ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ চৈত্র ১৪৩০, ২৯ মার্চ ২০২৪, ১৮ রমজান ১৪৪৫

ক্রিকেট

নাঈমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মাহমুদউল্লাহ

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬৩৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ১১, ২০১৯
নাঈমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মাহমুদউল্লাহ দারুণ খেলেছেন মোহম্মদ নাঈম

মোহম্মদ নাঈম শেখ আর মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে ইতিহাস গড়ার পথেই ছিল বাংলাদেশ। নাঈম তো একাই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিয়েছিলেন। এই তরুণের চোখ ধাঁধানো সব স্ট্রোকের ফুলঝুরি অবশ্য বাকিদের ব্যর্থতায় কাজে লাগেনি। বাংলাদেশও পারেনি ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিততে। তবে ম্যাচের একটা সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের হাতেই সুযোগ ছিল ম্যাচ জেতার। এমনটাই বললেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহ বললেন, ‘আমাদের জয়ের ভালো সুযোগ ছিল। নাঈম এবং মিঠুন যেভাবে ব্যাট করেছে তাতে জয়ের পথেই ছিলাম।

কিন্তু মাঝের ওভারে দ্রুত তিন উইকেট হারানোয় ম্যাচ থেকে ছিটকে যাই। এমনকি ৩০ বলে ৫০ রান যখন দরকার ছিল, তখনও সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেছে। তরুণরা যেভাবে খেলেছে চেষ্টা করেছে তাতে আমি খুশি। কিন্তু যে সুযোগগুলো পেয়েছি সেগুলো ভালোভাবে শেষ করতে পারিনি। ’

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে নাগপুরে রোববার (১০ নভেম্বর) শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করেছিল ভারত। জবাবে মোহম্মদ নাঈমের ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিতে ভর করেও সব উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। ৩০ রানে হেরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে সফরকারীরা। ভারতের হয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক আর রেকর্ড বোলিং ফিগারের (৭ রানে ৬ উইকেট) রেকর্ড গড়েন দীপক চাহার।

১৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। দলীয় ১২ রানের মধ্যে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। দীপক চাহারের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ওয়াশিংটন সুন্দরের হাতে ধরা পড়েন লিটন (৯)।

এর পরের বলে সৌম্যকে গোল্ডেন ডাক উপহার দিয়ে হ্যাটট্রিকের আশা জাগিয়ে তুলেন চাহার। তবে মোহাম্মদ মিঠুন সেই সুযোগ দেননি। এরপর মিঠুন ও নাঈমের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দুজনে যোগ করেন ৯৮ রান। এর মাঝে টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম ফিফটি তুলে নেওয়ার পথে ৩৪ বল খেলেন বাঁহাতি ওপেনার নাঈম।  

নাঈমকে একা রেখে দীপক চাহারের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে মিঠুন (২৭) বিদায় নেওয়ার ঠিক পরের বলেই ক্রিজে নতুন আসা মুশফিকুর রহিম শিভব দুবের বলে শুন্য রানে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। বড় ভরসা হয়ে থাকা নাঈমও দুবের শিকার হলে পরাজয় উঁকি দিতে থাকে বাংলাদেশকে। দুবের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৮ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ৮১ রানের ইনিংস।

বাংলাদেশের সর্বনাশের চূড়ান্ত হয় পরপর দুই ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও আফিফ হোসেনের বিদায়ে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াদ চাহালের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে করেন ১০ বলে ৮ রান। আর আফিফ বিদায় নেন দুবের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই। বাউন্সে বিভ্রান্ত হয়ে বোলারের হাতেই ক্যাচ তুলে দেন এই বাঁহাতি।  

অবাক করা বিষয় হলো, বাংলাদেশ একসময় ২ উইকেট হারিয়ে ১০৬ রান করে ফেলেছিল। কিন্তু এরপরই সর্বনাশের শুরু। শেষ ৭.২ ওভারে ৩৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলার কী জবাব থাকতে পারে? তবে নাঈম শেখ ঠিকই দেখিয়ে দিয়েছেন, এই রান তাড়া করার মতোই ছিল।

তরুণ তারকা নাঈম ও বোলারদের প্রশংসা করে রিয়াদ বলেন, ‘নাঈম শেখ ভালো খেলেছে। সে খুবই প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান। সে যেভাবে ব্যাট করেছে আশা করি এটা সে ধরে রাখবে। আমি মনে করি পেসাররা পুরো সিরিজের ভালো বল করেছে। তাদের স্কিলটা পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করেছে। সবাই ভালো বল করেছে। ’

বাংলাদেশ সময়: ০১৩৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ১১, ২০১৯
এমএইচএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।