bangla news

শাহাদাতের পর বড় শাস্তির অপেক্ষায় শহীদ

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১১-১৯ ২:৫৩:১৩ পিএম
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

শাহাদাত হোসেন রাজিবকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বড় শাস্তি পেতে যাচ্ছেন ঢাকা বিভাগের আরেক পেসার মোহাম্মদ শহীদ। জাতীয় দলে খেলা এই দুই পেসারের আছে শৃঙ্গলাভঙ্গের অতীত ইতিহাস।

জাতীয় দলের দরজাটা তাদের জন্য দূরের বাতিঘর হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে শাহাদাত-শাহীদ খেলছিলেন নিয়মিত। এতদিন মাঠের বাইরে অপকর্মে জড়িত থাকলেও এবার সতীর্থকে মাঠে পিটিয়ে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন শাহাদাত। আর শহীদ এই ঘটনার সূত্রপাত করেন।

একের পর এক বিতর্কিত কাণ্ডে জড়াচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই দুই পেসার। শাহাদাত আর শহীদের আগ্রাসী মানসিকতা নতুন কিছু নয়। কদিন আগে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন শাহাদাত। তার আগে গৃহকর্মীর গায়ে হাত তুলে হাজতবাস করেছিলেন তিনি। আর দুই বছর আগে শহীদের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ নিয়ে বিসিবির কাছেও এসেছিলেন তার স্ত্রী।

শহীদের ব্যাপারেও টেকনিক্যাল কমিটির কাছে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ। জাতীয় লিগের প্রথম পাঁচ রাউন্ডে ঢাকা বিভাগের মূল একাদশে জায়গা পাননি শহীদ। শেষ রাউন্ডে তাকে খেলতে নামানো হয়। আর সেখানেই জন্ম দিলেন ন্যাক্কারজনক এক ঘটনার।

শাহাদাতকে দেওয়া পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দুই বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। পাশাপাশি তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এই পেসারকে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শাহাদাতের শাস্তির ব্যাপারটি নিশ্চিত করে। শাহাদাত অবশ্য আগামী ২৬ নভেম্বরের মধ্যে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

চলমান জাতীয় লিগের ম্যাচ চলাকালীন সতীর্থকে মারধর করে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিভাগের পেসার শাহাদাত। খুলনায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে ঢাকা বিভাগের মধ্যকার জাতীয় লিগের ম্যাচে সতীর্থ আরাফাত সানিকে (জুনিয়র) মাঠে পেটান তিনি। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে এই কাণ্ডে শাহাতাদকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পরের দিনগুলোতে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে ঢাকা বিভাগকে।

জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত পেসার শহীদকে দিয়ে। এ কারণে ম্যাচ ফি’র ৫০ শতাংশ জরিমানাও করা হয়েছে তাকে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শহীদ প্রথম সানিকে ধাক্কা দিলে পরে শাহাদাত এই জুনিয়র ক্রিকেটারকে মারতে থাকেন। শহীদ পেতে পারেন আরও বড় শাস্তি। ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ তার প্রতিবেদনে শাহাদাতের অপরাধকে ‘লেভেল-৪’ বলে উল্লেখ করেন। আর শহীদের ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় আচরণবিধির লেভেল ২ ভঙ্গের জন্য ইতোমধ্যে তার ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

শাহাদাত বলের একটি অংশে শাইন দিতে সানিকে নির্দেশ দেন। সানি তাতে অনীহা প্রকাশ করলে মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাহাদাত। এ সময় তিনি সানিকে চড়-থাপ্পড়-লাথি মারেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সতীর্থ এবং আম্পায়াররা এগিয়ে আসেন। তার আগ মুহূর্তেই বল ঘষে উজ্জ্বল করা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরাফাতের উপর ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন শহীদ। সানির ভাষ্যমতে, পেসার শহীদ যখন বোলিং প্রান্তে পৌঁছে গেছেন ততক্ষণে তিনি বল তার কাছে পাঠিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু শাহাদাত তারপরও সবার সামনে তাকে মারতে শুরু করেন। আম্পায়ার এসে সরিয়ে দেওয়ার পরও শাহাদাত আবার গিয়ে মারতে থাকেন সানিকে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৫২ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৯, ২০১৯
এমআরপি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-11-19 14:53:13