ঢাকা, সোমবার, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

তারার ফুল

হায় হামশাকালস হায়!

আফসানা রীপা | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৫ ঘণ্টা, জুলাই ২, ২০১৪
হায় হামশাকালস হায়!

‘হে বেবি’ (২০০৭) দিয়ে শুরু, এরপর ‘হাউসফুল’ (২০১০), ‘হাউসফুল ২’ (২০১২), ‘হিম্মতওয়ালা’ (২০১৩) ও সর্বশেষ এ বছর ‘হামশাকালস’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন সাজিদ খান। সব ছবির নামের অদ্যাক্ষর ইংরেজি বর্ণমালার ‘এইচ’ (বাংলার ‘হ’)।

প্রথম তিনটি ছবি সুপারহিট হওয়ায় তার মধ্যে কুসংস্কার ঢুকে যায়, ছবির নামের অদ্যাক্ষর ‘এইচ’ হলেই নিশ্চিত সাফল্য।

কিন্তু গত বছর ভাগ্যদেবী ফিরে তাকাননি। এ কারণে ‘হিম্মতওয়ালা’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে সাজিদের কুসংস্কার ভুল প্রমাণিত হয়। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। তাই পরের ছবির নামকরণের ক্ষেত্রে আবার ‘এইচ’ বেছে নেন নৃত্য পরিচালক ফারাহ খানের এই ভাই। এবার অবশ্য মিশ্র ফল এসেছে তার নতুন ছবি ‘হামশাকালস’-এর ঘরে।
QUIZ_July_02
২০ জুন মুক্তির পর থেকে ‘হামশাকালস’ মোট আয় করেছে ৬১ কোটি ৫ লাখ রুপি। বক্স অফিসের ফল যা-ই বলুক, ছবিটির জন্য তীব্র ধিক্কার হজম করতে হচ্ছে সাজিদকে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তো জোর ঠাট্টা চলছে। বলিউডে প্রতি বছরের সবচেয়ে বড় হতাশা উপহার দেওয়ার দায়িত্ব নাকি এখন থেকে সাজিদের কাঁধে! ২০১৩ সালের সবচেয়ে বড় ফ্লপ (হিম্মতওয়ালা) উপহার দেওয়ার পর ‘হাউজফুল থ্রি’র পরিচালকের দায়িত্ব থেকে বাদ পড়েছেন সাজিদ। এবার ‘হামশাকালস’ নিয়ে আবার ডুবলেন তিনি। সাইফ আলি খান-রিতেশ দেশমুখ-বিপাশা বসুকে নিয়ে বানানো হাসির ছবিটি সমালোচক ও দর্শকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

দর্শক-সমালোচকরা তো মুক্তির পর মুখ খুলেছেন, কিন্তু যারা ছবিটিতে অভিনয় করেছেন তারাই ‘হামশাকালস’-এর বিরোধীতা করেছেন। বিপাশা বসু ছবির কাজে খুশি নন জানিয়ে প্রচারণায় অংশ নেননি। এশা গুপ্তা তার বাবাকে বলে দিয়েছেন ছবিটি না দেখার জন্য। দেখলে নাকি তিনি হতাশ হবেন।

জিতেন্দ্র-শ্রীদেবী অভিনীত ‘হিম্মতওয়ালা’র রিমেক করে বুক ফুলিয়ে সাজিদ বলেছিলেন, এটাই হবে তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ছবি। কিন্তু হয়েছে উল্টোটা। সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে বাজে তকমাও লেগে গেলো। তার জীবনের সবচেয়ে বাজে ছবি বলে গণ্য হলো ‘হিম্মতওয়ালা’। আর ছবির নায়ক হিসেবে অজয় দেবগন কুড়িয়েছেন সবচেয়ে বাজে অভিনেতার খেতাব। বেচারি দক্ষিণী ছবির নায়িকা তামান্না প্রথম ছবিতেই ফ্রিতে ফ্লপ ছবির ফ্লপ নায়িকার খেতাব পেয়ে গেলেন।

