ঢাকা, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২২ মে ২০২৪, ১৩ জিলকদ ১৪৪৫

বাণিজ্যমেলা

তবুও নজর কাড়ছে তরুণীদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২২৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৯, ২০১৪
তবুও নজর কাড়ছে তরুণীদের ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মেলা প্রাঙ্গণ থেকে: প্রকৃতির রুপকে অনিন্দ্য সুন্দরে সাজিয়ে তোলে নানা রঙের ফুল। ফুলের প্রতি মানুষের আকর্ষণের কথা  তাই নতুন করে বলার কিছু নেই।


 
রোববার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ঘুরেফিরে চোখে পড়লো তেমন দৃশ্যই। হোক না প্লাস্টিকের তৈরি কৃত্রিম ফুল, তাতে বিন্দুমাত্র বাদ সাধছে না বাণিজ্য মেলায় ঘুরতে আসা তরুণ-তরুণীদের আকর্ষণ।

এ আকর্ষণের কারণেই হয়তো বাণিজ্য মেলার ফুলের দোকানের দিকে ছুটে যাচ্ছেন তারা। তবে ফুল কিনতে তরুণদের থেকে তরুণীদেরই আগ্রহ বেশি।

ভ্রাম্যমাণ ফুল বিক্রেতার কাছ থেকে ‍কৃত্রিম ডালিয়া ফুলের ক্রেতা হলিক্রস কলেজর ছাত্রী মিথিলা ‘ যদি জোটে একটি পয়সা খাবার কিনিও ক্ষুধার লাগি। যদি জোটে দুইটি পয়সা, ফুল কিনে নিও হে অনুরাগী। ’ এ চরণ দু’টি উল্লেখ করে বাংলানিউজের কাছে প্রকাশ করলেন ফুলের প্রতি তার আকর্ষণের মাত্রা।
 
বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, কৃত্রিম ফুলের দোকানের পাশাপাশি কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাও ফুল বিক্রয় করছেন।
 
এ সব ফুলের মধ্যে রয়েছে কনকচাঁপা, নাইট কুইন, ডালিয়া, জাপানি সাকুরা, টিউলিপ, সাই-অর্কিড, তিন কদম, তিন গাদা, চেরিস্টিক, কাশফুল স্টিক, জিনিয়া, আট কদমসহ প্রায় ২০ প্রকারের ফুল।
 
৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় এ সব ফুল বিক্রি হচ্ছে দোকানগুলোতে। কনকচাঁপা, নাইট কুইন, ডালিয়া, জিনিয়া, টিউলিপ ফুল ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ২০ টাকায়।
 
বাণিজ্য মেলায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য কেন্দ্র থেকে একটু পশ্চিম দিকে কৃত্রিম ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছে বোরহান ট্রেডার্স।
 
বোরহান ট্রেডার্সের মালিক বোরহান জানান, দোকানে তিনি সিঙ্গেল, স্টিক ও তোড়ায় ২০ রকমের ফুল বিক্রি করছেন।
 
বিক্রি কেমন হচ্ছে প্রশ্ন করতেই হাসিমুখে তিনি বলে উঠলেন, খুব ভালো। তবে ছুটির দিন বেশি বিক্রি হয়। কারণ ছুটি থাকলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেলায় ঘুরতে আসেন। ফুলের প্রতি তাদের আকর্ষণও বেশি।
 
বোরহান ট্রেডার্স থেকেই জিনিয়া ও টিউলিপ ফুল কেনেন রামপুরা থেকে ঘুরতে আসা রামপুরা একরামুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী বিথী আক্তার। বিথী বলেন, ‘আমি ফুল খুব ভালোবাসি। এজন্য  প্রতিটি বিশেষ দিনেই আব্বু আমাকে ফুল কিনে দেন। এছাড়া আমি নিজেও ফুল কিনি। ’
 
রোববারই প্রথম মেলায় ঘুরতে এসেছেন উল্লেখ করে বিথী বলেন, মেলায় এসেছি ঘুরে ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে। মেলা থেকে শুধু ফুল কিনবো অন্য কিছু কিনবো না।
 
ভ্রাম্যমাণ ফুল বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই দিন অফিস ছুটির পর আজ অফিস খুলেছে। যে কারণে খুব একটা ভিড় হয়নি। তাই বিক্রয়ের পরিমাণও আজ (রোববার) কম।
 
ফুল কিনতে কারা আসছেন জানতে চাইলে রফিকুল বলেন, অল্প বয়সের ছেলেমেয়েরাই ফুল কিনছে। এরমধ্যে স্কুল কলেজের মেয়েরা সব থেকে বেশি ফুল কেনেন। তবে মধ্যবয়সীরাও পিছিয়ে নেই।
 
ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ফুল বিক্রেতা আনোয়ার। তিনিও রফিকুল ইসলামের মতোই প্রতিটি ফুল বিক্রয় করছেন ২০ টাকায়।

শুক্র ও শনিবার তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফুল বিক্রয় করেছেন বলে জানান। তবে রোববার ৪টা পর্যন্ত ২ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়েছে তার।

এভাবে বাণিজ্য মেলায় চলছে ফুলের বিকিকিনি।
 
বাংলাদেশ সময়: ২২২৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৯, ২০১৪
সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর (অ্যাক্ট.)

*
মেলায় সংসার গুছিয়ে নেওয়ার অফার

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।