ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

তারার ফুল

রিয়াজের সঙ্গে কিছুক্ষণ

‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্যই রেস্তোরাঁ ব্যবসায় এসেছি’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৩৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১০, ২০১৬
‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্যই রেস্তোরাঁ ব্যবসায় এসেছি’ রিয়াজ/ছবি: সোলায়মান হারুনী মৃদুল- বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছিলেন বৈমানিক। অভিনয় করবেন বলে এসেছেন সব ছেড়েছুঁড়ে।

দেখতে দেখতে কেটে গেছে তারকা রিয়াজের কুড়ি বছর। চলচ্চিত্রের অবস্থা পাল্টেছে। এই শিল্পে এখন কাজের খরা! সিনেমা হলে তিনি নেই বহুদিন। নাটকে আছেন, তা-ও অল্পহারে।
 
মাস দু’য়েক আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নতুন বাস্তবতাবোধ জেগেছে রিয়াজের মধ্যে। ‘যদি মরে যেতাম, আমার স্ত্রী-সন্তানের কী হতো!’ তাদের ভবিষ্যতের জন্য তো তেমন কিছুই রাখা হয়নি। রিয়াজ তাই নেমে পড়েছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়। একমাত্র উদ্দেশ্য- পরিবারকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া।

রিয়াজের রেস্তোরাঁর নাম ‘ফুড টোয়েন্টিফোর সেভেন’। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শনিবার (৯ জানুয়ারি) থেকে চালু হয়েছে এটি। কেন তিনি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়- বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে খোলাসা করেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তাই আসল কারণ
আমরা যারা শিল্পী, তাদের মূল সমস্যা হচ্ছে, বর্তমানে শুধু সিনেমা বা নাটক করে টিকে থাকা কঠিন। সবাই চায় পাশাপাশি কিছু একটা রাখতে। ফুড টোয়েন্টিফোর সেভেন হচ্ছে আমার সেই পাশাপাশি একটা ব্যবসা। যেটা আমার পরিবারকে নিরাপত্তা দেবে। আমি না থাকলে আমার পরিবার যেন অর্থনৈতিক অনিরাপত্তায় না ভোগে, সে কারণেই ব্যবসাটা শুরু করা।

ব্যবসার চিন্তার নেপথ্যে
গত কোরবানির ঈদের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছিলো। আমার আরও চারজন বন্ধু, যাদের নিয়েই ফুডটোয়েন্টিফোর সেভেন শুরু করা হয়েছে, তারা ভাবছিলেন। গত ১৯ অক্টোবর আমার হার্ট অ্যাটাক হয়। সুস্থ হওয়ার পর একটা কথাই মনে হচ্ছিলো বারবার, আমি না থাকলে আমার পরিবারের কী হতো! অভিনয় থেকে উপার্জিত অর্থ শেষ হয়ে গেলে, কী করতো তারা! এমন কোনো অবলম্বন তো আমি রেখে যাইনি, যার ওপর ভরসা করেই ভালোভাবে জীবনধারণ করতে পারবে তারা। সুস্থ হওয়ার পর থেকেই বিকল্প আয়ের পথ নিয়ে ভেবেছি খুব। তারপরই বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন এ উদ্যোগটি নিয়ে নেমে পড়া।

মালিক কিন্তু স্ত্রী
এ রেস্তোরাঁর মালিক কিন্তু আমার স্ত্রী (মাশফিকা খান তিনা)। শুধু আমার নয়, সঙ্গে যে আরও চারজন আছেন, আমাদের সবার স্ত্রীরাই এ রেস্তোরাঁর মালিক। আমরা বিনাবেতনের কর্মচারি!

অভিনয় ছাড়ছি না
অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন, অভিনয় ছেড়েছুঁড়েই এ ব্যবসায় নেমেছি। কিন্তু না। অভিনয়ও করবো, এখন যেমন করছি। এমনিতেই তো চলচ্চিত্রে আমি এখন নিয়মিত নই। নাটকেও অভিনয় করছি খুব কম। এভাবেই করবো। ভালো গল্প পেলে সিনেমা হাতে নেবো। তবে চিন্তায় প্রধান এখন এই রেস্তোরাঁ।

২৪ ঘণ্টা খোলা
সেলিব্রেটি শেফ টনি খান রয়েছেন আমাদের সঙ্গে। আমাদের সমস্ত খাবার তারই সাজানো। সারাবছর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে ফুডটোয়েন্টিফোর সেভেন। রেস্তোরাঁ তো খোলা থাকছেই, যে কোনো সময় ফোনে কিংবা অনলাইনে অর্ডার করলেই আমাদের সেবা পৌঁছে যাবে। আরেকটা সবচেয়ে জরুরি বিষয় সেটা হচ্ছে, আমাদের ওয়েবসাইটে সবসময় খাবার প্রস্তুত কার্যক্রম সরাসরি দেখা যাবে। কীভাবে খাবারটি তৈরি হচ্ছে, কতোখানি জীবানুমুক্ত পরিবেশে- সেটা সবার জন্য ওপেন রাখছি আমরা। এই রেস্তোরাঁটি নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন আছে। দেশের বাইরেও শাখা খোলার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে থাকবে আমাদের আউটলেট।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১০, ২০১৬
কেবিএন/জেএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa