ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৩ সফর ১৪৪২

বছরজুড়ে দেশ ঘুরে

গাইড থেকে ট্যুর অপারেটর

মবিনুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০৪৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৬
গাইড থেকে ট্যুর অপারেটর মিজানুর রহমান | ছবি- দেলোয়ার হোসেন বাদল

বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে মংলা বন্দরে টুকটাক কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর নানান জায়গায় নানান রকমের কাজ। কোনো কাজেই না নেই তার। জীবন-জীবিকার তাগিদে যখন যে কাজ পেয়েছেন, তাই করেছেন তিনি।

মংলা, বাগেরহাট থেকে: বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে মংলা বন্দরে টুকটাক কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর নানান জায়গায় নানান রকমের কাজ।

কোনো কাজেই না নেই তার। জীবন-জীবিকার তাগিদে যখন যে কাজ পেয়েছেন, তাই করেছেন তিনি।

বিশ বছর আগে একটি ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানে গাইডের কাজ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে এ পেশায় মনোনিবেশ করেন। ১২ বছরের মাথায় গাইড থেকে হয়ে যান ট্যুর অপারেটর। সুন্দরবন ভ্রমণের ক্ষেত্রে মংলা পোর্ট অংশে আজ সবাই এক নামে তাকে চেনেন। তিনি মিজানুর রহমান। দি সাউদার্ন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক।

মাছরাঙ্গা আর গাংচিল নামে দু’টি লঞ্চ সুন্দরবন ভ্রমণে নিয়মিত চলাচল করে। এছাড়াও রেইনবো নামে আরও একটি লঞ্চ অনিয়মিতভাবে বনে চলাচল করে।

শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) মিজানের সঙ্গে তার মংলা অফিসে কথা হয়। তিনি বলছিলেন, সুন্দরবনে বছরে প্রায় শ’খানেক ট্রিপ দিতে হয় তার। বেশিরভাগই দুই রাত তিন দিনের ট্রিপ। এছাড়া একদিনের ট্রিপেও সুন্দরবনে তার লঞ্চ নিয়মিত যাতায়াত করে। বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপচারিতার একটি মুহূর্ত

মাছরাঙ্গা লঞ্চে একসঙ্গে ২০ জন আর গাঙচিল লঞ্চটি ১১ জন পর্যটক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন। দুই রাত তিন দিনের ট্রিপে তিনি নেন জনপ্রতি সাত হাজার পাঁচশো টাকা। এই প্যাকেজে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেন ট্যুর অপারেটর। আর একদিনের ট্রিপে পুরো লঞ্চের ভাড়া নেন সাত হাজার টাকা। এতে খাওয়ার ব্যবস্থা পর্যটকদের নিজেদেরই করতে হয়।

ফরেস্ট অফিসাররা তাকে একনামে চেনেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, অনেকের চেয়ে বেশি রাজস্ব দেন সরকারকে। তাই তাকে এক নামে সবাই চেনেন।
সারা বছর সুন্দরবনে পর্যটকের আনাগোনা থাকলেও অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস পর্যটকের সংখ্যা বেশি থাকে। এসময় প্রয়োজনে অন্যের লঞ্চও ভাড়া করতে হয় তাকে।

মিজান জানান, বনে লঞ্চের প্রবেশ ফি পাঁচশো টাকা। এছাড়া বনে প্রতিদিন অবস্থানের জন্য তিনশো টাকা ও বনরক্ষী ফি তিনশো টাকা অর্থাৎ প্রতিদিন অবস্থানের জন্য ছয়শো টাকা করে দিতে হয়। সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে যেতে পর্যটকদের প্রতিদিন মাথাপিছু একশো পঞ্চাশ টাকা আর অভয়ারণ্যে থাকা অন্য স্থানে ভ্রমণের জন্য ৭০ টাকা করে ফি দিতে হয়। লঞ্চের সঙ্গে যে ছোট নৌকা নেওয়া হয়, বনে এর অবস্থান ফি দিতে হয় প্রতিদিন দুইশো টাকা করে।

পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে বনে প্রবেশের অনুমতিসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা গাইড অপারেটররাই করে থাকেন। সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি নিতে পর্যটকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে বনবিভাগ।

প্যাকেজে যাওয়া ছাড়াও নিজেরা লঞ্চ ভাড়া করে যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হয়।  

সুন্দরবন ভ্রমণের বিভিন্ন প্যাকেজ সম্পর্কে জানতে ও লঞ্চ ভাড়া করতে মিজানের ০১৭১২৭৭৩৩৬১ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ০৬৪৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৬
এমআই/এসএনএস

সহযোগিতায়

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa