bangla news

সিএবি ঘিরে অগ্নিগর্ভ ত্রিপুরা, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১২-১০ ৭:৫০:৩২ পিএম
সিএবি ঘিরে অগ্নিগর্ভ ত্রিপুরা। ছবি- বাংলানিউজ

সিএবি ঘিরে অগ্নিগর্ভ ত্রিপুরা। ছবি- বাংলানিউজ

আগরতলা (ত্রিপুরা): ভারতের ত্রিপুরায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) কার্যকর না করার দাবিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক হরতাল, বিক্ষোভ ও অবরোধ। 

এ ইস্যুতে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাজ্য জুড়ে অনির্দিষ্টকালের হরতালে নেমেছে রাজনৈতিক দল ‘জয়েন্ট মুভমেন্ট অ্যাগেইন্সট সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল কমিটি’ (আইএনপিটি)। গতকাল সোমবার (৯ ডিসেম্বর) থেকে এ হরতাল শুরু হয়। 

অন্যদিকে ‘নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন’র উদ্যোগে সমগ্র উত্তর পূর্ব ভারত জুড়ে ১২ ঘণ্টার হরতালের অংশ হিসেবেও ত্রিপুরায় হরতাল পালন করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

এদিন হরতাল সমর্থকরা আগরতলার আস্তাবল ময়দানের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে ভিআইপি সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশের দীর্ঘ চেষ্টায় তারা সড়ক ছেড়ে দেয়। 

অপর দিকে পশ্চিম জেলার চম্পকনগর থানাধীন সাধুপাড়া এলাকার ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে পিকেটিররা। এসময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়। এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন জনজাতির পুরুষ-নারী নির্বিশেষে অংশ নিয়েছে। 

হরতাল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যাতে কোনো ধরনের অশান্তির না ঘটে তার সতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন অবরোধ স্থলে প্রচুর পুলিশ ও আধা সেনাবাহিনী নিযুক্ত রয়েছে। 

অনির্দিষ্টকালের হরতাল প্রসঙ্গে আইএনপিটি'র সাধারণ সম্পাদক জগদীশ দেববর্মা জানান, তাদের হরতাল কতো দিন দিন চলবে তা নির্ভর করছে ভারত সরকার, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর। তারা যদি উত্তর-পূর্ব ভারত, বিশেষ করে ত্রিপুরার জনজাতি অংশের মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এ রাজ্যকে সিএবি থেকে বাদ দেয়, তবে হরতাল তুলে নেওয়া হবে। সরকার তাদের দাবি মানার সঙ্গে সঙ্গেই হরতাল প্রত্যাহার করা হবে। 

এদিকে হরতাল ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উত্তর, ধলাই ও সিপাহীজলা জেলার একাধিক জায়গায় পুলিশ ও হরতাল বিরোধীদের সঙ্গে পিকেটারদের সংঘর্ষ হয়। এতে করে অনেকেই আহত হয়েছেন। বেশ কিছু জায়গায় বাধ্য হয়ে কাঁদানে গ্যাস ও শূন্যে গুলি ছোড়ে পুলিশ। 

সার্বিক এ পরিস্থিতিতে ত্রিপুরা সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর ৪৮ ঘণ্টার জন্য রাজ্য জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। 

ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে এ ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের সহসভাপতি পিযুষ বিশ্বাস বলেন, রাজ্য সরকার আইনশৃঙ্খলা পালনে ব্যর্থ। তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করতে পারে, তবে দাঙ্গার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। এভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরো আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এছাড়া ইন্টারনেটভিত্তিক যে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে তারাও তীব্র ক্ষতির মুখে পড়বে। 

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯
এসসিএন/এইচজে 

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-12-10 19:50:32