bangla news

একদিনেই অচেনা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

সুনীল বড়ুয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৩-১৯ ৪:৩৩:৩৯ পিএম
একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

কক্সবাজার: বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে সাগরে স্নান, বালিয়াড়িতে দৌড়ঝাঁপ, আড্ডা, দীর্ঘ চেয়ারের সারি ও চিরচেনা দৃশ্যের কিছুই নেই এখন। একদম থেমে গেছে প্রাণের কোলাহল। সৈকতে এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে সৈকতে জনসমাগম এবং আশপাশে সভা-সমাবেশ আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। এরপর থেকে ফাঁকা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে টুরিস্ট পুলিশ, লাইফগার্ড এবং দায়িত্বশীল কয়েকজন মানুষ ছাড়া কোনো পর্যটকের দেখা মেলেনি।

সাংবাদিক কামরুল ইসলাম মিন্টু বাংলানিউজকে বলেন, ‘পেশাগত কারণে দুর্যোগকালীন বিভিন্ন সময়ে সৈকতে কাজ করতে যেতে হয়। কিন্তু যা দেখলাম, তা সত্যিই বিরল। আমার জীবনে সৈকতের এমন দৃশ্য এ প্রথম দেখলাম। কোনো পর্যটক তো নেই, সৈকতে কথা বলার মতো লোকজন নেই।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বলছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সারাবিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। বাংলাদেশেও এর সংক্রমণ বাড়ছে। ঝুঁকি থাকায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দলবেঁধে পর্যটক আসা ঠেকাতে কক্সবাজারের প্রবেশমুখ চকরিয়ায় পুলিশের চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ অবস্থা বজায় থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা বাংলানিউজকে বলেন, ‘আগে সবার জীবন বাঁচাতে হবে। প্রতিদিনই সমুদ্র সৈকতে এক জায়গায় অনেক পর্যটকের সমাগম হয়। করোনা ভাইরাস যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ তাই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। সংক্রমণ ঠেকাতে সাগরে পর্যটক আসায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, সৈকত ছাড়াও ইতোমধ্যে সব পর্যটন স্পট, আশপাশের এলাকা এবং হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউসে সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ জনসমাগম হয় এমন আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে ইতোমধ্যে চারজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। লোকজনের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ঘরে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিদেশফেরতদের অবশ্যই ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হচ্ছে।’

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার তিনেক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করলেও নিষেধাজ্ঞার পর অনেকে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে কক্সবাজার ছেড়ে গেছেন। যে কারণে এখানকার প্রায় চার শতাধিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস এখন ফাঁকা হয়ে গেছে।

তবে এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে। তারা বলছেন, করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে। দ্রুত বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা। বাংলাদেশেও সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। তাই কক্সবাজারে এ দুর্যোগ ঠেকাতে পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি জরুরি।

এদিকে সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটক সমাগম প্রতিরোধে কাজ করছে কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ। বুধবার বিকেলে নিষেধাজ্ঞার খবর আসার পরই সৈকত থেকে পর্যটকদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে বৃহস্পতিবার পাল্টে গেছে সৈকতের চেহারা।

কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফখরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ। মাইকিংয়ের পাশাপাশি সমুদ্র সৈকতে লোকসমাগম যাতে হতে না পারে, সেজন্য টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘বুধবার বিকেল পর্যন্ত কয়েকজন পর্যটক সৈকতে নামলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিশেষ করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সমুদ্র সৈকত পুরোটাই ফাঁকা হয়ে গেছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৩ ঘণ্টা, মার্চ ১৯, ২০২০
এসবি/এফএম

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   কক্সবাজার করোনা ভাইরাস
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পর্যটন বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2020-03-19 16:33:39