সাজিদ বলেছিলেন, ‘হিম্মতওয়ালা’র ফ্লপ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। একই ভুল পরের ছবিতে শুধরে নেবেন। কিন্তু ‘হামশাকালস’ বানাতে গিয়েও একই ভুল করলেন তিনি। দর্শকদের হাসাতে গিয়ে নিজেই হাসির পাত্র হলেন। ছবির ব্যবসার খাতিরে অতিরিক্ত ডোজ আনতে গিয়ে শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়েছেন। সাইফ-রিতেশদের মেয়ে সাজানো নিয়ে কটাক্ষ চলছে। অনেকে বলছেন, হামশাকালস নয়, সাজিদ বানিয়েছেন ‘হোমোশাকালস’! এবারও অবশ্য তিনি বলেছেন, এটাই তার বানানো জীবনের সেরা ছবি! সব মিলিয়ে তিনি এখন ওয়েব দুনিয়ায় হাসির পাত্র।

সাজিদের পর সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছেন সাইফ আলি খান। সাম্প্রতিক কালে এটাই তার সবচেয়ে খারাপ অভিনয় বলে সমালোচকদের মন্তব্য। এটি সাইফের চতুর্থ কমেডি ছবি।

এ ছবির কাহিনী নাকি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গল্পে দেখা যায়, অশোক (সাইফ আলী খান) আর কুমার (রীতেশ দেশমুখ) দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু| শানায়া (তামান্না ভাটিয়া) আর মিষ্টি (বিপাশা বসু) তাদের প্রেমিকা। অশোকের মামা (রাম কাপুর) তার কোমাগ্রস্ত বাবার চিকিৎসক ডা. খানের (নওয়াব শাহ) যোগসাজশে তাদের সম্পত্তি করায়ত্ত করার পরিকল্পনা করছে। মামা অশোক আর কুমারকে ওষুধ খাইয়ে পাগল বানিয়ে মানসিক রোগের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে ডা. শিবানী (এশা গুপ্ত) ষড়যন্ত্রের ব্যাপারটি বুঝতে পেরে তাদের ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু একই হাসপাতালের ‘বি’ ওয়ার্ডে তাদের দুজনের মতো দেখতে দুজন রোগীকে তাদের বদলে মুক্ত করে দেওয়া হয়, এই দুজন মাদক ব্যবসায়ী বিজলানীর (চাঙ্কি পান্ডে) হয়ে কাজ করে। শানায়া আর মিষ্টি তাদের মামাজির কাছে নিয়ে এলে এই অদলবদলের বিষয়টি সে ধরে ফেলে। অশোক আর কুমার হাসপাতালে ঠিক মামার মতো দেখতে একজনকে আবিষ্কার করে। তার সাহায্য নিয়ে তারা মামার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। এরপর তারা এক ড্যান্স বারে মামাজির মতো দেখতে আরেকজনকে আবিষ্কার করে। এদিকে আসল মামাজি প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্যে আরও এক জোড়া অশোক-কুমারকে হাজির করে। এর মধ্যে তিন মানসিক রোগী অশোক-কুমার-মামাজি আসল অশোক-কুমারকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে। একই রকম দেখতে তিনজন মানুষের তিন সেট প্রতিরূপকে দেখে সবাই ভীষণ বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। ঠিক তখনই অশোকের বাবা চৈতন্য ফিরে পায়।

‘হিম্মতওয়ালা’ ফ্লপ হওয়ার পরও ‘হামশাকালস’-এ সাজিদ কেন আবার তামান্নাকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হলেন সে প্রশ্ন জোরেশোরে উঠেছে। গুঞ্জন আছে, সাজিদ বলিউডে তামান্নার জন্য শক্ত জায়গা তৈরি করে দিতে চাইছেন। এ-ও শোনা গেছে, শুটিং স্পটে তামান্নার প্রতি সাজিদের আলাদাভাবে যত্নশীলতা সবার চোখে পড়েছে। আবার ২৪ বছর বয়সী তামান্না ছবিটিতে বিকিনি পরতেও আপত্তি জানালে সাজিদ তা মাথা পেতে নেন। এখন দর্শক-সমালোচকদের তিরস্কারও মানতে হচ্ছে তাকে। হায় সাজিদ, হায় হামশাকালস!

বাংলাদেশ সময় : ২০১০ ঘণ্টা, জুলাই ০২, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa