ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ আষাঢ় ১৪২৮, ১৫ জুন ২০২১, ০৪ জিলকদ ১৪৪২

আগরতলা

প্রথমবার মুক্তা চাষ করে সফল ত্রিপুরার ২ যুবক

সুদীপ চন্দ্র নাথ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯৪২ ঘণ্টা, নভেম্বর ২১, ২০২০
প্রথমবার মুক্তা চাষ করে সফল ত্রিপুরার ২ যুবক

আগরতলা (ত্রিপুরা): প্রথমবার পরীক্ষামূলক ভাবে পুকুরের স্বাদু পানিতে মুক্তা চাষ করে বাণিজ্যিক ভাবে সফল হয়েছেন ত্রিপুরার দুই যুবক। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার রুপির ডিজাইনার মুক্তা বিক্রি করেছেন বলে বাংলানিউজকে জানান তারা।

এখনো পুকুরে কিছু ঝিনুক রয়েছে, সেগুলো থেকে আরও প্রায় দেড় লাখ রুপির মুক্তা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা।

ইউটিউবে মুক্তা চাষ করার ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হন ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার বিশালগড় এলাকার যুবক চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং ইউ কে দেববর্মা। এরপর চিত্তরঞ্জন পুকুরের পানিতে মুক্তা চাষের বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিতে যান পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কাঁথি এলাকায়। এবছরের শুরুর দিকে প্রশিক্ষণ শেষে তারা সিপাহীজলা জেলার একাধিক পুকুরে ঝিনুক চাষ শুরু করেন। চাষের ১১ মাস পর প্রথম দফায় ঝিনুক থেকে মুক্তা সংগ্রহ করেন। তাদের উৎপাদিত মুক্তা কোথায় বিক্রি করেছেন এ প্রশ্নের উত্তরে চিত্তরঞ্জন জানান, পশ্চিমবঙ্গের যে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে তারা চুক্তি করে ত্রিপুরা রাজ্যে মুক্তা চাষ শুরু করেছেন, তারাই মুক্তাগুলো কিনে নিয়েছে। এখনো আরেকটি পুকুরে ঝিনুক রয়েছে। এগুলো ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ উপযোগী হয়ে যাবে এবং এ মুক্তা বিক্রি করলে আরও দেড় লাখ রুপি পাওয়া যাবে বলেও জানান। প্রশিক্ষণ, ঝিনুক চাষের সামগ্রী কেনাসহ অন্যকিছু মিলিয়ে তাদের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার রুপি খরচ হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রথম বছরই প্রায় ৫০ হাজার রুপি লাভ থাকায় খুশি চিত্তরঞ্জন এবং দেববর্মা।

অপরদিকে, দেববর্মা বাংলানিউজকে জানান, ত্রিপুরা রাজ্যে তারা অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের খরচে মুক্তা চাষ শুরু করেছেন। প্রথম বছরই সাফল্য এসেছে। আগামী দিনে আরও ব্যাপক ভাবে মুক্তা চাষ করতে চান তারা। তবে তাদের এ কাজে যদি সরকার বিশেষ করে মৎস্য দপ্তর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তবে তারা আরও ভালো ভাবে মুক্তা চাষ করতে পারবেন।

তিনি জানান, এ কাজে সরকার এগিয়ে এলে শুধু তারাই নন, ত্রিপুরা রাজ্যের অন্য বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান হবে এবং রাজ্যের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি মুক্তা চাষ করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছে তারা প্রায় সবকটি ডিজাইনার মুক্তা উৎপাদন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ছবি, যা মূলত রকেটে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও পরীক্ষামূলক ভাবে তারা কয়েকটি গোলাকৃতি এবং লম্বাকৃতির মুক্তা উৎপাদন করেছেন। তবে তাদের মূল লক্ষ্য হলো ডিজাইনার মুক্তা উৎপাদন করা। কারণ বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বে এ ধরনের মুক্তার চাহিদা রয়েছে। সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে ত্রিপুরার এ দুই যুবক প্রথম পুকুরের পানিতে মুক্তা চাষ শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৪২ ঘণ্টা, নভেম্বর ২১, ২০২০
এসসিএন/এফএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa