ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪ সফর ১৪৪৩

তারার ফুল

সাধারণ জীবনের মধ্যেই সব চমৎকারিত্ব নিহিত: ফাহমিদা নবী

ওমর ফারুক বিশাল, নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৩৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ৭, ২০২০
সাধারণ জীবনের মধ্যেই সব চমৎকারিত্ব নিহিত: ফাহমিদা নবী ফাহমিদা নবী

গুণী সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প, মনে কি পড়ে না, কাছে আসি ভালোবাসি, অবাক তারার ফুল, হবো দু’জন সাথী, মন খারাপের একেকটা দিন, ছেলেটি, যায় কি ছেড়া বুকের পাজর’সহ চমৎকার কথামালার বেশ কিছু শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি।

লক ডাউনের শুরুতেই লন্ডনে আটকে পড়েছিলেন ফাহমিদা নবী। করোনার ভয়াবহতা কমার সঙ্গে সঙ্গেই দীর্ঘ ৪ মাস লন্ডনের ঘরবন্দি জীবন শেষে দেশে ফিরেছেন গত ১৮ জুলাই। দেশে ফিরেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু করেছেন কাজ। ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন বেশ কিছু গানের কাজ। নতুন গান, করোনা পরিস্থিতি, সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন দিক ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন ফাহমিদা নবী। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

বাংলানিউজ: সম্প্রতি গীতিকবি, সুরকার ও সংগীতশিল্পীরা নিজেদের অধিকার আদায়ে একতাবদ্ধ হয়েছেন। নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন সংগঠন তৈরি করেছেন। আপনি সংগীতশিল্পীদের সংগঠনের অন্যতম একজন সদস্য হিসেবে সংগঠনগুলোর মাধ্যমে দেশীয় সংগীতাঙ্গনের বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন?
ফাহমিদা নবী: শুরুতে তো আর সব কিছু বলা যায় না। তবে সংগঠিত হওয়াটাও তো একটা ইতিবাচক দিক, তাই না! সংগঠনের কারণে সবার মধ্যে যোগাযোগটা বেড়েছে। দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে- এটাও তো কম না। আর শুধু ব্যক্তি বিশেষের মাধ্যমে বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন সম্ভব না। এর জন্য প্রয়োজন সাংগঠনিক প্রচেষ্টা। প্রাথমিক সেই কাজটি ইতোমধ্যে সংগীতের তিনটি মাধ্যমেই হয়েছে। এখন আমাদের সবারই প্রত্যাশা, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে বড় একটা পরিবর্তন আসুক।

বাংলানিউজ: সম্প্রতি বেশ কিছু গানে আপনি কণ্ঠ দিয়েছেন। গানগুলো সম্পর্কে জানতে চাই-
ফাহমিদা নবী: চলমান করোনাকালে স্বাস্থ্য-বিধি মেনে ইতোমধ্যে ৮টি গানের কাজ করলাম। এর মধ্যে নিজের সুরেও গেয়েছি। অন্যের কথা-সুরে গাওয়া গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- শফিক তুহিনের সুর-সংগীতে ‘কেউ থাকে না’, জিয়া খানের সুর-সংগীতে ‘কোনো মানে নেই’, বর্ণ চক্রবর্তীর সুর-সংগীতে ‘ভালোবাসা কারে বলে’, নিজের সুরে ‘সাতকাহন’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’কে নিয়েও একটি করে গান করেছি।

বাংলানিউজ: লক ডাউনের কারণে লম্বা একটা সময় লন্ডনে আটকে ছিলেন। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাই-
ফাহমিদা নবী:  করোনা পরিস্থিতি শুরুর আগেই লন্ডনের আর্চ ব্রিচ এলাকায় বোন অন্তরার বাসায় মেয়ে আনমোলসহ বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার পরই শুরু হয় করোনার ভয়াবহতা। বিশ্বজুড়ে লকডাউন। বাধ্য হয়েই সাড়ে ৪ মাস সেখানে ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হয়। তবে ঘরবন্দি জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। এককথায় বলতে গেলে, করোনা পরিস্থিতি আমাকে খুব সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। বুঝতে শিখিয়েছে সাধারণ জীবনের মধ্যেই সব চমৎকারিত্ব নিহিত।

