীপুর: দেশের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ সয়াবিন লক্ষ্মীপুরে উৎপাদন হয়। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আবাদ, বাম্পার ফলন, টানা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় লক্ষ্মীপুর সয়াবিনের রাজধানী হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বীজ সংকট, বীজের দাম বৃদ্ধি, চলতি রবি মৌসুমে জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকা, গত বছর কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ফসল নষ্ট ও কৃষকদের পুঁজির অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে সয়াবিন উৎপাদন।

কৃষক ও কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, গত বছর লক্ষ্মীপুর জেলায় ৫০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। ফসল কেটে ঘরে তোলার মাত্র কয়েকদিন আগে ১৯ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছয় দিনের ভারি বর্ষণে তলিয়ে যায় ফসলের ক্ষেত। এতে নষ্ট হয় কাঙ্খিত ফসল।

হিসাব করে দেখা যায়, ওই দুর্যোগে স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ২৫২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এরপর থেকে কৃষকদের পূঁজির ওপর প্রভাব পড়ে। এছাড়া, সয়াবিন পঁচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বীজ সংগ্রহ করতে পারিনি কৃষকরা। যে কারণে চলতি মৌসুমে বীজ সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারেও পর্যাপ্ত বীজ নেই। দামও অনেক চড়া।

১৬ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রবি মৌসুম। এ মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা সয়াবিনের চাষ হওয়ার কথা। কিন্তু গত ৭ ডিসেম্বর রাত থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অসময়ের তুমুল বৃষ্টিতে রবি ফসলের জমি পানিতে ডুবে যায়। এখনও জমিতে কাঁদা পানি। জমি না শুকানো পর্যন্ত লাঙ্গল দেওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে মৌসুমের প্রায় দেড় মাস শেষ। জমি শুকালে জমি চাষ দেওয়া হবে। মাটি ঝুরঝুরে হলে রোপণ। এ সময় সয়াবিন চাষ করলে ফসল ঘরে তোলার আগে বর্ষায় বৃষ্টির মুখে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে কৃষকদের সয়াবিন চাষে আগ্রহ নেই।লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন চাষ হুমকির মুখে!কৃষরা জানান, গত বছরের ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে অর্থসংকট রয়েছে। ক্ষেতেই সয়াবিন নষ্ট হওয়ায় বীজ সংরক্ষণ করা যায়নি। বীজ সংকট, বাজারে দামও বেশি। তাছাড়া মৌসুমের প্রায় দেড়মাস শেষ হলেও জমিতে লাঙ্গল দেওয়া সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে সয়াবিন উৎপাদনের পরিবেশ নেই। যে কারণে সয়াবিন চাষে  কৃষদের আগ্রহ কম।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলাল হোসেন খাঁন বাংলানিউজকে বলেন, অসময়ের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে গেছে। যে কারণে সময় মতো জমিতে চাষ দিতে পারেনি কৃষকরা। সয়াবিনের বীজ রোপণে দেরি হলে কালবৈশাখীর প্রভাবে বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে। গত বছরেও বৃষ্টিতে সয়াবিনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
 
নোয়াখালী বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মহীউদ্দীন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, সয়াবিন চাষ তীব্র সংকটের দিকে যাচ্ছে। গত বছর ৫০ হাজার হেক্টর জমির সয়াবিন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আগস্টের খরিপ মৌসুমেও বৃষ্টির কারণে সয়াবিন আবাদ করা যায়নি।

তিনি বলেন, দেশের উত্তরবঙ্গে কিছু জমিতে সয়াবিন চাষ হয়েছে। কিন্তু তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এর কারণ হিসেবে কৃষি বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন সয়াবিনের বীজের তীব্র সংকট। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সয়াবিন চাষ হুমকির মধ্যে পাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

**ফসলি জমিতে জল, লক্ষ্মীপুরে রবি আবাদ ব্যাহত!
** লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন পচে ২৫২ কোটি টাকার ক্ষতি
** লক্ষ্মীপুরে ৪০ হাজার হেক্টর জমির সয়াবিন পানির নিচে
** চারদিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, হতাশ কৃষক

বাংলাদেশ সময়: ০৭৫১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৫, ২০১৮
জিপি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa