ঢাকা, শনিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৫ মে ২০২৪, ১৬ জিলকদ ১৪৪৫

বছরজুড়ে দেশ ঘুরে

বিস্মৃতির অতলে বরিশালের উপকথা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭৩৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৬
বিস্মৃতির অতলে বরিশালের উপকথা ছবি: শুভ্রনীল সাগর/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চরখালী, বরগুনা, এম ভি মধুমতি (ঢাকা-মংলা) থেকে: সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর চরখালী লঞ্চ ঘাটে ভিড়লো এম ভি মধুমতি রকেট। বুড়িগঙ্গার জল গড়িয়ে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, মেঘনা, কীর্ত্তখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী জীবনানন্দ দাশের ধানসিঁড়ি ছুঁয়ে গাবখান চ্যানেল পেরিয়ে এখানে যেনো বিশালতার উপমা নিয়ে হাজির হয়েছে নদী।

কচা আর বলেশ্বর নদীর মোহনা জন্য প্রশস্ততা একটু বেশি।

আরো ভাটিতে নেমে এই বলেশ্বরী সুন্দরবনের পূর্ব সীমানা গড়ে দিয়েছে।

সাগরের নোনাজল ঢোকে বলে জোয়ার-ভাটা বোঝা যায় না, নদীও শান্ত। কচুরিপানার দঙ্গল অনেকটা বিলের আকার দিয়েছে নদীটাকে। তবে এক সময় এই চিত্র ছিলো একেবারেই উল্টো। কচা আর বলেশ্বর নদীর মোহনা।
সুন্দরবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে এক সময় কামানের আওয়াজ শোনা যেতো, মূলত আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে। ব্রিটিশ লেখকরা যাকে বলেন, ‘বরিশাল গানস’ বা বরিশাল কামান। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলতেন, লংকা দ্বীপে রাবণের বিশাল তোরণদ্বার খোলা বা বন্ধ করার সময় এমন শব্দ হয়। আর মুসলমানরা বলতেন, ইমাম মেহেদীর আগমন বার্তা এই শব্দ। কেননা এই শব্দ এতদূর থেকে আসতো যে- ঠিক কোথা থেকে আসছে ধরা যেতো না।

গবেষকদের কারও কারও মতে, এই শব্দ আসতো বঙ্গোপসাগরের অতলতল থেকে। বাগেরহাটের পূর্ব দিকে, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের দক্ষিণ দিক থেকে এই শব্দ শোনা যেতো।

জনশ্রুতি ছিলো পরপর তিনবার এই শব্দ শোনা যেতো। তখন নদী হয়ে উঠতো চঞ্চল। ভাটার সময় ৩০-৪০ হাত উঁচু হয়ে উঠতো ঢেউ, আর দু’টি ঢেউয়ের সংঘর্ষে এমন শব্দ হতো।

তবে ভিন্ন মতও ছিলো, অনুমান করা হয়- আরাকান উপকূলে একটি আগ্নেয়গিরি ছিলো। চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথের তলদেশ থেকে এই শব্দের উৎপত্তি হতো। ইতিহাস বলে, সে সময় অর্থাৎ সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই জলপথ খুবই জনপ্রিয় ছিলো। কচা আর বলেশ্বর নদীর মোহনা।
ইস্ট ইন্ডিয়া ক্রোনিকল থেকে জানা যায়, ৭১৮ খৃস্টাব্দে মগেরা এই প্রদেশ থেকে ৮০০ অধিবাসীকে বন্দি করে নিয়ে যায়। আরাকান রাজা তাদের মধ্যে একজনকে ভূমিদাস করেন। বাকিদের বিক্রি করে দেন।

একই মত দেন স্যার যদুনাথ সরকার। হিস্টরি অব বেঙ্গলে মুঘল আমলের ইতিহাস লিখতে গিয়ে তিনি বলেন, মুঘল সম্রাট আকবরের আমল থেকে শুরু করে শায়েস্তা খাঁ এর সময় পর‌্যন্ত আরাকানিজ মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুরা জলপথে এসে এ অঞ্চলে লুটপাট চালাতো। এ অবস্থায় এক সময় সুন্দরবন জনমানব-শূন্য হয়ে পড়েছিলো।

পরবর্তীতে শায়েস্তা খাঁ মগ-ফিরিঙ্গিদের বিতাড়িত করলে ফের সুন্দরবন অঞ্চলে জনবসতি গড়ে ওঠে। এখনো মুণ্ডাসহ কিছু আদিবাসী বসতি আছে সুন্দরবনে। তবে এ প্রজন্ম এখন আর মিথাশ্রয়ী এসব গল্প খুব একটা মনে রাখেনি।

**‘জোনাকি’ ভরা বুড়িগঙ্গা

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৬
এটি/জেডএম

সহযোগিতায়

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।