শুরুর দিকে করোনা সবাইকে অতিমাত্রায় আতঙ্কিত করেছিল। সেসময় ঘর থেকে বের হতে সাহস পেতাম না। একদিন দেখা গেলো, বাসায় লবণ নেই। প্রয়োজনীয় জিনিস, না হলে খাওয়া-দাওয়াও ঠিক মতো হবে না। কিন্তু বাইরেও বের হতে ইচ্ছে হলো না। সেদিন লবণ ছাড়াই আমার খেয়েছি। কিন্তু কোনও আক্ষেপ-আফসোস ছিল না। পরিস্থিতি আমাদের প্রয়োজনীয়তা-চাহিদা কমাতেও সহায়তা করেছে।  

বাংলানিউজ: শ্রোতাদের গানে ফেরানোর ক্ষেত্রে টেলিভিশনমাধ্যম বড় একটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়টা যদি একটু খোলাসা করতেন!
ফাহমিদা নবী: শুক্রবার (৩ অক্টোবর) মাছরাঙা টেলিভিশনে সরাসরি গানের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। সেটি রাত সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে রাত ১টায় শেষ হয়। সেখানে আমি ১৬টি গান পরিবেশন করেছি। মজার বিষয় হলো, পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে আমি অবাক করার মতো শ্রোতা পেয়েছি। মানে, অনেক শ্রোতারা আমার সেই অনুষ্ঠানটি দেখেছে। টেলিফোনে মতামত দিয়েছি, যা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে। অবশ্য করোনা অধিকাংশ মানুষের মধ্যে শুদ্ধতা এনেছে। বোধোদয়-অনুধাবণ শক্তি বৃদ্ধি করেছে। অনেকেই এখন ভালো কিছু চিন্তা করছে। ভালো কিছু গ্রহণ করতে চাইছে। সেই চিন্তা থেকে আমার কাছে মনে হচ্ছে, শ্রোতারা ভালো গান শুনতে চাই। তাদের ভালো গান শোনার সুযোগ করে দিতে হবে। ভালো গান এবং ভালো গাই- এমন শিল্পীদের গান করার সুযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে টিভি চ্যানেলগুলো বড় একটা ভূমিকা রাখতে পারে।

আর আমার মনে হয়েছে, করোনাকাল জুড়ে মানুষের মধ্যে পারিবারিক সম্প্রীতিটা বেড়েছে। সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া করছে, টেলিভিশন দেখছে, আড্ডা দিচ্ছে, বিভিন্ন বিষয় একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করছে। এ বিষয়গুলো অবশ্যই করোনা পরিস্থিতির কল্যাণে হয়েছে।

বাংলানিউজ: গাওয়ার পাশাপাশি এখন আপনি নিয়মিত সুর করছেন, লিখছেনও। তো, সুরকার-গীতিকবিদের সংগঠনেও যুক্ত হচ্ছেন কী? আপনার সুর ও লেখা গানের সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাই-
ফাহমিদা নবী: সংগীতশিল্পীদের সংগঠনে তো আছিই। সময় হলেই বাকি সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত হবো। আমরা গানের মানুষরা সবাই মিলেই তো একটা পরিবার। সংগীতাঙ্গনের ভালো কিছু সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাতেই হোক, সেটাই চাই। আর হ্যাঁ, গাওয়ার পাশাপাশি আমি এখন নিয়মিত সুর করছি। এটা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবো। এখন পর্যন্ত আমার সুর করা গানের সংখ্যা ৪০টির অধিক। অবশ্য গান লেখার সংখ্যা সুরের তুলনায় অনেক কম। মানে, সবমিলিয়ে ১৫টির মতো হবে। লেখাটা অবশ্য সখের বসেই।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৭, ২০২০
ওএফবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa